ঢাকা, বুধবার,২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

টেনিস

আরেকটি স্ল্যাম জয়ের স্বপ্নে বিভোর ফেদেরার

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২৭ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১৯:৩৩


প্রিন্ট
আরেকটি স্ল্যাম জয়ের স্বপ্নে বিভোর ফেদেরার

আরেকটি স্ল্যাম জয়ের স্বপ্নে বিভোর ফেদেরার

সুইস সুপারস্টার রজার ফেদেরারের ক্যারিয়ারে ২০তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের সামনে এখন একমাত্র বাধা ক্রোয়েশিয়ান তারকা মারিন সিলিচ। আগামীকাল মেলবোর্ন পার্কে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে সে বাধা দূর করতেই কোর্টে নামবেন ৩৬ বছর বয়সী ফেদেরার।

বয়স যার কাছে কনো বাধা নয় তার সামনে সিলিচও যে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তা অবশ্য মানতে নারাজ ফেদেরার ভক্তরা। এই নিয়ে ক্যারিয়ারে ৩০তম স্ল্যাম ফাইনালে খেলতে যাচ্ছেন ফেড এক্স। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন একের পর এক ইনজুরির কাছে হার মেনে নতি স্বীকার করেছে সেখানে ফেদেরার এখনও নিজ লক্ষ্যে অবিচল, সামনে শুধু একটাই লক্ষ্য- ষষ্ঠবারের মত অস্ট্রেলিয়ান শিরোপা দখল।

বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় রাফায়েল নাদাল, ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন নোভাক জকোভিচ ও সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্ট্যান ওয়ারিঙ্কা প্রত্যেকেই ইনজুরির কাছে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন। পাঁচবারের ফাইনালিস্ট এন্ডি মারে তো টুর্নামেন্টেই অংশ নেননি। তারপরও প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে ফেদেরার একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ পর্যন্ত নয়বারের মোকাবেলায় সিলিচ একবারই ফেদেরারের বিপক্ষে জয়ী হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে ফেদেরারকে পরাজিত করে সিলিচ শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিলেন। এবারও অবশ্য সুস্পষ্ট ফেবারিট হিসেবেই সিলিচের মুখোমুখি হচ্ছে ফেদেরার। ফাইনালের পথেও একটি সেটও না হেরে শেষ ম্যাচে খেলতে যাওয়া ফেদেরারের পরিসংখ্যানই তাকে ফেবারিট করে তুলেছে। জকোভিচ ও অস্ট্রেলিয়ান রয় এমারসনের সাথে সবচেয়ে বেশি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপা জয়ে ফেদেরারও দারুণ আত্মবিশ্বাসী। ফাইনালের আগে সুইস তারকা বলেছেন, ‘বিশেষ কোন কিছুর উন্নতি করাটা আসলে মূখ্য নয়। আসলে টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই নিজের খেলার ওপর আত্মবিশ্বাস ছিল, সেটা সঠিকভাবেই এ পর্যন্ত ধরে রেখেছি। একটি সেটও না হারা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালেও এই ধারা বজায় রাখতে চাই।’

সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ান তরুন চুং হেইওনের বিপক্ষে ফেদেরারের জয়টা ছিল মাত্র ৬২ মিনিটের। প্রথম সেটে ৬-১ ব্যবধানে জয়ের পরে দ্বিতীয় সেটে ৫-২ ব্যবধানে ফেদেরার যখন এগিয়ে ছিলেন তখনই চুংয়ের পায়ে সমস্যা দেখা দেয়ায় আর খেলতে পারেননি। ফাইনালের আগে ছয়টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতেই দুই ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে ফেদেরার জয়ী হয়ে কোর্ট ছাড়েন। সব মিলিয়ে ১০ ঘন্টা ৫০ মিনিট কোর্টে ছিলেন ফেদেরার যা সিলিচের থেকে ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট কম।

সেমিফাইনালের পরে ফেদেরার বলেছেন, আমি স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। তবে এ পর্যন্ত আসার জন্য চুংকে স্বাগত জানাচ্ছি।

চুংয়ের বিপক্ষে ম্যাচটা সহজ হলেও ফাইনালে সিলিচের বিপক্ষে যে লড়াইটা সহজ হবে না তা বুঝতে পারছেন ফেদেরার। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি জানি ইউএস ওপেন জয় তাকে দারুণ আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে। বড় ম্যাচে লড়াই করার জন্য যে পুরোপুরি প্রস্তুত। আমি তার পেশাদারীত্ব দারুন পছন্দ করি। জয় বা পরাজয় যাই হোক না কেন সে সবসময়ই একইরকম থাকার চেষ্টা করে। কোর্টে সে সবসময়ই বিজয়ী।

ফাইনালে জয় বা পরাজয় যাই হোক না কেন ফেদেরার র‌্যাঙ্কিংয়ে নাদালের পরে দ্বিতীয় অবস্থানেই থাকবেন। তবে সিলিচের সামনে বর্তমান ষষ্ঠ র‌্যাঙ্কিং থেকে ক্যারিয়ার সেরা তৃতীয় স্থানে ওঠার হাতছানি। ২৯ বছর বয়সী সিলিচ প্রথম ক্রোয়েশিয়ান খেলোয়াড় হিসেবে পুরুষ ও মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মেলবোর্নের ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি ১৪তম স্থানে থেকে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ শিরোপা ইউএস ওপেন জিতেছিলেন। সেমিফাইনালে ফেদেরারকে সরাসরি সেটে হারিয়ে ফাইনালে কেই নিশিকোরিকে পরাস্ত করেছিলেন।

মহিলা এককে শিরোপা জয় করলেন ওজনিয়াকি
শেষ পর্যন্ত গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয় করতে সক্ষম হলেন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। আজ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নারী এককের ফাইনালে তিনি সিমোনা হালেপকে ৭-৬, ৭-২, ৩-৬ ও ৬-৪ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম এই গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা জয় করেছেন। ৪৩বারের প্রচেষ্টায় সফলতা লাভ করলেন এই ডেনিস তারকা। এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় অবস্থান থেকে র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর স্থানটিও দখল করেছেন ওজনিয়াকি। ম্যাচের আগমুহূর্ত পর্যন্ত ওই অবস্থানটি ছিল রোমানিয়ার তারকা হালেপের দখলে।

রড লাভেল এরিনায় উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে দুই টেনিস তারকার জন্যই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল চিকিৎসক। ২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট স্থায়ী হয়েছিল ম্যাচটি। নিজেকে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানে রেখে দিলেও ২৭ বছর বয়সি ওজনিয়াকি কোনভাবেই ঘোচাতে পারছিলেন না গ্র্যান্ড স্লাম খরা। ২০০৯ ও ২০১৪ সালে ফিরতে হয়েছে ইউএস ওপেনের ফাইনাল থেকে। অথচ ২০১০ সালে প্রথমবার বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ের এক নম্বর স্থানে উঠেছিলেন তিনি।

আজ ছিল দুই শীর্ষ র‌্যাংকধারীর জন্যই বড় কোন আসরের তৃতীয় ফাইনাল। তবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম। শুরতেই হালেপের ওপেনিং সার্ভিস ব্রেক করে জোড়ালোভাবে লড়াই শুরু করেন ওজনিয়াকি। এ সময় উষ্ণতার মাত্র ছিল ৩০ ডিগ্রিরও বেশি। এই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই শিরোপা জয় করেন ডেনমার্কের এই টেনিস তারকা।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫