শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে ওজনিয়াকির দীর্ঘ, কঠিন পথের অপেক্ষা

নয়া দিগন্ত অনলাইন

শীর্ষ বাছাই সিমোনা হালেপকে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে হারিয়ে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন ড্যানিশ তারকা ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। কিন্তু বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এই এক নম্বর তারকার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন সত্যি হবার পিছনের ঘটনা মোটেই সহজ ছিলনা।

১২ বছর, ৬৭ সপ্তাহ র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে অবস্থান করা, ১৪৯টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ম্যাচ, তিনটি মেজর ফাইনাল ও সীমাহীন হতাশা- এসব কিছুরই অবসান হয়েছে শনিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জেতার মধ্য দিয়ে। মেলবোর্নের প্রচন্ড গরমে প্রায় তিন ঘন্টার ফাইনালে হালেপকে পরাজিত করার পথটা মোটেই সহজ ছিলনা। ৭-৬ (৭/২), ৩-৬, ৬-৪ গেমের জয় তারই প্রমান। শিরোপা সাথে সাথে দীর্ঘ ৬ বছর পরে আবারো র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটাও নিশ্চিত হয়েছে ওজনিয়াকির। শীর্ষস্থান হারিয়ে আবারো সেখানে ফেরার মধ্যে এত লম্বা বিরতি টেনিসের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে নিয়ে তাই আবেগজড়িত কন্ঠে ওজনিয়াকি বলেছেন, ‘সত্যিকার অর্থেই কেউ জানে না এর পিছনে কতটা কঠিন পরিশ্রম, প্রতিশ্রুতি লুকিয়ে ছিল।’

২০১৪ সালে নিউ ইয়র্কের ফাইনালে সেরেনা উইলিয়ামসের কাছে পরাজিত হবার পরে এটাই ওজনিয়াকির প্রথম কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে প্রবেশ। তবে ২০১৪ সালের পরে ধীরে ধীরে ওজনিয়াকির ফর্ম ও ফিটনেস দুটোই হারিয়ে যেতে থাকে। অনেকেই বিশ্বাস করেছিলেন ওজনিয়াকির ক্যারিয়ার হয়ত শেষ হয়ে গিয়েছে, কিন্তু ড্যানিশ তারকা নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। ২০১৬ সালের ইউএস ওপেনে তিনি র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭৪তম খেলোয়াড় হিসেবে কোর্টে নেমেছিলেন। যদিও ঐ সময় ইনজুরি তাকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল। আগের টুর্নামেন্টগুলোতে বিশেষ করে এমন কিছু খেলোয়াড়ের বিপক্ষে তিনি পরাজিত হওয়া শুরু করেছিলেন যা ছিল সত্যিই হতাশার। ধীরে ধীরে ওজনিয়াকি নিজেও বিশ্বাস করা শুরু করেন ক্যারিয়ারকে বিদায় জানানো সময় হয়ত এসে গেছে।


কিন্তু ফ্ল্যাশিং মিডোতে সেমিফাইানালে পৌঁছানোর পরে তার র‌্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি শুরু হয়। শেষ চারে অবশ্য তিনি চ্যাম্পিয়ন এ্যাঞ্জেলিক কারবারের কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছিলেন। পরের দুই মাসে টোকিও ও হংকংয়ে শিরোপা জেতার পরে শীর্ষ ২০’এ থেকে তিনি ২০১৬ শেষ করেন। গত বছরও তার এই পুনজার্গরন অব্যাহত থাকে। ছয়টি ফাইনালে পৌঁছানোর পরে সেপ্টেম্বরে টোকিওতে প্যান-প্যাসিফিক শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখান। এরপরপরই দীর্ঘদিন পরে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয় তার ক্যারিয়ারকে পাল্টে দেয়। নভেম্বরে ডব্লিউটিএ ট্যুর ফাইনালে শিরোপা জিতে তিনি প্রমান করেন এখনো কোনো কিছুই শেষ হয়ে যায়নি।

২০১০ সালের ১১ অক্টোবর বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানটি প্রথমবারের মতো দখল করেছিলেন। ২০০৯ সালে নিউ ইয়র্কে প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে খেলেছিলেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.