ঢাকা, সোমবার,১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

গল্প

হৃদয়দানি

সবুজ আহমেদ

০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৫:২৩


প্রিন্ট

একা হলে তোমার কথা বেশি ভাবিয়ে তোলে আমায়। মাঝে মাঝে এমন মিস্ করি মাথার মগজে মোমবাতি জ্বলে, রক্ত বেরোয় হৃদ ছিঁড়ে, বলা বাহুল্য, না বলা কথাগুলো ভাষা খুঁজে পায় না। স্মৃতিমন্থর সময়গুলো ঝড়ের বেগে জোয়ার সৃষ্টি করে দু’চোখে। অনেক আহ্লাদের তুমি এখন অনেক দূরে।
সত্যিই কী নিদারুণ এই পৃথিবীর নিয়ম! ভালোবাসার মানুষ এতটা নিষ্ঠুর! প্রাণ পাখি এতটা স্বার্থ পিয়াসী। আমাকে কষ্ট দিয়ে তুমি অথই সাগরে সুখ খুঁজে বেড়াও।
কী সুন্দর চিত্তের চিত্তায়ন
কী বিচিত্র অনুভূতি যাপিত জীবন ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলানো মানুষের দৈনন্দিন ধরন; তুমি তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আমি এখনো কারো সুপ্রসন্ন প্রেমী হতে পারিনি। কতটা কষ্টে আছি এবার বুঝ, কাটা কবুতরের মতো ছটফট করি সারাক্ষণ তোমার জন্য। জানো, জোনাকি সাথী নিয়ে সুখের সোয়ারি চড়া আমার আজও হয়নি। আগের খোলসে আছি শুধু তুমি বদলে গেছ জানি! আমি তো এখনো একা। অন্য কাউকে তোমার স্থানে স্থান দেব ভাবতেই অবাক লাগে। তোমার মতো তো আমি হতে পারিনিÑ চলমান সম্পর্ক রেখে একজনের সহিত অন্য অচেনা পথিককে, না যেনে না চিনে তেমন একজনকে আপন করে নেবো সহজে। অথচ এতটি বছর পেরিয়ে গেছে আমি তেমন কাউকে নিতে চেষ্টা ও করিনি। তোমার ভালোবাসা বুকে ধারণ করে কত তরুণীর শত ফুলের প্রেমের প্রস্তাব পায়ে ঠেলে দিয়েছি, সেই তুলনায় তুমি বিন্দু বিসর্জনও দাওনি। কত প্রাণবন্ত ছিল আমাদের খুটিনাটি খুনসুটি দুজনার দুরন্তপনা।আমি আমার কথা বলতে পারব, আমার দিক থেকে কোনো ছেদ ছিল কি!
আমি দেখেছি তোমাকে খুব কাছে থেকে। তোমার ভালোবাসা পেয়ে ভেলায় ভেসে ছিলাম। যে মানুষটার জন্য আমি বুকের ভেতর খুচরো পয়সার মতো জমিয়ে রেখেছিলাম অজস্র ভালোলাগা আর ভালোবাসার নিষ্ক্রিয় বারুদ, সেই তুমি তোমার জন্য বুকের মধ্যে পুষে রেখেছ পাহাড়সম প্রত্যাখ্যান, ঘৃণার পেয়ালায় পারদ। কোথায় তোমার এক সমুদ্রসম সখ্য? সবই ছিল নাটক! আজ বলতে হয় মন ভালো মানুষের জন্য প্রেম নয়। কেন বলছি তোমার ভীরু প্রকৃতির চেহারা হতে শিখেছি। শুধু তোমার জন্য নেকনজরে মেঘে ঢাকা তারায় অন্ধকারে আলোর সন্ধান করেছি। মৃত্য পাহাড়ের কাছে ঝরনার জল চেয়েছি। যত দিন পাশে ছিলে তত দিন ছিলেম প্রগাঢ় নিখুঁত।
অবশেষে সেই তুমি মিয়মান মুসাফিরকে ছেড়ে তোমার নিজের চাহিদার কাছে সঁপে গুটিয়ে নিলে নিজেকে।
অর্থের কাছে বিক্রি হয়েছ, না আত্মসমর্পণ করেছ। যে কোনো একটা বেছে নিয়েছ। আমি দেখেছি তোমার ভালোবাসা নামক বড্ড বেখত রূপ।
দেখেছি তোমায় না বলে চলে যাওয়া। সত্যিই আমি কিছুটা সময়ের জন্য হই নির্বাক নিথর, কিছুই কাজ করে না মাথায়!
নিজেকে বোঝতে পারি না- যে যাওয়ার সে গেছে, মন ভুলে যাও তাকে। পারি না এসব ভাবনায় শুধু জীবনের চাহিদার কাছে মানুষের ভালোবাসার কানাকড়িও মূল্য নেই সব মিছে। তবে কেন এই ভালোবাসার নামে মিতালী করলে, দিগম্ভর করলে দু’জনার প্রেম।
তবে কেন কাউকে নিয়ে হাজারটা স্বপ্ন দেখা।
জবাব আছে কি জনাবা!
বাস্তবতা যা তা সত্য তুমি আজ অনেক দূর...
আমার কাছে স্মৃতিরা পোয়াবারো পাল আজ বেহাল, তোমার কাছে আমি অচেনা ফুলের আয়ু অন্যের আকাশে ওড়া ভাঙা নাটাই ছেঁড়া ঘুড়ি।
আমি ঘৃণা করি না। তোমায় অভিশাপও দেব না, ছল শব্দের সাথে আমি পরিচিত নই।
তাই হয়তো তোমাকে ঘৃণা করতে পারব না,
আশীর্বাদ দিতে কার্পণ্য নেই পুষ্পার্ঘ্য দিলাম প্রেমে।
যেথায় থেকো ভালো থেকো, আচ্ছাদিত সুখ ও শুভ কামনা রইল।
যতখানি ভালো থাকার জন্য আমাকে ছেড়ে সরে গেছো
তার চেয়েও বেশি ভালো থেকো আমার হৃদয়ের ধন।
আমি একা একাই রবো, এখন একলা পথ চলতে শিখে গেছি বেশ।
জীবন নামের যাত্রাপালায় যেদিন তুমি আমায় একা রেখেই পালিয়ে গেলে সিনেমার গল্পের ন্যায়! তোমার অবহেলায় আমার হৃদয়দানি বয়সী বটের ঝরাপাতা গিয়েছিল উড়ে রূঢ় পথে। সেই হতে একাকী পথ চলাকেই ভালোবেসে নিয়েছি নিজেকে।
আজও এই প্রেতাত্মা আত্মপ্রত্যয়ে বেঁচে আছে প্রেত্নী তোমায় ভালোবেসে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫