ঢাকাতে কেমন কাটছে নয়নতারার
ঢাকাতে কেমন কাটছে নয়নতারার

ঢাকাতে কেমন কাটছে নয়নতারার

নাজমুল হোসেন

বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে বিয়ে করে কয়েক বছর আগে চীন থেকে বাংলাদেশে এসে সংসার ও ব্যবসা শুরু করেন নয়নতারা। পুরান ঢাকার বখশিবাজারে নয়নতারার প্রতিষ্ঠান ফান ফুটওয়্যার। এই অফিস থেকে প্রায় ৫০টির বেশি প্রতিষ্ঠানকে জুতা ও জুতা তৈরির কাঁচামাল দিয়ে সাপোর্ট দিচ্ছেন তারা। ঢাকায় নয়নতারার দিনকাল নিয়ে লিখেছেন নাজমুল হোসেন

ঢাকায় কিভাবে?
আমার স্বামী প্রায় ১০ বছর চীনে ছিল। ওর সাথে আমার পরিচয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেই আমরা দু’জন বিয়ে করি। আমাদের বিয়ে হয় চীনে থাকতেই। প্রথমে আমরা চিন্তায় পরে যাই কোথায় থাকব। একবার ভাবি ঢাকায়, আবার মনে হয়; না চীনে থাকলে ব্যবসায় দ্রুত সফলতা পাওয়া যাবে। অবশেষে আমাদের বিয়ের পর দু’জন একসাথে চীনে ব্যবসা শুরু করি। চীনে আমরা সফল হওয়ার পর বাংলাদেশে ব্যবসায় প্রসারের পরিকল্পনা নেই। সেই পরিকল্পনা অনুসারে আমরা বাংলাদেশে চলে আসি।

বাংলাদেশে আসার ব্যাপারে আপনার পরিবার রাজি ছিল?
চাইনিজরা স্বনির্ভর হতে চায়। সেটা কোথায় থেকে কিভাবে হবে তা নিয়ে ভাবে না। আমার ছোট একটি ভাই আছে। ও আছে বলে বাবা-মা আসার ব্যাপারে রাজি ছিল। না থাকলেও খুব বেশি সমস্যা হতো না। কারণ চাইনিজ বাবা-মা কারো ওপর নির্ভর করে না। আমার বাবা পেশায় প্রকৌশলী। মা জব করেন। বাবা-মা কখনো চিন্তা করবে না ছেলেমেয়েরা আমাকে টাকা দেবে। তারা নিজেরা সবসময় নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

ব্যবসায় শুরুর মূলধন পেলেন কিভাবে?
আমাদের ব্যবসায় প্রথম শুরুর টাকা দিয়েছে আমার বাবা ও স্বামী। আমার স্বামী চীনে অনেক দিন চাকরি করছে। ওর কিছু জমানো টাকা ছিল। আর বাকি টাকা আমার বাবা দিয়েছে।

জুতার ব্যবসায় কেন?
২০১০ সালের শেষে আমাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর চীনে দু’জন একসাথে নানা রকম ব্যবসায় করার চেষ্টা করি। আমার স্বামী গ্র্যাজুয়েশনের পর একটি ইন্টারন্যাশনাল জুতার কোম্পানিতে কাজ করত। ওখান থেকে আমাদের মাথায় জুতা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়।

বর্তমানে কতটি প্রতিষ্ঠান আপনাদের সেবা নিচ্ছে?
আমরা মূলত ছোট পরিসরে জুতা তৈরি করে এমন ব্যবসায়ীদের মেশিনারিজ ও কাঁচামালের সাপোর্ট দিয়ে থাকি। পুরান ঢাকায় আমাদের ৩৫টির মতো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা আমাদের মেশিনারিজ ব্যবহার করছে। এ ছাড়াও ঢাকার বাইরে আমরা কিছু প্রতিষ্ঠানে মেশিনারিজ সরবরাহ করেছি। ঢাকার পাশাপাশি চীনেও আমাদের অফিস আছে।

ঢাকার কী ভালো লাগে?
ঢাকার মানুষ অনেক আন্তরিক। আমি যখন কারো বাসায় বেড়াতে যাই, তখন সবাই আমাকে খুব আদর করে। চীনে এরকম কেউ কাউকে আদর করে না। কারণ সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। ঢাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠান আমার খুব ভালো লাগে। এর মধ্যে পহেলা বৈশাখ বেশি ভালো লাগে। ঢাকার সব বন্ধুদের বাসায় যেতে ভালো লাগে। কারণ ওরা সবাই আন্তরিক।

ঢাকার কী ভালো লাগে না?
ঢাকার জ্যামে খুব বিরক্ত লাগে। যানজটের কারণে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে অনেক সমস্যা হয়।

ঢাকায় আপনার প্রিয় খাবার কী?
ঢাকার সব খাবারই ভালো লাগে। তবে ঢাকার বিরিয়ানি আমার খুব ভালো লাগে।

ঢাকার কোন পোশাক আপনার প্রিয়?
ঢাকার শাড়ি আমার খুব প্রিয়। তবে সবসময় পড়তে পারি না। কারো বিয়েতে গেলে অবশ্যই শাড়ি পরে যাই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.