বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশের উপস্থিতি
বিএনপি অফিসের সামনে পুলিশের উপস্থিতি

রংপুরে অফিসে বিএনপি, বাইরে জলকামান ও প্রিজন ভ্যান নিয়ে প্রস্তুত পুলিশ

সরকার মাজহারুল মান্নান, রংপুর অফিস

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে ঘিরে রংপুর মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছে আইনশৃংখলা বাহিনী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপির কিছু নেতা গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে অফিসের বাইরে পুরো গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আনা হয়েছে জলকামান। সব মিলে পুরো এলাকায় বিরাজ কছে আতংক।

ভোর থেকেই পুরো গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকা পুলিশে পুলিশে ভরে যায়। সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি অফিসের প্রবেশ করেন মহানগর বিএনপির সেক্রেটারী শহিদুল ইসলাম মিজু। এর আগে অফিসে আসেন মহানগর বিএনপির সহ সভাপতি রেজেকা সুলতানা ফেন্সি। মহানগর সেক্রেটারী আসার পর মহানগর সভাপতি মোজাফফর হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারী রইচ আহমেদ, মহানগর যুবদল সভাপতি মাহফজু উন নবী ডন, সেক্রেটারী লিটন পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক জহির আলম নয়নসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী আসেন অফিসে।

পরে মহানগর সেক্রেটারী মিজু গেটের সামনে এসে কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিয়ার সাথে দেখা করে আগত নেতাকর্মীদের নির্বিঘ্নে অফিসে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়ার দাবি করেন। এসময় ওসি তাকে উদ্দেশ করে বলেন, রায় বিচার বিভাগের ব্যাপার। সে কারণে বেশি লোক অফিসে উপস্থিতির দরকার নেই। আপনারা তো কোনো কর্মসূচি দেননি। এসময় মিজু আবারও নেতাকর্মীদের অফিসে প্রবেশের সুযোগ দেয়ার দাবি জানিয়ে চলে যান।

কিন্তু পুলিশ গেটে আটকে দিতে থাকে নেতাকর্মীদের। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান সাইফ, কোতয়ালী থানার ওসি বাবুল মিয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গ্রান্ড হোটেল মোড়ে অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্ক্ষেক্ষণ করছেন।

এদিকে অফিসের সামনে বেলা ১১টায় নিয়ে আসা হয়েছে জলকামান ও প্রিজন ভ্যান। যে কোন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে পুলিশ।

মহানগর বিএনপির সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম মিজু জানান, আমাদের কর্মীদের অফিসেও ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এটা অগণতান্ত্রিক।

তিনি বলেন, আপাতত আমরা অফিসে অবস্থান করবো। রায়ের পর কেন্দ্রের নিরদেশ অনুযায়ী আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবো।

এদিকে রায়কে ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে পুরো রংপুর। তল্লাশী চৌকি বসিয়ে সন্দেহভাজনদের তল্লাশী করা হচ্ছে। পুরো নগরীসহ জেলায় বিপুল পরিমাণ পোশাকী ও সাদা পোশাকী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে হোটেল, আবাসিক ভবন ও মেসে মেসে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি ও র‌্যাব টহল দিচ্ছে।

পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ অফিসার সাইফুর রহমান সাইফ জানান, আমরা কাউকে ছাড় দোবো না। কেউ অরাজকতা করতে চাইলে কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে। জনগণের নিরাপত্তার জন্যই আমরা অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.