ঢাকা, সোমবার,২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজনীতি

রাজনীতিক থেকেই রাষ্ট্রপতি

জাকির হোসেন লিটন

২৪ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ০৬:০৭


প্রিন্ট
মো: আবদুল হামিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ

মো: আবদুল হামিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ

দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এ পদে আবারো কোনো রাজনীতিক নাকি রাজনীতির বাইরের কেউ আসছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। রাষ্ট্রপতি হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্রপতিই দ্বিতীয় মেয়াদে বহাল থাকছেন নাকি তার জায়গায় নতুন কেউ আসছেন সেটি নিয়েও নানা গুঞ্জন রয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতি পদটি আপাতত রাজনীতির বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে আভাস দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকেরা।

আগামী ২৪ এপ্রিল বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই হিসাবে, ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে ২৪ জানুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এদিকে নির্বাচন কমিশন বলেছে তারা আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করবে।

দল ও সরকারের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে এ মুহূর্তে আলোচনায় তিনটি নাম রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের নামও রয়েছে।  তবে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কি না, তা নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতার ওপর। এরপরই রয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম। তিনি যদি কোনো কারণে অনীহা প্রকাশ করেন তবে বিকল্প হিসেবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের নামও রয়েছে সরকারের পছন্দের তালিকায়।

দলের অন্য একটি সূত্র জানায়, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক ঢাবি ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের নামও কোনো কোনো মহলে আলোচনায় আছে। তবে অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ পদটি আওয়ামী লীগ সরাসরি রাজনীতির বাইরে কোনো সুশীল বা পেশাজীবীর হাতে দিতে চায় না। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের ওপর সরকারের হাইকমান্ড বেশ ক্ষুব্ধ। ফলে রাজনীতির বাইরে কেউ রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই নেই।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ দলের একজন প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিক। তার আমলে বিভিন্ন ইস্যু বাধাহীনভাবেই নিষ্পত্তি করে সরকার। সেজন্য আবারো রাষ্ট্রপতি হিসেবে জোর আলোচনায় রয়েছেন তিনি। তবে শারীরিকভাবে তিনি অসুস্থ। সেই কারণে তার বিকল্প হিসেবে আরেক প্রতিশ্রুতিশীল রাজনীতিক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম রয়েছে। এক-এগারোর চরম সঙ্কটকালীন মুহূর্তে শেখ হাসিনার পক্ষে জোর জনমত গড়ে তোলেন তিনি। পালন করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্বসহ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিভিন্ন দলের রাজনীতিকদের গুডবুকে রয়েছে তার নাম। তবে কোনো কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি না হলে বিকল্প হিসেবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল আজাদের নাম রয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নের জন্য দেশ ও দলের প্রতি আনুগত্য, ব্যক্তি ইমেজ এবং রাজনীতিকে বেশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে সরকার। সেজন্য সুশীল বা পেশাজীবী মহল থেকে কাউকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ, চলতি বছরেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সে সময় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করার বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এবং সব মহলে গ্রহণযোগ্য কোনো রাজনৈতিক নেতাকেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায় সরকার।

রাজনীতিক নাকি সুশীল সেই প্রশ্নে দলের মধ্যম সারির দু’জন নেতা বলেন, রাজনীতির বাইরে রাষ্ট্রপতি থাকায় ওয়ান-ইলেভেনের মতো ঘটনা ঘটেছিল। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই সুশীলসমাজ ও পেশাজীবী মহল থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে না।

এদিকে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা শিগগিরই জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। এরপরই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।
গত সোমবার বিকালে নির্বাচন কমিশনারদের এক জরুরি বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করতে কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপরই কমিশনের কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র তৈরিসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু করেন বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকে ভোটারদের তালিকা তৈরির জন্য সংসদ সচিবালয় থেকে এমপিদের নামের তালিকা সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত হয়। কে কোন দলের এমপি, সেই তালিকাও করার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম তৈরি করতেও নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে কমিশন সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কমিশন এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদের পাঁচ বছরের মেয়াদ এ বছরের ২৩ এপ্রিল শেষ হবে বলেও জানান তিনি।
কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশন ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলার সিদ্ধান্ত রয়েছে। সে হিসাবে চলতি অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫