ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

ইতিহাস-ঐতিহ্য

চা এলো কিভাবে?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৮:৫২


প্রিন্ট
চা এলো কিভাবে?

চা এলো কিভাবে?

চা পান করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ গরমাগরম চা না হলে আড়ষ্টতা কাটানো অনেকের জন্যই কিন্তু বেশ মুশকিল। অতিথি আপ্যায়নেও চায়ের জুড়ি মেলা ভার। আজকাল তো আবার চায়ের ফ্লেবারেও রকমফের দেখা দিয়েছে। যদিও চা পাতার রকমফের অনুযায়ী স্বাদ ও গন্ধের ভিন্নতা আগেও ছিল। তবে সকল দেশে চা বানানোর পদ্ধতিতে আছে স্বকীয়তা। পরিবেশনের সামান্য অন্য রকমের। তবে সে যাই হোক সকাল সন্ধ্যায় বাড়ির বারান্দাতে আরাম কেদারায় গা এলিয়ে গরম চায়ের কাপে চুমুকের মজাই আলাদা।

বলা হয়ে থাকে, চায়ের নামকরণ হয় গ্রীক দেবী ‘থিয়া’র (Thea) নামানুসারে। তবে এর জন্মস্থান কিন্তু চীন দেশে। কথিত আছে খ্রিষ্টপূর্ব ২৭৩৭ সালে চীনা সম্রাট শেন নং তার পাত্র-মিত্রদের নিয়ে দেশের দক্ষিণ দিকের একটি জঙ্গলে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। পথে সম্রাটের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করার সময় অচেনা কয়েকটি পাতা উড়ে এসে ফুটন্ত পানির মধ্যে পড়ে। এর ফলে পানির রঙ তো পরিবর্তন হলই, সাথে হালকা এক সুবাস বের হতে থাকে সেই পানি থেকে। খবর যায় সম্রাটের কানে। তিনি সেই পানীয়টি পান করেন। গাছের পাতার ফোটানো সেই পানি পান করে সম্রাট যারপরনাই খুশি। স্বাদ-গন্ধ অতুলনীয়। সঙ্গে সঙ্গে আদেশ দেন এই পাতা কোন গাছের তা খুঁজে বার করতে।

যেমন বলা তেমন কাজ। খোঁজা হলো সেই গাছ। জন্ম হলো এক নতুন পানীয়ের। যা বর্তমানে ‘চা’ নামে খ্যাত। এরপর চীনেই এই পাতা নিয়ে নানান পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলে চীনা পণ্ডিতদের। গুণাগুণ নির্ধারণের পাশপাশি চায়ের সাথে আদা, কমলা লেবুর রস, নানাবিধ গুড়ো মশলা মিশিয়ে সেই পানীয়কে পরবর্তীকালে আরো সুস্বাদু করার চেষ্টা হয়।

প্রাচীনকালে চীনাদের বিশ্বাস ছিল ‘চা’ রোগ নিরাময়ের এক মহৌষধ। এরপর চীনের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা চায়ের পাতা ও বীজ নিয়ে বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছেন। ফলে খুব স্বাভাবিকভাবেই অন্য দেশেও চায়ের মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে। চীনের পাশাপাশি জাপানেও এই পানীয়ের কদর বাড়তে থাকে। তবে তখন ছিল কেবলমাত্র গ্রিন টি। এখনকার মতো ব্ল্যাক টির আবিষ্কার তখনো হয়নি।

১৬০০ সালে জাপানে এই চায়ের খোঁজ পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। সে দেশ থেকে ব্রিটেনের রাজা-রানীর জন্য উপহার হিসেবে চা নিয়ে আসেন কোম্পানির কর্তারা। এরপর শুরু হয় চায়ের একচেটিয়া বাণিজ্য। ইংরেজদের হাত ধরেই উপমহাদেশ তথা বাংলাদেশ আসে চা। চীনের পাশাপাশি এখানেও শুরু চায়ের চাষ। বাকিটা ইতিহাস। বর্তমানে এখানে দুধ চা, লিকার চা এবং গ্রীন টি-র প্রচলন রয়েছে।

চা-সমর্থকেরা বলে থাকে, দুধ চা বা লিকার চা পান ক্লান্তি লাঘবে খুবই কার্যকরী। নিয়মিত চা পানে কমে হৃদরোগের ঝুঁকি। সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, নিয়মিত চা পান করার ফলে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৫ গুণ কমে যায়। এছাড়া স্ট্রোকে মৃত্যুর ঝুঁকিও কমে বেশ কয়েকগুণ। বর্তমানে একাংশের কাছে দুধ চা বা লিকার টি-র পরিবর্তে গ্রিন টি অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষদের কাছে। ফিগার ঠিক রাখার ক্ষেত্রে গ্রিন টি-র চাহিদা অনেকখানি বেড়েছে। দুধ চায়ের ফলে শরীরে ফ্যাট জমার আশঙ্কা থাকে। সেটিকে দূর করতেই গ্রিন-টির দিকে ঝুঁকেছে জেনারেশন ওয়াই। যদিও অনেকের দাবি গ্রিন টিকে প্রথমে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হতো। পরে এটি পানীয়তে পরিণত হয়েছে। জাপানের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা দিনে দু’কাপের বেশি গ্রিন টি পান করেন তারা মানসিকভাবে অনেক বেশি ফিট।

চা পানে উপকারিতার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ভুল তথ্যও লোকেদের মুখেমুখে ফেরে। এগুলি হলো- চা খেলে রাতে ঘুম আসেনা। চা পানে ক্ষতি হয় লিভারের। চা পানের ফলে ত্বক কালো হয়।

যদিও চিকিৎসকদের একাংশের মতে চা খেলে গায়ের রঙ কালো হয় না। কারণ ত্বকের রঙ নির্ভর করে ম্যালানোসাইট কোষের সক্রিয়তার উপর। আর চা পানের ফলে কোনোভাবেই ত্বক কালো হয় না বরং ত্বকের চকচকে ভাব বজায় থাকে। তবে চা পানের ফলে লিভারের ক্ষতি না হলেও অতিরিক্ত চা পান করলে দেখা দিতে পারে উল্টো ফল। যেমন রাতে ঘুম কম হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য।

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫