কুর্দি বাহিনীকে মদদ দেবেন না
কুর্দি বাহিনীকে মদদ দেবেন না

যুক্তরাষ্ট্রকে তুরস্কের হুঁশিয়ারি

নয়া দিগন্ত অনলাইন

তুরস্ক সিরিয়ার কুর্দি ওয়াইপিজি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে এবং বাহিনীটিকে মদদ না দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের এক মুখপাত্র এ কথা জানিয়েছেন।
আঙ্কারার মিত্র ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কুর্দিদের নিয়ে চরম উদ্বেগ থাকায় প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ অভিযান চালানো থেকে সরে না আসার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। কুর্দিদের ওই মিলিশিয়া বাহিনীটিকে তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) বর্ধিতাংশ ও একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে তুরস্ক। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশের অধিকাংশ স্থান এখন ওয়াইপিজির নিয়ন্ত্রণে। সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী লড়াইয়ে কুর্দিদের এই বাহিনীটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র। আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই শেষ হয়েছে, এই যুক্তিতে এখন ওয়াইপিজির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতার অবসান চায় তুরস্ক।
প্রেসিডেন্ট এরদোগানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন সতর্ক করে বলেছেন, ‘আমাদের সীমান্ত বরাবর সিরিয়ায় পিকেকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা করলে আমরা সহ্য করব না। তিনি বলেন, সিরিয়ার আফরিন থেকে তুর্কি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছে কুর্দি যোদ্ধারা।
শনিবার থেকে আফরিনে ওয়াইপিজির বিরুদ্ধে ‘অপারেশন অলিভ ব্রাঞ্চ’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করেছে তুরস্ক। তার পর থেকে ৭০ জনেরও বেশি লোক মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন এক সিরীয় মানবাধিকার আন্দোলনকারী। তুরস্কের সামরিক বাহিনী এই অভিযানে প্রথমবারের মতো তাদের এক সৈন্য নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সিরিয়ার সাত বছরের ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে এটি তাদের দ্বিতীয় বড় অভিযান। পাশাপাশি আফরিন থেকে কয়েক হাজার বেসামরিক লোক পালিয়ে গেছে বলে খবর হয়েছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে রোববার তুরস্কের স্থলবাহিনী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত অতিক্রম করে, তাদের সঙ্গে সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফ্রি সিরিয়ান আর্মির (এফএসএ) বিদ্রোহীরাও যোগ দেয়।
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম জানিয়েছেন, সিরিয়ার ভেতরে ৩০ কিলোমিটারব্যাপী ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অভিযানটি চালানো হচ্ছে। অপর দিকে প্রেসিডেন্ট এরদোগান ‘খুব শিগগিরই’ ওয়াইপিজিকে দমন করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাসের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ওয়াইপিজির কর্তৃত্বাধীন সিরিয়ার ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জোটকে নতুন একটি ‘সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী’ গড়তে সহায়তা দেয়ার কথা বলার পরই আফরিনে অভিযানের পরিকল্পনা করে তুরস্ক।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আইএসের ফিরে আসায় বাধা দিতে ওই ‘সীমান্ত নিরাপত্তা’ বাহিনী গড়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। বিদ্রোহী কমান্ডার মেজর ইয়াসের আবদুর রহিম জানিয়েছেন, তুরস্কপন্থী প্রায় ২৫ হাজার বিদ্রোহী যোদ্ধা ওই অভিযানে যোগ দিয়েছে। তবে তুরস্কের কত সৈন্য ওই অভিযানে অংশ নিচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস সোমবার জানিয়েছে, শনিবার থেকে ওই দিন পর্যন্ত ৫৪ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৬ জন কুর্দি যোদ্ধা ও ১৯ জন তুরস্কপন্থী সিরীয় বিদ্রোহী। পাশাপাশি ২৪ জন বেসামরিকও নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২২ জন তুরস্কের বিমান ও কামানের গোলাবর্ষণে এবং দুইজন কুর্দিদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

ইয়েমেন প্রশ্নে ব্রিটিশ, সৌদি ও ইউএই মন্ত্রীদের সঙ্গে টিলারসনের সাক্ষাত

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন ইয়েমেন সংঘাতের ‘একটি রাজনৈতিক সমাধান’ নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ব্রিটেন, সৌদি আরব ও ইউএই’র পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র একথা জানায়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
খবরে বলা হয়, প্যারিসে ব্রিটেন দূতাবাসে ব্রিটিশ কূটনীতিক বরিস জনসন এ বৈঠকের আয়োজন করেন।
এর আগে টিলারসন ও জনসন রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার বিরোধী একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের যাত্রা শুরু করেন। বিশেষ করে সিরিয়াকে লক্ষ্য করে তারা এ উদ্যোগ নিলেন।
এ বৈঠকের প্রাক্কালে জনসন বলেন, ‘সিরিয়া ও ইয়েমেন সংঘাত বর্তমানে দু’টি বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।’

‘আলোচনার মাধ্যমে এ সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান ছাড়া এটার কোন সামরিক সমাধান নেই।’
ইয়েমেনে যে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে জাতিসংঘ এটাকে বিশ্বের সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।
দেশটিতে এ সংঘাতে ইতোমধ্যে ৯ হাজার ২শ’র বেশী মানুষ নিহত ও প্রায় ৫৩ হাজার লোক আহত হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.