বাণিজ্যমেলায় প্রহসন
বাণিজ্যমেলায় প্রহসন

বাণিজ্যমেলায় প্রহসন

সাইফুল ইসলাম তানভীর

গত ৫ জানুয়ারি গিয়েছিলাম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায়। ছুটির দিন পেয়ে অনেকেই বাণিজ্যমেলায় গিয়েছিলেন। মেলায় প্রবেশের আগে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও জিপের পার্কিং ব্যবস্থা দেখে ভালোই লেগেছিল। মনে হচ্ছিল, আগের তুলনায় শৃঙ্খলা বেড়েছে। তবে ভেতরে প্রবেশ করে বেশ অস্বস্তিতে পড়লাম। আমার সাথে ছিল স্ত্রী এবং তার বোন ও তার বোনের স্বামী-সন্তান। বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণে প্রচণ্ড শব্দদূষণ হচ্ছিল। বহু মাইক লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন মাইকে বিভিন্ন রকম গান ও কথা অনবরত চলতেই থাকে। এত শব্দদূষণে দোকানিদের সাথে কথা পর্যন্ত বলা যাচ্ছিল না।

বলা যেতে পারে, এটা ছিল মারাত্মক একটি বিশ্রী পরিবেশ। এ রকম দুঃসহ দূষণে কিভাবে একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বাণিজ্যমেলা সফল হতে পারে? মাইক লাগিয়ে এত জোরে গানবাজনা বাজিয়ে কি ব্যবসা বাড়ানো যায়? মনে হচ্ছে না যে, এতে ব্যবসা বাড়ছে। প্রচারের প্রয়োজন আছে। বিজ্ঞাপনেরও প্রয়োজন। কিন্তু সেটা এ রকম বাজে পরিবেশ সৃষ্টি করে কেন করা হবে? শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্যও মাইকের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এটা নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে যাচ্ছে। শৃঙ্খলাও নষ্ট হচ্ছে। মেলা প্রাঙ্গণের টয়লেটের সামনে যুবকদের ভিড়। তারা সেখানে সিগারেট টানছে। এমনকি সামনেই সিগারেটের দোকান বসেছে। সিগারেটের ধোঁয়ায় সেখানে পরিবেশ আরো নোংরা দেখা গেল।

অনেক নারীকেও দেখলাম ওইরকম পরিবেশ দেখে ওয়াশরুমে আর গেলেন না। তাদের কেউ কেউ ওয়াশরুমে গিয়েও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন এরকম পরিস্থিতি দেখে। দুইজন পুলিশকে বললাম, ওয়াশরুমের কাছে কিছু লোকজন সিগারেট টানছে। তাদের ওখান থেকে সরিয়ে দিন। তারা বললেন, মেইন গেটের কাছ পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বলুন। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় ওই কন্ট্রোলরুমের পাশেই দেখলাম কয়েকজন যুবক সিগারেট টানছে। তখন এ বিষয়ে পুলিশকে বলার উৎসাহ হারিয়ে ফেলি।
মেলার মধ্যে খাবারের দোকানগুলোতেও দেখা গেল বেশ চেঁচামেচি। কর্মচারীরা চিৎকার দিয়ে কাস্টমার ডাকছে। কয়েকটি চার্ট দেখেছি। সেখানে যা দাম লেখা রয়েছে; সেটা অবশ্যই অতিরিক্ত বলতে হবে। সাধারণ মানুষের এত উচ্চমূল্য দিয়ে খাওয়ার ক্ষমতা নেই।

এরকম পরিস্থিতি জানান দিচ্ছে, দেশের সাধারণ মানুষ বড়ই প্রহসনের মধ্য রয়েছে। সাধারণ মানুষ মারাত্মক শোষণ-বঞ্চনার শিকার। অথচ এরকম শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে এই জাতি সংগ্রাম করেছে বহুবার। প্রকাশ্য জনসমাবেশে সিগারেট টানার বৈধতা আইনে আছে কি না। না থাকলে কিভাবে টানছে? খাবারের এত উচ্চমূল্যের অনুমতি কি আইনে আছে? না থাকলে কিভাবে এত উচ্চমূল্য? শব্দদূষণের এমন বৈধতা আইনে না থাকলে কেন শব্দদূষণ ঘটানো সম্ভব হচ্ছে?

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.