ঢাকা, রবিবার,১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

তুরস্ক

এখানে আপনার কাজটা কী?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১০:০৬ | আপডেট: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১০:১৮


প্রিন্ট
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, সিরিয়ায় আইএসের পতনের পর আমরিকা এখন উত্তর সিরিয়ায় ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। আমেরিকা সেখানে দামেস্ক-বিরোধী কুর্দি গেরিলাদের মদদ দিচ্ছে। ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্ট বা একেপি’র সদস্যদের উদ্দেশে এরদোগান এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, “আমেরিকা যদি বলে আইএস বিরোধী লড়াইয়ে আমরা পাঁচ হাজার ট্রাক এবং দুই হাজার কার্গো বিমানে করে অস্ত্র পাঠাচ্ছি তাও আমরা এটা বিশ্বাস করব না।”

এরদোগান বলেন, সিরিয়ায় এখন ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ককে নিয়ে আমেরিকার আলাদা হিসাব আছে। সিরিয়ার মানবিজ শহর থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারেরও আহ্বান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আমেরিকার দুই হাজার সেনা মোতায়েন করা রয়েছে এবং তারা সিরিয়ার কুর্দি গেরিলা পিপল’স প্রোটেকশন ইউনিট বা ওয়াইপিজি-কে সমর্থন দিচ্ছে। ওয়াইপিজি-কে তুরস্ক নিজের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করে এবং সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে এসব গেরিলার বিরুদ্ধে গত ২০ জানুয়ারি থেকে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে।

মানবিজে মার্কিন সেনা উপস্থিতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, “আমেরিকা আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা মানবিজ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে; তারা মানবিজে থাকবে না। কিন্তু তারা সে কথা রাখেনি।” তিনি জিজ্ঞেস করেন, “কেন আপনারা যাচ্ছেন না?”

এরদোগান আরো বলেন, “তারা আমাদেরকে মানবিজে যেতে নিষেধ করছেন। কিন্তু আমরা মানবিজে যাব এর প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেয়ার জন্য।”

ন্যাটো জোটের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে এরদোগান বলেন, “জোটের শীর্ষে থেকে আমেরিকা সিরিয়ায় কী করছে? আপনাদের তো সিরিয়ার সাথে সীমান্ত নেই, আপনারা সিরিয়ার প্রতিবেশী নন। আপনার এখানে কী কাজ? আমাদের ৯১১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।”

কুর্দি গেরিলাদের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পূর্বসূরী বারাক ওবামাকে সত্য বলতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন এরদোগান। তিনি বলেন, “তারা আমাদেরকে নানান কথা বলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সত্য কথাটা বলেন না। ওবামা সত্য বলেননি, এখন ট্রাম্পও সেই একই পথে চলেছেন।”

 

ডেমোক্র্যাটদের নথি প্রকাশে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের ‘পক্ষপাতদুষ্ট কর্মকাণ্ডের প্রমাণস্বরূপ’ প্রকাশিত রিপাবলিকান মেমোর যুক্তি খণ্ডন করে লেখা ডেমোক্র্যাটদের ১০ পৃষ্ঠার একটি নথি (মেমো) প্রকাশে অনুমোদন দিয়েছে কংগ্রেসের হাউজ ইন্টিলিজেন্স কমিটি।

সোমবার রিপাবলিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ কমিটিতে মেমো প্রকাশের আবেদন অনুমোদিত হয়। তবে হাউজ কমিটির অনুমোদনেই মেমোটি প্রকাশ করা যাবে না। এজন্য প্রেসিডেন্টের সম্মতি প্রয়োজন হবে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে ট্রাম্পের হাতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় আছে। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, মেমোটিতে গত সপ্তাহে প্রকাশিত চার পৃষ্ঠার রিপাবলিকান নথির খুঁতগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম শিফ ইন্টিলিজেন্স কমিটির সোমবারের এ ভোটকে স্বাগত জানিয়েছেন। কমিটিতে থাকা শীর্ষ এ ডেমোক্র্যাটের লেখা মেমোটি প্রকাশে আগেও এক দফা অনুমোদন চাওয়া হয়েছিল, সেসময় তাতে সায় মেলেনি। শিফ বলেন, ‘বিতর্কিত একটি মেমো প্রকাশ করে এবং (সে সময়) ডেমোক্র্যাটদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশে অসম্মতি জানিয়ে রিপাবলিকানরা অসমর্থনীয় অবস্থানে পড়েছিল; এ কারণেই আজ (সোমবার) তারা অনুমোদন দিতে বাধ্য হয়েছে বলে আমার ধারণা’। এখন মেমোটি প্রকাশে বাধা দেয়া ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য ‘কষ্টসাধ্য’ হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় এফবিআই তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে ট্রাম্পের এক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে পক্ষপাতদুষ্ট কাজ করেছিল বলে অভিযোগ করছে রিপাবলিকানরা। তার প্রমাণস্বরূপ গত সপ্তাহে একটি মেমো প্রকাশে অনুমোদন দেয় হাউজ ইন্টিলিজেন্স কমিটি। শুক্রবার তাতে সায় আসে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকেও। হাউজ ইন্টিলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান ডেভিন নানসের কর্মচারীদের সঙ্কলিত ওই নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ ও এফবিআইর বিরুদ্ধে ফরেন ইন্টিলিজেন্স সারভেইলেন্স অ্যাক্টের অধীনে ট্রাম্প শিবিরের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কার্টার পেইজের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে নজরদারি চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেছে রিপাবলিকানরা।

মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ বিষয়ে অপ্রমাণিত এক দলিলের সাক্ষ্যে এফবিআই ট্রাম্পের প্রচার শিবিরের ওই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছিল।

হিলারি শিবিরের আংশিক অর্থায়নে যুক্তরাজ্যের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টিল ট্রাম্পি বরোধী ওই দলিল সাজিয়েছিলেন।

রিপাবলিকানদের নথিতে বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তার সাথে স্টিলের কথোপকথনের বিষয়ও উঠে আসে, যেখানে যুক্তরাজ্যের সাবেক এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হোয়াইট হাউজের দৌড়ে ট্রাম্পের পরাজয়ের ব্যাপারে ‘মরিয়া’ থাকার কথাও বলেছিলেন।

মার্কিন জনগণকে গোয়েন্দা সংস্থার ‘আইনি অপব্যবহার’ সম্বন্ধে জানাতেই গোপন তথ্য সংবলিত মেমোটি প্রকাশ করা হয় বলে সেসময় রিপাবলিকানরা জানিয়েছিল; এফবিআই, মার্কিন বিচার বিভাগ ও ডেমোক্র্যাট সদস্যরা এ কর্মকাণ্ডের বিরোধিতাও করেছিল। ওই নথির পাল্টা হিসেবেই এ সপ্তাহে শিফের লেখা মেমোটি প্রকাশে অনুমতি চাওয়া হয়। হাউজ ইন্টিলিজেন্স কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে যাতে অনুমোদন দেন।

সিনেটে ডেমোক্র্যাট দলের নেতা চাক শুমার প্রেসিডেন্টকে লেখা এক চিঠিতে বলেছেন, মেমো প্রকাশে ট্রাম্প অনুমতি না দিলে তা ন্যায্য হবে না। রিপাবলিকান নথির ওপর ভর করে ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ বিষয়ক বিচার বিভাগীয় তদন্ত বানচালে প্রেসিডেন্ট যেন কোনো পদক্ষেপ না নেন সে বিষয়েও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

ডেমোক্র্যাট মেমো প্রকাশে প্রেসিডেন্ট অনুমোদন দেবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউজ; যদিও ইন্টিলজেন্স কমিটির ভোটের পর সোমবারই মেমোটির লেখক শিফকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত রিপাবলিকান মেমো রাশিয়া বিষয়ক তদন্ত নিয়ে তার দাবির ‘সত্যতা প্রমাণ’ করেছে বলেও ভাষ্য তার। ট্রাম্প শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রচারণার সময় তার শিবিরের সাথে রাশিয়ার সংযোগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। ওই নির্বাচনের পর থেকেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে তাদের ধারণার কথা জানিয়ে আসছে। মার্কিন বিচার বিভাগ ও কংগ্রেস এ নিয়ে পৃথক তদন্তও চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫