নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে : আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক

একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা পুলিশ কঠোরভাবে পেশাদারিত্বের সাথে মোকাবেলা করবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।

তিনি বলেন, রায়কে ঘিরে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তারপরও যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার অবনতি করার অপচেষ্টা চালায় আমরা তা আইনগতভাবে মোকাবেলা করবো।
আজ বুধবার বিকেলে পুলিশ সদর দফতরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি এ কথা বলেন।

এর আগে আজ দুপুরে ডিএমপির সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, কেউ সহিংসতা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একবিন্দু ছাড় দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, এবার কোনো গণগ্রেফতারের ঘটনা ঘটেনি। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। সারা বছরে প্রতিদিন যে পরিমান গ্রেফতার হয়। তার থেকে গত এক সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন মাত্র ৫৯ জন বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এটা পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক।

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারি দলের তরফ থেকে এবং শ্রমিক সংগঠনের তরফ থেকে রাস্তায় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। সে ক্ষেত্রে আইন তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন সবার জন্য প্রযোজ্য। আইন সবার জন্য সমান।

এ রায়কে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা আছে কি না, প্রশ্ন করা হলে আইজিপি বলেন, নাশকতার আশঙ্কা নেই। তবে নাশকতা যদি ঘটে, তা মোকাবেলা করার জন্য আমরা প্রস্তুত।

দেশের মানুষকে উৎকণ্ঠা ও উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে পুলিশ প্রধান বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা গ্রহণ করেছে। ঢাকাসহ সব বিভাগ ও জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে বিশৃংখলা করার চেষ্টা হতে পারে। আমরা সম্মানিত নাগরিকবৃন্দকে কোনো গুজবে কান না দিয়ে, ভীত না হয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার অনুরোধ করছি। কোথাও সন্দেহজনক কোনো কিছু চোখে পড়লে কাছের থানা বা পুলিশ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন আইজিপি।
এ সময় দেশের স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার স্বার্থে দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন পুলিশ প্রধান।

এদিকে ডিএমপি সদর দফতরে সংবাদ সম্মলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কেউ শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালন করলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সহিংসতা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যেকোনো ধরনের নৈরাজ্য ঠেকাতে আমরা বদ্ধপরিকর। আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য পুলিশি যত কৌশল রয়েছে, সবকিছুই আমরা নিয়েছি।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আমরা প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের গুজব-শঙ্কার কথা শুনছি। আমরা এসব বিষয়ে অবগত। নগরবাসীকে রক্ষার জন্য, সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য আমাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সরকারের সব সংস্থার সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। আমরা নগরবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নাগরিকের নিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করতে পারবে না। সেজন্য যা কিছু আইনি পদক্ষেপ নেয়া দরকার, আমরা নেবো।

ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা হাবীব-উন-নবী খান সোহেলকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, তাকে (সোহেল) আটকের কোনো তথ্য নেই। বাংলাদেশ পুলিশের কোনো ইউনিট সোহেলকে আটক করেনি। এসব প্রোপাগান্ডা। জনগণের মনে ভীতি ছড়াতে এসব করা হচ্ছে।

নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো গুজবে কান দেবেন না। আপনাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দিচ্ছে কি না, জানতে চাইলে কমিশনার বলেন, এসব আমাদের কাজের অংশ। আইনে বলা হয়েছে, পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা দেবে। এটা কোনো রাজনৈতিক কিছু নয়। এটাকে যারা রাজনীতির সাথে জড়িয়ে ফেলতে চায়, আমি বলবো, তারা এ ধরনের সহিংসতাকে ইন্ধন দিয়ে থাকে। আমরা দেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী জনগণের সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।

তিনি আরো বলেন, আমরা যা করছি, তা জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য করছি। আমাদের অফিসারদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, জনগণের জানমাল রক্ষার জন্য যতটুকু শক্তি প্রয়োজন ততটুকু প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগে নিষেধ করা হয়েছে, সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরতেও বলা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.