ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২১ মার্চ ২০১৯

শেষের পাতা

পোশাক শ্রমিকদের বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও হামলা ভাঙচুর সংঘর্ষ আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০০:০০ | আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ০১:২১


প্রিন্ট
বকেয়া বেতনভাতা দাবিতে বিজিএমইএ ভবনে শ্রমিকদের ভাঙচুর   ;  নয়া দিগন্ত

বকেয়া বেতনভাতা দাবিতে বিজিএমইএ ভবনে শ্রমিকদের ভাঙচুর ; নয়া দিগন্ত

বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকেরা গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজারে তৈরী পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও করেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সাথে ভবনের কর্মচারীদের সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
পুলিশ, আহত শ্রমিক ও কর্মচারী সূত্র জানায়, রাজধানীর রামপুরায় অবস্থিত আশিয়ানা নামে একটি গার্মেন্টের কয়েক শ্রমিক বকেয়া বেতনের দাবি ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গতকাল দুপুরে বিজিএমইএ ভবনের সামনে জড়ো হন। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের ব্যানারে তারা সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় বিজিএমইএ ভবনের কর্মচারীরা তাদের বাধা দেন। একপর্যায় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। মারধর, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলে উভয়ের মধ্যে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ভবনের ভেতর চলে যান। তারা ভবনের নিচে রাখা গাড়ি ও ভবনের দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় বিজিএমইএর কর্মীরাও লাঠিসোটা নিয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া করেন। একপর্যায় শ্রমিকেরা রাস্তায় অবস্থান করলে ব্যাপক যানজট শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেয়।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ ঘটনায় আহত ২০ জন শ্রমিক ও দুই কর্মী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহত শ্রমিক কামাল হোসেন জানান, রামপুরায় আশিয়ানা গার্মেন্টের শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ও বকেয়া বেতনভাতার দাবিতে বিজিএমইএ ভবন ঘেরাও কর্মসূচি অনুযায়ী তারা সেখানে গেলে বিজিএমইএ ভবনের কর্মচারীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা লাঠিসোটা নিয়ে শ্রমিকদের মারধর করেন।
রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম জানান, শ্রমিকেরা বিজিএমইএ ভবনে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন। এ ব্যাপারে বিজিএমইএ ভবন কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। তবে শ্রমিকদের প থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
এ দিকে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার সাংবাদিকদের জানান, আশিয়ানা গার্মেন্টে প্রায় ৮০০ শ্রমিক কাজ করেন। সেখানে ট্রেড ইউনিয়ন চালু করতে শ্রমিকেরা নিবন্ধকের বরাবর আবেদন করলেও মালিকের আপত্তিতে তা আটকে ছিল। পরে কর্মকর্তা লেভেলের লোকজনকে দিয়ে মালিকপরে আজ্ঞাবহ একটি কমিটিকে নিবন্ধন দেয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে ট্রেড ইউনিয়ন চালুর সাথে যুক্ত শ্রমিকদের একে একে ছাঁটাই করছিলেন মালিকেরা। সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি মামুন নামের এক শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিলে অন্য শ্রমিকেরা বিুব্ধ হয়ে পড়লে মালিকপ কারখানা বন্ধ করে দেন। এরই প্রতিবাদে শ্রমিকেরা বিজিএমইএ ভবনের সামনে বিক্ষোভ করে।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫