ছেলেদের হেয়ার কাট
ছেলেদের হেয়ার কাট

ছেলেদের হেয়ার কাট

এ কে রাসেল

সব মানুষই ফ্যাশনেবল হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন এবং করেও থাকেন। তবে একেকজনের ফ্যাশন একেক রকম। তবে ফ্যাশন নির্ভর করে প্রত্যেকের রুচির ওপর। আর সব ধরনের ফ্যাশনের সাথে মানুষের চুলের স্টাইলও জড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে একটু বেশিই চুলের সাজটা গুরুত্ব পায়। চুল নিয়ে স্টাইলেরও যেন শেষ নেই। নিজের চুলের স্টাইল নিয়ে অনেক ছেলেই দোটানায় ভোগেন। কেউ ছোট চুল রাখতে ভালোবাসেন। আবার কেউ বড় চুল কেটে ছোট করতে একদমই নারাজ।

সময়ের সাথে চুলের কাটে ভিন্নতা এনে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করেন অনেকেই। তবে চুলের স্টাইল অনেকটা নির্ভর করে নিজের মুখের গড়নের ওপর। সব ধরনের চুলের স্টাইল যে সবাইকে মানাবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই নিজের মুখমণ্ডল, শরীরের গড়ন ও পেশা এগুলোর ওপর নির্ভর করেই চুলের স্টাইল করা উচিত।
এই সময়ে বেশ কিছু জনপ্রিয় স্টাইলের চুলের কাট নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।
শর্ট কাট : এই স্টাইল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় কিশোর ও তরুণদের কাছে। সব দিকের চুলই ছোট করে কেটে হেয়ার জেল দিয়ে স্টাইল করা যায়। ফলে এটিই এখন জনপ্রিয় কাট। একে অনেকে কক কাট বলে, আবার দেশের বাইরে এটা আন্ডার কাট নামে পরিচিত।
ক্ল্যাসিক কাট : চুলের কাটে এটি পুরনো স্টাইল। কাজের ক্ষেত্রে ফরমাল পোশাকের সাথে এটি সবচেয়ে ভালো স্টাইল। এই স্টাইলে চুলের একদিকে সিঁথি করে আচড়ানো হয়। মাঝবয়সী ছেলেদের এই স্টাইল চেহারায় মার্জিত একটা লুক এনে দেবে।

ফেড কাট : এই স্টাইলে পেছনে ও কানের ওপরে চুল একদম থাকেই না বলা চলে। কানের কমপক্ষে এক ইঞ্চি ওপর থেকে আর পেছনে মাথার অর্ধেক ওপর থেকে কাটা শুরু হয়।

ক্রু কাট : মাথার পেছনের দিকে ও পাশের চুলগুলো ট্রিম করে কাটা হয়। আর সেখান থেকে ওপরের দিকে ক্রমান্বয়ে চুল বড় ও কিছুটা খাড়া থাকে। এই স্টাইলটাও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

বাজ কাট : যারা খুব খেলা প্রিয়, এই স্টাইল তাদের কাছে পরিচিত। খেলোয়াড় ও সৈনিকদের মধ্যে এই স্টাইল বেশি জনপ্রিয়। এই কাটে চুল ট্রিমার মেশিনে কাটা হয়। চুলের দৈর্ঘ্য থাকে এক ইঞ্চির চার ভাগের এক ভাগ। গোসলের পরেও এই চুল আঁচড়ানোর দরকার পড়ে না।

লেয়ার স্পাইক : চুলের নানা ধরনের কাটের মধ্যে বেশি জনপ্রিয় লেয়ার স্পাইক। এই স্টাইলের বিশেষত্ব হলোÑ কপালের ওপরের চুল ছোট করে স্পাইক রাখা। মাথার ওপরের দিকের চুল তুলনামূলক বড় হবে। অর্থাৎ সামনের চুল খুব ছোটও না আবার খুব বড়ও না। তবে পেছনের দিকে লেয়ার স্টাইল থাকতেহ হবে।

ইমো সুইপ : স্টাইলটি সাধারণত কমবয়সী ক্যাজুয়ালের জন্য বেস্ট। এ জন্য মাঝারি লম্বা চুল থাকা প্রয়োজন। ইমো স্টাইলটির বিশেষত্ব হলো চুলের ছাঁট সম্পূর্ণ এলেমেলো করে রাখা। তবে সামনের চুল কিছুটা বড় থাকবে। আর মাথার পেছনের চুল স্পাইক স্টাইলে ছোট করে রাখতে হয়। সামনে এবং কানের পাশের বড় চুলগুলো পুরো মুখটিকে ঢেকে দেয়। মূলত এটিই হলো ক্যাজুয়াল ফ্যাশনের ইমো সুইপ স্টাইল।

লম্বা চুলের স্টাইল : ঘন লম্বা চুল অনেকেরই পছন্দ। মাথার চুল লম্বা হলে দুই কাঁধের ওপর ছড়িয়ে নানা আঙ্গিকে বহু স্টাইল করতে পারবেন অনায়াসেই। এই চুলে সাধারণত বিভিন্নভাবে স্টাইল করে রাখা যায়। চুল সোজা কিংবা কোঁকড়ানো যা-ই হোক না কেন, ফ্যাশনে কিন্তু ভিন্নতা এনে দেয় লম্বা চুল। লম্বা চুলে পনিটেল করে রাখলেও মানায়। আবার কিছুটা চুল খোলা রেখে অল্প চুল নিয়ে এলোমেলো ঝুটিও করা যায়।

চুলের ফ্যাশন বা হেয়ার স্টাইল নিয়ে কথা হয় কাট অ্যান্ড কুল সেলনের স্বত্বাধিকারী জাভেদ হীরার সাথে। তিনি বলেন, বর্তমানে কিশোর ও তরুণদের কাছে শর্ট কাট হেয়ার স্টাইল খুবই জনপ্রিয়। তিন বছর ধরে এই স্টাইলটাই বেশি চলছে। এর বিশেষ কারণ হলো, বাবা-মা বা টিচাররা এই কাটের জন্য রাগ করেন না। কাটটি এসেছে লন্ডন থেকে। মূলত এটা সোলজার কাট।

তবে ছেলেরা চুলের কাটিংয়ের সাথে হেয়ার স্টাইলে কালারকেও এখন অনেক বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিশোর ও তরুণরা সিলভার কালার বেশি পছন্দ করছে। আর করপোরেট বা পেশাজীবীরা ডার্ক ব্রাউন কালার পছন্দ করছেন। কারণ ব্রাউন কালার চুলের সাথে একটু মিশে থাকে।
কোথায় কাটতে পারবেন : পারসোনা রতন’স জেন্টস পার্লার, নেক্সাস হেয়ার ডিজাইন, ক্রেজ জেন্টস পার্লার, রেজর্স এন সিজর্স ও জনসন বিউটি কেয়ার।

কাটিং খরচ : ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় কাটাতে পারবেন এ ধরনের যেকোনো স্টাইলের চুল। কালারের জন্য আপনাকে গুনতে হবে এক হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।
তবে চুলের স্টাইল যার যেমনই হোক না কেন, নচিকেতার সুরে বলাই যায়, ‘কেউবা বেচতে রূপ ওই রূপের বাহার চুলের ফ্যাশন, আমি ভবঘুরেই হবো, এটাই আমার অ্যামবিশন।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.