ঢাকা, শুক্রবার,২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

সিলেট

সিলেটে প্রেমিক প্রেমিকার মৃত্যুর নেপথ্যে

এনামুল হক জুবের সিলেট ব্যুরো

২৩ জানুয়ারি ২০১৮,মঙ্গলবার, ০৬:৫৬


প্রিন্ট
সিলেটে প্রেমিক প্রেমিকার মৃত্যুর নেপথ্যে

সিলেটে প্রেমিক প্রেমিকার মৃত্যুর নেপথ্যে

সিলেট নগরীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে রোববার রাতে প্রেমিক-প্রেমিকার লাশ উদ্ধারের ঘটনা গতকাল নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার ‘হোটেল মেহেরপুর’-এর দ্বিতীয় তলার ২০৬ নম্বর কক্ষ থেকে রাত ১০টার দিকে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। রোববার দুপুর ১২টায় মুসলিম দম্পতি পরিচয়ে হোটেলের ওই রুমে উঠেছিল তারা। তাদের প্রকৃত নাম রুমী পাল (২৫) ও মিন্টু দেব (২৮)। রুমী জৈন্তাপুরের ব্র্যাক স্কুলের শিক্ষিকা এবং মিন্টু জগন্নাথপুরে রূপচাঁদা কোম্পানির এসআরো হিসেবে কর্র্মরত ছিলেন। তারা দুইজনই প্রেমিক-প্রেমিকা ছিলেন।

কোতোয়ালি থানার ওসি গৌছুল হোসেন জানিয়েছেন, তরুণের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। আর তরুণীর লাশ বিছানাতে শোয়ানো ছিল। লাশ দু’টি ময়নাতদন্তের পর গতকাল সোমবার বিকেলে তাদের নিজ নিজ আত্মীয়স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হওয়া হোটেলের ম্যানেজার আবদুল ওয়াদুদকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে ম্যানেজার আবদুল ওয়াদুদ বাদি হয়ে কোতোয়ালি থানায় এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। তবে বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে করে দেখছে বলে জানান ওসি। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, নিহতদের কক্ষে একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে। ওই নোটের নামের সাথে হোটেল কক্ষ ভাড়া নেয়া নামের মিল নেই। সুইসাইড নোটে আত্মহত্যার কথা লেখা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এই তরুণ-তরুণী একে অন্যকে ভালো বাসতেন। তরুণীর বিয়ে অন্যত্র ঠিক করেন তার পরিবারের লোকজন। বিষয়টি তাদের প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সে জন্য দুইজনই মৃত্যুর পথ বেছে নেন- প্রাথমিকভাবে এমনটি মনে করছে পুলিশ।
নিহত রুমী পাল সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট উজানীনগর গ্রামের মিলন পালের মেয়ে। আর মিন্টু দেব সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার জগন্নাথবাড়ি গ্রামের মতিলাল দেবের ছেলে। পুলিশ ধারণা করছে, মিন্টু দেব প্রথমে রুমী পালকে হত্যা করেছেন। পরে তিনি রুমীর ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পোস্টমর্টেমের পরে বোঝা যাবে হোটেল মেহেরপুরে আসলে কী ঘটেছিল?

ঘটনার নেপথ্যে : মিন্টু ও রুমী একে অন্যকে ভালো বাসতেন। রুমীর বিয়ে অন্যত্র ঠিক করেন তার পরিবারের লোকজন। বিষয়টি তাদের প্রেমে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারকে বুঝিয়ে-শুনিয়েও কাজ হচ্ছিল না। সেজন্যই দুইজন একসাথে আত্মহত্যার মতো দুঃখজনক পথে পা বাড়ান। একটি সূত্র জানিয়েছে, হোটেলে উঠার পর রোববার সন্ধ্যার দিকে রুমী পাল তার দুলাভাইয়ের মোবাইল ফোনে মেসেজ পাঠান। মেসেজটি ছিল এমন ‘হোটেল মেহেরপুরের ২০৬ নাম্বার কক্ষে আমরা আছি। আমরা আত্মহত্যা করছি...।’

মেসেজটি পেয়ে তিনি দ্রুত হোটেল মেহেরপুরে হাজির হন। রুমীর দুলাভাই হোটেল কর্তৃপক্ষকে রুমটি খোলার কথা বলেন। তখন তারা বলেন রুমে তো মুসলিম দম্পতি রয়েছেন। এভাবে রুমে ডাকা নিয়মের মধ্যে পড়ে না। পরে তিনি মোবাইল ফোনের মেসেজ দেখালে হোটেলের ম্যানেজার পুলিশকে বিষয়টি জানান। এরপর রুমে গিয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া মেলেনি। একপর্যায়ে পুলিশ দরজা ভেঙে ফেলে দেখতে পায় দু’টি লাশ।

ঘটনাস্থলে থাকা ওই দুলাভাইয়ের বরাত দিয়ে হোটেল সূত্রটি আরো জানায়, ‘মেয়েটির বিয়ে অন্যত্র ঠিক করেছিলেন তার পরিবারের লোকজন। বিষয়টি মানতে না পেরেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। এমনটি নাকি বলাবলি করছিলেন নিহত রুমী পালের দুলাভাই। যাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন রুমী।’

মিন্টুর অজানা তথ্য
হোটেল মেহেরপুরে আত্মহননকারী তরুণ মিন্টু দেব সম্পর্কে জানা গেছে অনেক অজানা তথ্য। প্রেমিকাকে হত্যা করার আগে সে শনিবার রাতে জগন্নাথপুর পৌর এলাকার বাপন নামের একজনকে কুপিয়ে আহত করে। বর্তমানে বাপন চিকিৎসাধীন আছে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। বাপনকে আহত করার পর মিন্টু চলে আসে সিলেটে। খবর দিয়ে প্রেমিকা রুমী পালকেও নিয়ে আসে সিলেটে। হোটেল কক্ষে ঠাণ্ডা মাথায় শ্বাস রোধ করে রুমীকে হত্যা করেছে বলে তার স্বজনেরা ধারণা করছেন।

জগন্নাথপুরের স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মিন্টু রূপচাঁদা কোম্পানির এসআরো হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দরিদ্র্র পরিবারের সন্তান মিন্টুর বাড়ি জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ‘জগন্নাথ বাড়িতে’। তারা দুই ভাই ও দুই বোন। এর মধ্যে এক বোন ছয়-সাত বছর আগে মারা গেছেন। জৈন্তাপুরের নিজপাট গ্রামে রুমী পালের বাড়ি হলেও জগন্নাথপুরে তাদের স্বজন রয়েছে। মিন্টুর সম্পর্কে রুমী মাসতুতো (খালাতো) বোন। সেখানে যাওয়া-আসার সুবাদে রুমীর সাথে তার সখ্য গড়ে উঠে। রুমী জৈন্তাপুরের ব্র্যাক স্কুলে চাকরি করতেন। সম্প্রতি রুমী পালের বিয়ে ঠিক হয়। প্রেমিক হিসেবে মিন্টু এটি মেনে নিতে পারেনি। এ জন্য রোববার দুপুরে রুমীকে সিলেটে এনে রাতে হোটেল কক্ষে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর নিজে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫