ঢাকা, বুধবার,২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রংপুর

থমথমে রংপুর : আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

সরকার মাজহারুল মান্নান রংপুর অফিস

০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৮:৫১


প্রিন্ট
থমথমে রংপুর : আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

থমথমে রংপুর : আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে রংপুর মহানগরীসহ পুরো জেলায়। রায়ের পর নগরীর জাহাজ কোম্পানী মোড়ে আওয়ামী লীগের সাথে ছাত্রদলের এবং সিটি বাজারের সামনে যুবদলের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এতে ১০ জন আহত হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা মাঠে দাঁড়াতে না পারলেও আওয়ামী লীগ লাঠি নিয়ে মাঠে মিছিল করেছে।

রায় ঘোষণার পর বেলা আড়াইটায় জাহাজ কোম্পানী মোড়ে ছাত্রদল নেতা লিখনের নেতৃত্বে একটি মিছিল নগরীর লায়ন্সস্কুলের কাছ থেকে বের হয়ে জাহাজ কোম্পানী মোড়ে যেতে থাকলে সেখানে রায়কে স্বাগত জানিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুষারকন্তি মন্ডলের নেতৃত্বে বের হওয়া মিছিলের মুখে পড়ে। এসময় সেখানে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা, রড, লোহা, বেকিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দৃশ্যমান করে জাহাজ কোম্পানী মোড়ে অবস্থান নেয়।

এসময় জাহাজ কোম্পানী শপিং কমপ্লেক্সের উপর তলায় রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক ভরসার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রঙ্গনে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে বিকেল সাড়ে ৪ টায় নগরীর সিটি বাজারের সামনে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে তাতে লাঠি চার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। দুটি ঘটনাতে ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নগরী কিংবা জেলার কোথাও কোর অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এর আগে ভোর থেকেই নগরীতে বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব এবং বিজিবির সশস্ত্র মহড়া শুরু করে। এতে নগরীতে আতংক তৈরি হয়। জরুরী কোন কাজ ছাড়া লোকজন বের হয় নি নগরীতে। এরই মধ্যে গ্রান্ড হোটেল মোড়ে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত নেতাকর্মীরা আসতে পারলেও ১১ টার সময় পুলিশ অফিসে ঢুকতে বাধা দেয়। একপর্যায়ে সেখানে আরমাড পারসোনাল ক্যারিয়াড-এপিসি গাড়ি, প্রিজন ভ্যান আনে পুলিশ। এরআগে বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয় সেখানে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলে দেয়া হয় কোনো ধরণের একটিভিটিস না করার জন্য। পুলিশের রণ প্রস্তুতি দেখে অফিসে থাকা নেতাকর্মীরা নিজেদের মতো করে গা ঢাকা দেয়। গা ঢাকা দিতে গিয়েও অফিসের সামন থেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় রংপুর শ্রমিক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবু। এছাড়াও সকালে নগরীর হুনমানতলা থেকে মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক ইমরান সুমমকে গ্রেফতার করে।

বেলা ২টায় রায় ঘোষণার পর পার্টি অফিসে অবস্থান করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সেক্রেটারী শহিদুল ইসলাম মিজু, সহ সভাপতি সুলতানুল আলম বুলবুল, জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারী রইচ আহমেদ, মহানগর যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, সেক্রেটারী শামসুল হক ঝন্টু, মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহফুজ উন নবী ডন, সেক্রেটারী লিটন পারভেজসহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এসময় মহানগর বিএনপির সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, রাজনৈতিকভাবে এই মামলা ও রায় দেয়া হয়েছে। এই মামলা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশ আসবে সে অনুযায়ী আমরা শান্তিপূর্ন কর্মসূচি পালন করব।
এদিকে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ জানান, জন নিরাপত্তার জন্যই আইনশৃংখলাবাহিনীর তৎপরতা চলছে। কাউকে হয়রানি করার জন্য নয়। নাশকতা কিংবা নাশকতার পাঁয়তারার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হচ্ছে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫