পূর্ব শ্রীলঙ্কার মাদুরু-ওয়া ন্যাশনাল পার্কে এই দুটি হাতির বাচ্চার মরদেহ পাওয়া যায়
পূর্ব শ্রীলঙ্কার মাদুরু-ওয়া ন্যাশনাল পার্কে এই দুটি হাতির বাচ্চার মরদেহ পাওয়া যায়

যমজ হাতির বাচ্চার মৃতদেহ উদ্ধার

বিবিসি

শ্রীলঙ্কায় বন্যপ্রাণীর একটি পার্কে হাতির দুটি যমজ বাচ্চার মরদেহ পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছে, জন্মের নির্ধারিত সময়ের আগেই এই দুটি বাচ্চার জন্ম হয়েছে।

বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা বিবিসির সিনহালা বিভাগকে বলেছেন, জন্মের সময়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

তারা বলছেন, হাতির যমজ বাচ্চা জন্ম দেয়ার ঘটনা খুব বিরল। কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের জানা মতে, শ্রীলঙ্কায় তাদের হেফাজতে থাকা কোনো মা হাতি এর আগে কখনো যমজ বাচ্চার জন্ম দেয়নি।

কর্মকর্তারা আরো বলছেন, এমনকি বনে জঙ্গলেও কোনো হাতি যখন যমজ শিশুর জন্ম দেয় তখন তাদের বেঁচে থাকার হারও হয় খুব কম।

পূর্ব শ্রীলঙ্কার মাদুরু-ওয়া ন্যাশনাল পার্কে এই দুটো হাতির বাচ্চার মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

বন্যপ্রাণী চিকিৎসক নিহাল পুস্পাকুমারা, যিনি যমজ বাচ্চা দুটোর ময়না তদন্ত করেছেন, তিনি বলেছেন, আরো পরীক্ষার জন্যে এদের মৃতদেহ এখন রাজধানী কলম্বোতে নিয়ে যাওয়া হবে।

এই একই ধরনের মৃত্যুর খবর এর আগেও দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড এবং ভারত থেকে পাওয়া গেছে।

শ্রীলঙ্কায় পশু চিকিৎসক সমিতির সদস্য ভিজিথা পেরেরা বিবিসির সিনহালা বিভাগকে বলেছেন, এর আগেও শ্রীলঙ্কার জঙ্গলে এরকম দুটি ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানেন।

চার বছর আগে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় দুটো যমজ শিশুর জন্ম হয়েছিল এবং মা হাতি ও হাতির পাল একটিকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলো।

"গ্রামবাসীরা মা হাতি এবং হাতির পালকে দেখেছে একটি বাচ্চাকে সাথে নিয়ে চলে যেতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা পরিত্যক্ত আরো একটি বাচ্চাকে দেখতে পায়। ওই বাচ্চাটিকে সাহায্য করার জন্যে আমরা সেখানে ছুটে গিয়েছিলাম কিন্তু তাকে বাঁচাতে পারিনি," বলেন তিনি।

ভিজিথা পেরেরা বলছেন, জন্মের সময় এরা সুস্থ থাকলেও, পুষ্টির চাহিদার কারণে পরিত্যক্ত হাতির বাচ্চাটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব কম থাকে।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতির গর্ভধারণ কাল সাধারণত ২২ মাস হয়ে থাকে।

পশু চিকিৎসক ভিজিথা পেরেরা বলেছেন, একটি হাতির বাচ্চা সাধারণত জন্ম হওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই সে নিজে থেকে উঠে দাঁড়াতে পারে। তবে কখনো কখনো আরো কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে।

ভিজিথা পেরেরা বলছেন, এরকম পরিস্থিতিতে মা হাতিকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে সে তার বাচ্চাটির সাথে থেকে যাবে, নাকি বাচ্চাটিকে ফেলে হাতির পালের সাথে সেও চলে যাবে।

"প্রকৃতি এরকমই। মা হাতিটির একই সাথে যেমন তার বাচ্চাটির দরকার, তেমনি তার হাতির পালেরও দরকার। তখন তাকে একটিকে বেছে নিতে হয়," বলেন তিনি।

ধারণা করা হয়, শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে ৭,০০০ এরও বেশি হাতি রয়েছে। দেশটিতে এই প্রাণীটিকে 'পবিত্র' হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটিকে রক্ষার জন্যে আইনও রয়েছে।

বলা হচ্ছে, ১৯০০ সালে শ্রীলঙ্কায় হাতির সংখ্যা ছিল ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.