ঢাকা, বুধবার,২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ক্রিকেট

৬৬ রান করলেই যে সব কিংবদন্তিকে পেছনে ফেলবেন তামিম

নয়া দিগন্ত অনলাইন

২০ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১২:০৩ | আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০১৮,শনিবার, ১২:১০


প্রিন্ট
ব্যাট করছেন তামিম ইকবাল

ব্যাট করছেন তামিম ইকবাল

ধারাবাহিক পারফরমেন্সে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে তিন ফরম্যাটে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তামিম ইকবাল। তার সামনে এখন হাতছানি দিচ্ছে আরো একটি বড় মাইলফলক। ওয়ানডেতে ১৭৬ ম্যাচ খেলে ৫৯৩৪ রান করেছেন এই ড্যাশিং ওপেনার। আর মাত্র ৬৬ রান করলেই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ওয়ানডেতে করবেন ছয় হাজার রানের মাইলফলক।

ত্রিদেশীয় সিরিজে ফাইনালের আগে আরো দুটি ম্যাচ খেলবেন তামিম। যদি দুই ম্যাচে ৬৬ রান করতে পারেন তাহলে দ্রুততম ছয় হাজার নেয়ার দৌঁড়ে পিছনে ফেলবেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি, রস টেইলর, মাইকেল বেভান, মোহাম্মদ ইউসুফ, রাহুল দ্রাবিড়, এডাম গিলগিস্ট, মাইকেল ক্লার্ক, জাবেদ মিয়াদাদ, ইনজামুল হক, মারবান আতাপাত্তু, হার্সাল গিবস, কুমার সাঙ্গাকারা, বিরেন্দ্র সেহওয়াগ, যুবরাজ সিং, সিবনায়ারন চন্দরপল, তিলকারত্নে দিলশাল, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, অর্জুনা রানাতুঙ্গে, ইউনিস খান, সানাথ জয়সুরিয়া, মাহেলা জয়াবর্ধনে, স্টিফেন ফ্লেমিং, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, স্টিভ ওয়াহ, এল্যান বোর্ডারদের মত কিংবদন্তিদের।

গত তিন বছরে তামিমের ব্যাটিং গড় ৫৫.৭৭। ৪১ ম্যাচ খেলে ৪০ ইনিংসে রান ১৯৫২। এই সময়ের হিসাবে শীর্ষ ব্যাটসম্যান ভারতীয় তারকা বিরাট কোহলির ৫৬ ম্যাচে ৫৬ ইনিংসে মোট রান ২৮২২, গড় ৬৪.১৩। ডি ভিলিয়ার্সের ৬৪.০২ গড়ে ২৩০৫, ৫০ ম্যাচে এই দু'জনের চেয়ে কম ম্যাচ খেলে তামিম কিন্তু খুব বেশি পিছিয়ে নেই।

২০১৫ থেকে এ পর্যন্ত ১৫ কিংবা এর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে ব্যাটিং গড় হিসাবে তামিমের অবস্থান ৭ নম্বরে। বাংলাদেশী তারকার ওপরে অবস্থান ফ্যাফ ডু প্লেসি, ডেভিড ওয়ার্নার, জো রুট, রোহিত শর্মা, ডি ভিলিয়ার্স ও কোহলির।

গত তিন বছরে এই ৪১ ম্যাচে তামিমের সেঞ্চুরি পাঁচটি, ফিফটি ১৩টি। কোহলি ৫৬ ম্যাচে ১২টি ফিফটি পেলেও তার অর্ধশতগুলো সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করার হার অনেক বেশি- তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন ১১ বার।

অন্যদিকে ১১টি ফিফটির বিপরীতে ডি ভিলিয়ার্সের সেঞ্চুরি সাতটি। ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার দুই তারকার সমান ম্যাচ খেলতে পারলে তার গড়ও বাড়তে পারত, মোট রানও বাড়তে পারত।

কিন্তু একটা জায়গায় তামিম অন্যদের তুলনায়, বিশেষ করে ওপেনারদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে থাকবেন- ফিফটিগুলোকে তার সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করার সুযোগ অন্যদের চেয়ে বেশি। নির্দিষ্ট করে বললে এই সুযোগ তার কোহলি ও ডি ভিলিয়ার্সের চেয়েও বেশি।

এক ম্যাচে টাইগারদের অনেক রেকর্ড

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচে একের পর এক ব্যক্তিগত কীর্তিতে নিজেদের রাঙিয়ে নিয়েছেন টাইগার ক্রিকেটাররা। তামিম ইকবাল-সাকিব আল হাসান-এনামুল হক বিজয়-সাব্বির রহমানদের দিনে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন মুশফিকুর রহিমও। প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে এ দিন ৩০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়লেন জাতীয় দলের অপরিহার্য এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। মাইলফলকের এই ম্যাচে ভক্তকুলকে হতাশ করেননি মুশফিক। স্মরণীয় করে রাখলেন হাফ সেঞ্চুরি করে। মিডল অর্ডারে ৫২ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় ৬২ রানের ইনিংস উপহার দেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

২০০৫ সালের মে মাসে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিষেক হয় মুশফিকের। পরের বছর রঙিন পোশাকেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পথচলা শুরু তার। অভিষেকের পর থেকে এই ম্যাচ পর্যন্ত মুশফিক খেলেছেন ১৮০টি ওয়ানডে, ৫৮টি টেস্ট ও ৬১ টি-২০। সব মিলিয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ম্যাচটি ছিল মুশফিকের ১৮১তম ওয়ানডে ও ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের তালিকায় মুশফিকের পরই আছেন সাকিব। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার এখন পর্যন্ত খেলেছেন ২৯৪টি ম্যাচ। গতকালের বিশাল জয়ের ওই ম্যাচসহ ২৮৭টি ম্যাচ খেলে তালিকার তৃতীয় স্থানে তামিম ইকবাল। চতুর্থ স্থানে থাকা মাশরাফি বিন মুর্তজা খেলেছেন ২৭৩টি ম্যাচ। আর মোহাম্মদ আশরাফুল ২৫৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে রয়েছেন পঞ্চম স্থানে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ দিন ম্যাচের শুরুতেই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১১ হাজার রান পূর্ণ করার কীর্তি গড়েন দেশসেরা ওপেনার তামিম। এর কিছুক্ষণ পর শাহরিয়ার নাফিসের সাথে যৌথভাবে দ্রুততম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন আরেক ওপেনার এনামুল হক বিজয়।

এই ম্যাচে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিবও ছুঁয়েছেন ১০ হাজার রানের মাইলফলক। বাদ যাননি সাব্বিরও। ওয়ানডেতে ১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যানও। এত রেকর্ডের মধ্যে সাবেক অধিনায়ক মুশফিকও গড়লেন ৩০০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অনন্য এই কীর্তি।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫