নারায়ণগঞ্জে সম্প্রতি সংঘর্ষের সময় গুলি করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশের সেক্রেটারি শাহ নিজাম।  : সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জে সম্প্রতি সংঘর্ষের সময় গুলি করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও কমিউনিটি পুলিশের সেক্রেটারি শাহ নিজাম। : সংগৃহীত

না’গঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্র নিয়ে আলোচিত কয়েকজন

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জে হকার উচ্ছেদ নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে আলোচিত হচ্ছেন বেশ কয়েকজন। যদিও ফলাও করে একজনের নাম প্রচার হচ্ছে। কিন্তু সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে উভয়পক্ষই বিভিন্ন জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলছেন। অভিযোগ তুলছেন একে অপরের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তা খণ্ডন করেছেন কেউ কেউ। তবে চার জনের নাম উঠে এসেছে উভয় শিবির থেকে। অথচ এ বিষয়ে তদন্ত ছাড়া অন্য কোনো পদক্ষেপের কথা স্বীকার করছে না পুলিশ। একটি জিডি এবং একটি অভিযোগ ছাড়া গত মঙ্গলবারের ঘটনায় চার দিন পার হলেও কোনো পক্ষ, এমনকি পুলিশও কোনো মামলা করেনি।
যে চারজন অস্ত্র উঁচিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেনÑ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম আবু সুফিয়ান, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ও সুমন। এর মধ্যে নিয়াজুল ও শাহ নিজাম নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও সহচর অন্য দু’জনের মধ্যে এ কে এম আবু সুফিয়ান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ঠিকাদার এবং মেয়র আইভীর সমর্থক, চতুর্থ জন সুমনের দলীয় পরিচয় পাওয়া না গেলেও আইভীর সমর্থক হিসেবে তাকে তুলে ধরে অভিযোগকারীরা।
অভিযোগকারীরা বলেন, মেয়র আইভীর নেতৃত্বে লোকজন যখন শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মুক্তি হাসপাতালের সামনে আসে, তখন নিয়াজুল তাদের গতিতে বাধা দেয়। এ সময় মার খেয়ে নিয়াজুল যখন ফিরে যান, খবর পেয়ে শাহ নিজামের নেতৃত্বে বহু লোক চাষাঢ়া থেকে দৌড়ে এসে হক প্লাজার সামনে দাঁড়িয়ে অস্ত্র বের করে উপর্যুপরি গুলি ছোড়ে।
এ দিকে ছবিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিয়াজুলের অস্ত্র উঁচানোর ছবি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি চিকিৎসা নিতে পাশের দেশ ভারতে চলে গেছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
অপর দিকে আবু সুফিয়ান কোনো অস্ত্র নয়, হাতে মাফলার ধরেছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন আইভীর ঘনিষ্ঠ সহচর নারায়ণগঞ্জ প্রেস কাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম।
এ দিকে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহ নিজাম দাবি করেছেন তিনি মেয়র আইভী এবং তার অনুসারীদের ওপর কোনো রকম হামলা করেননি। বরং ঘটনার পরের দিন সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ প্রেস কাবের সামনে মানববন্ধনে প্রেস কাব সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম শাহ নিজামকে গ্রেফতারের দাবি করায় শাহ নিজাম অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুমকে উন্মাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে শামীম ওসমান বলেন, বিএনপি ক্যাডার ও জোড়া খুনের আসামি বেষ্টিত হয়ে আইভীর মিছিল থেকে গুলি করা হয়েছে। তাদের মিছিল চাষাঢ়ায় আসার পর সুমন নামে একজনকে গুলি করতে দেখা গেছে। তার সাথে থাকা সুফিয়ানকেও (জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) দেখলাম অস্ত্র বের করে গুলি করতে। কিন্তু এগুলো মিডিয়াতে আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিয়াজুলের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়াজুল আমার পরিচিত। তিনি বিশাল বড় মার্কেটের মালিক। সে সুইটের ভাই যাকে বিএনপির সময় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছিল। এটা কি তার দোষ? তার হাতে পিস্তল দেখা গেলেও পরীক্ষা করা হোক এই পিস্তল থেকে গুলি করা হয়েছে কি না।
একই দিন সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশে হামলা হয়েছে। আগের দিন ঘোষণা দিয়ে হামলা করিয়েছেন শামীম ওসমান। 
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও র‌্যাবের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যেসব ব্যক্তি অস্ত্র প্রদর্শন করেছে সেগুলোর ফুটেজ ও ছবি সংগ্রহ করে পর্যালোচনা চলছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এ দিকে গতকাল ‘বাসযোগ্য নারায়ণগঞ্জ গঠনে বাধাদানকারী সন্ত্রাসীদের রুখে দাঁড়ান’ ব্যানারে মানববন্ধন করে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট। ওই মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে অস্ত্র প্রদর্শনকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.