রসায়ন প্রথম অধ্যায় : রসায়নের ধারণা

প্রিয় ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিয়ো। আজ তোমাদের রসায়ন বিষয়ের ‘প্রথম অধ্যায় : রসায়নের ধারণা’ থেকে একটি নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন ও তার উত্তর নিয়ে আলোচনা করা হলো।
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও।
রেড হেমাটাইট একটি গুরুত্বপূর্ণ আকরিক। রেড হেমাটাইট থেকে ধাতু সংগ্রহ করে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। এই ধাতুটি নিষ্কাশনে জ্বালানি হিসেবে কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ধাতুর নিষ্কাশনে উপজাত হিসেবে বিভিন্ন গ্যাস পরিবেশে অবমুক্ত হয়। নিষ্কাশিত লোহা থেকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করা হয়।
ক. পেট্রোলিয়ামের দহন কী ধরনের পরিবর্তন?
খ. মরিচা কিভাবে সৃষ্টি হয়?
গ. উদ্দীপকের ধাতু নিষ্কাশনে রসায়নের সাথে কোন বিজ্ঞানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. প্রকৃতি থেকে সংগৃহীত বস্তু পরিবেশের ক্ষতি না করে মানুষের কাজে লাগাতে রসায়নের জ্ঞান অপরিহার্যÑ উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর : ক. পেট্রোলিয়ামের দহন রাসায়নিক পরিবর্তন।
খ. লোহা শক্ত কিন্তু মরিচা ভঙ্গুর। বিশুদ্ধ লোহা বাতাসের জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিতে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে। এতে ফেরাস অক্সাইড নামক নতুন পাদার্থের সৃষ্টি হয় যা মরিচা নামে পরিচিত।
গ. উদ্দীপকে লোহা নিষ্কাশনের কথা বলা হয়েছে। লোহা খুবই প্রয়োজনীয় ধাতব পদার্থ। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সর্বত্র এর ব্যবহার রয়েছে। লোহা প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় থাকে না, এটি আকরিক হিসেবে থাকে। আকরিক থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করে লোহা নিষ্কাশন করা হয়, যার জন্য যন্ত্রপাতি দরকার। যন্ত্রপাতি তৈরি করার জন্য পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা দরকার। সুতরাং লোহা নিষ্কাশনে রসায়নের সাথে পদার্থবিজ্ঞানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বাত্যা চুল্লিতে লোহার আকরিক থেকে লোহা নিষ্কাশন করা হয়। বাত্যা চুল্লির যন্ত্রপাতির ডিজাইন পদার্থবিজ্ঞানের প্রকৌশলীরা করে থাকেন। তা ছাড়া লোহার মান নিয়ন্ত্রণ ও বহুমুখী ব্যবহারের জন্য যে প্রযুক্তি দরকার তাও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পদার্থবিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট।
ঘ. উদ্দীপকে প্রকৃতি থেকে আকরিক সংগ্রহ করে তা থেকে ধাতু নিষ্কাশন করে কিভাবে নিরাপদে কাজে লাগানো যায় তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। এখানে লোহার আকরিক হিসেবে রেড হেমাটাইটের কথা বলা হয়েছে যার সঙ্কেত ঋব২ঙ৩।
এখন এ আকরিক থেকে লোহা নিষ্কাশনে রাসায়নিক দ্রব্য, যন্ত্রপাতি ও জ্বালানির বিষয় বিবেচনায় আনতে হবে। কী কী রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলে লাভজনকভাবে লোহা নিষ্কাশন করা যায়, জ্বালানি ব্যবহারে স্বাস্থ্য ও পরিবেশে কোনো ঝুঁকি থাকবে কিনা, উৎপাদিত পণ্যের মান সঠিক আছে কিনা এসব বিষয় বিবেচেনায় এনে কাজ করতে হবে। একজন দক্ষ রসায়নবিদ তার অর্জিত জ্ঞান ব্যবহার করে তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারেন। জ্বালানিতে ঘ ও ঝ যৌগ আছে কিনা তা দেখতে হবে। কেননা এগুলো থাকলে পোড়ানোর ফলে এদের অক্সাইড এসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে পরিবেশের ক্ষতি করবে। উৎপাদিত লৌহ সামগ্রীতে কার্বন বেশি থাকলে মরিচা পড়বে সেটাও বিবেচনা করতে হবে। আর এগুলো তখনই সঠিকভাবে করা সম্ভব যখন রসায়নের জ্ঞান থাকবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.