সিলেটে দফায় দফায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ২

সিলেট ব্যুরো

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার পর সিলেট নগরীতে বৃহস্পতিবার দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ ছাড়াও সংঘর্ষ হয় পুলিশের সাথে সরকার বিরোধীদের। এ সময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষে দু'জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন উভয় পক্ষে কমপক্ষে ২০ জন। আহতদের মধ্যে আলাউদ্দিন ও শামীম নামে দুই পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার জন্য পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে । সংঘর্ষকালে ককটেল ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। পুলিশ ৩ যুবককে আটক করেছে। তারা ছাত্রদল কর্মী বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রায় ঘোষণার পর গতকাল দুপুরে সেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা আদালত এলাকা থেকে মিছিল বের করে। পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়ার চেষ্টা করে। এসময় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে অবস্থানরত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাও মিছিলে ধাওয়া দিলে সংঘর্ষে জড়ায় উভয়পক্ষ। সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান অভিযোগ করেন, রায়ের পরপরই বিএনপি ও জামায়াত-শিবির কর্মীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হওয়ার এবং নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে। অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ মিছিল বের করার সময় পুলিশ গুলি শুরু করে। এরপর সশস্ত্র আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ কর্মীরা মিছিলে হামলা করে।
একই সময়ে নগরীর লালদিঘীর পারে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তখন সেখানকার ব্যবসায়ীরা আতংকে দোকান-পাট বন্ধ করে দেন। সে সময় বেশ কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভাংচুর করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দুপুরে নগরীর রং মহল টাওয়ার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে স্বেচ্ছাসেবক দল। এ সময় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এডভোকেট শামসুজ্জামান জামানসহ দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
জিন্দাবাজারে ছাত্রদলের বিক্ষোভ : ৩ জন আটক
নগরীর ব্যস্ততম জিন্দাবাজার পয়েন্টে বিকেলে শক্ত অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা সেখানে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে পুলিশ এসে ৭ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়। পরে সেখান থেকে তিনজন যুবককে আটক করে। পুলিশের দাবী এরা ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
মেয়র আরিফ অবরুদ্ধ
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাকে তার কুমারপাড়ার বাসা থেকে বের হতে দেয়নি আইন-শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তার বাসার উভয় পাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলো। এমনকি পুলিশ তার বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে বলে জানান আরিফ।
কে এই অস্ত্রধারী?
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার রায়ের পরপরই সিলেটে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েক দফা সংঘর্ষের সময় দু'জন গুলিবিদ্ধ হন। এসময় প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে একটি পক্ষকে গুলি করতে দেখা গেছে। তবে, তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ এখনো সেই অস্ত্রধারীকে আটক করতে পারেনি। একটি সূত্র জানিয়েছে, অস্ত্রধারী ওই যুবক ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এসময় তার হাতে একটি একনলা বন্দুক দেখা গেছে। ঘটনার সময় তিনি জেলা পরিষদের সামনে থেকে আদালত পাড়ার দিকে গুলি ছুঁড়ছিলেন। তখন আদালত পাড়ার অভ্যন্তরে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবারের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ দু’জনের একজন হচ্ছেন জেলা ছাত্রদল নেতা সৈয়দ মোস্তফা কামরুল। অন্যজনের নাম জানা যায়নি। কামরুলের মাথায় গুলি লেগেছে। তিনি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.