হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া

'ট্রাম্পের হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরাইলের পতন শুরু হল'

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর প্রধান ইসমাইল হানিয়া বলেছেন, পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফিলিস্তিনি জনগণকে হুমকি দিতে চাইছে আমেরিকা ও ইসরাইল।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ইসরাইলের পতন শুরু হল।

হামাস নেতা বলেন, ইসরাইলকে স্বীকৃতি না দেয়া এবং প্রতিরোধ আন্দোলনকে সমর্থন করাসহ দুটি কৌশলকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে মারাত্মক প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু সারা বিশ্ব যদি বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় তাহলেও ফিলিস্তিনিরা তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আনবে না। চলমান পরিস্থিতিতে তিনি ফিলিস্তিনি জাতির মধ্যে ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের বায়তুল মুকাদ্দাস সফরের সময় হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া এসব কথা বললেন।

 

ট্রাম্পের আমলে সোমালিয়ায় ড্রোন হামলায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ নিহত

গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান

 

সোমালিয়ায় ইসলামি উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে মার্কিন ড্রোন হামলা নজিরবিহীন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এসব হামলায় দেশটির অসংখ্য বেসামরিক লোকজন নিহত হয়েছে। এই মার্কিন ড্রোন হামলা দেশটিতে ইসলামি উগ্রপন্থীদের প্রতি সমর্থন জোরদার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল প্রকাশিত গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী রিপোর্টে এ কথা জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ব্যাপারে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপকতর পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে অঞ্চলটিতে মার্কিন ড্রোন হামলা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। গত ছয় মাসে কেবল সোমালিয়াতে ৩৪ দফা ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা ২০১৬ সালে সেখানে চালানো মোট ড্রোন হামলার দ্বিগুণেরও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদেশগুলোও ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী পূর্ব আফ্রিকার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দেশটিতে অনুরূপ বহু হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা দেশটির নিরীহ বেসামরিক লোকদের জন্য ভয়াবহ আতঙ্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ড্রোন হামলার শিকারদের বেশির ভাগই অসামরিক লোকজন। সোমালিয়ায় একটি ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য তৎপর আল-শাবাব ও আল-কায়েদার মতো উগ্রপন্থী গ্রুপগুলোর বিরুদ্ধে এক দশক ধরে হামলা চালানো হচ্ছে। গার্ডিয়ান গত ১২ মাসে চালানো বহু ড্রোন হামলার তথ্য সংগ্রহ করেছে। তারা তাদের তথ্যের সাথে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পশ্চিমা গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করে দেখেছেন। তারা স্থানীয় কর্মকর্তা, হাসপাতালের ডাক্তার ও প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতদের স্বজনদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে এই অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রণয়নে।

গত জুলাই মাসে এ ধরনের পাঁচটি হামলায় অর্ধশতেরও বেশি অসামরিক লোক হতাহত হয়। অন্তত দু’টি মার্কিন বিমান এসব হামলায় অংশ নিয়েছিল। গত ৬ ডিসেম্বর একটি গ্রামে ড্রোন হামলায় পাঁচজন বেসামরিক লোক নিহত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালের কর্মচারীরা জানান। গত অক্টোবরে ভাটির শাবেলে প্রদেশে অনুরূপ আরেকটি হামলায় আটজন অসামরিক লোক আহত হয়। তার আগের মাসে কেনিয়া সীমান্তের কাছে বোমাবর্ষণে চারজন রাখাল আহত হয়।

গত আগস্ট মাসে দক্ষিণের জুবাল্যান্ডে চালানো ড্রোন হামলায় একই পরিবারের সাতজন নিহত হয়। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা একথা জানান। অথচ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল যে নিহতদের সবাই সন্ত্রাসী। এর এক মাস আগে তিনটি শিশুসহ চারজন নিহত ও আটজন আহত হয় দক্ষিণের কিসমিয়ো বন্দরের কাছে একটি গ্রামে ড্রোন হামলায়। হতাহতদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা একথা জানান।

ড্রোন হামলায় কেবল মানুষ নয় বিপুলসংখ্যক গবাদিপশুও প্রাণ হারায়। এতে দেশটির কৃষি অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে মার্কিন ড্রোন হত্যার ঘটনা নজিরবিহীন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশটিতে ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত চালানো ৭৪টি ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছে ৫৭ জন আসামরিক লোক। এর মধ্যে মাত্র ১৪টি ছিল ‘মার্কিন সমর্থিত’। এর মধ্যে ৪২ জনের হত্যর জন্য কেনিয়ার বাহিনীকে দায়ী করা হয়েছে। সোমালিয়ায় মোতায়েন ২২ হাজার সদস্যের আফ্রিকান সামরিক জোটে বহু সৈন্য ও তিনটি হেলিকপ্টার জোগান দিয়েছে। কেনিয়ার বাহিনী সীমান্ত এলাকায় নিজস্ব অভিযান চালাচ্ছে বলে মনে করা হয়। তবে নাইরোবি এ ধরনের তৎপরতার কথা অস্বীকার করে আসছে। আল শাবাবও মাঝে মধ্যে বেসামরিক লোকজনের হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে বলে থাকে। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকার গভীরের এসব ঘটনা যাচাই করা বেশ কঠিন। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ড্রোন হামলা ব্যাপক বেড়ে গেছে। তিনি কমান্ডারদের হামলার নির্দেশ দেয়ার অধিকতর ক্ষমতা প্রদান করেছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.