রাশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টায় আমেরিকা : অভিযোগ মস্কোর
রাশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টায় আমেরিকা : অভিযোগ মস্কোর

রাশিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টায় আমেরিকা : অভিযোগ মস্কোর

নয়া দিগন্ত অনলাইন

আমেরিকা রাশিয়ার সরকার বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে সেদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায় বলে অভিযোগ করেছে মস্কো। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে, মস্কোর মার্কিন দূতাবাস রাশিয়ার সরকার বিরোধী দলগুলোকে অর্থসাহায্য দিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা থেকে ‘ওপেনফিড’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালানো হয় যেটি নিজেকে নিউজ পোর্টাল বলে দাবি করে। অথচ এটি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ওয়েবসাইটটি আমেরিকা ও কানাডার রুশ কূটনৈতিক মিশনগুলোর পাশাপাশি আমেরিকায় নিযুক্ত বর্তমান ও সাবেক কূটনীতিকদের আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করে দেয়।

মার্কিন সরকারের মদদ ছাড়া একটি নিউজ পোর্টালের পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আমেরিকা ও কানাডায় নিযুক্ত রুশ কূটনীতিকদের দায়মুক্তির সুবিধা পাওয়ার যে কথা ছিল এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তা লঙ্ঘন করেছে আমেরিকা। কাজেই আমেরিকার পক্ষ থেকে এসব তথ্য প্রকাশ করে অপরাধ করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

মার্কিন নিউজ পোর্টাল ‘ওপেনফিড’ বুধবার এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তারা রুশ কূটনীতিকদের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখেছেন। প্রতিবেদনে কয়েকজন রুশ কূটনৈতিকের লেনদেন সংক্রান্ত ব্যাংকের কাগজপত্র প্রকাশ করে দেয়া হয়।

আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি দেশটির ডেমোক্র্যাট পার্টি অভিযোগ করছে, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিতিয়ে দিযেছে। রাশিয়া অবশ্য বহুবার এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। সোমবার ল্যাভরভ তার বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র ভর্ৎসনা দিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতি নিয়ে একগাদা অভিযোগ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ওপর শিগগিরই নতুন নিষেধাজ্ঞা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাশিয়া বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ল্যাভরভ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমাগত উত্তর কোরিয়া ও ইরানকে হুমকি দিচ্ছে। এতে করে বিশ্ব পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।

ল্যাভরভ তার বক্তব্যে ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি। তবে ট্রাম্প বরাবরই উত্তর কোরিয়া ও ইরানের উদ্দেশে একের পর এক ক্ষুব্ধ টুইট করেছেন এবং দু’দেশের নেতার কড়া সমালোচনাও করেছেন। পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জন উনকে টুইটারে প্রকাশ্যেই মশকরা করেছেন ট্রাম্প। দিয়েছেন সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও। এসব হুমকি-ধমকি দেয়া এবং উত্তর কোরিয়ার আশপাশে ঘন ঘন সামরিক মহড়ার মধ্য দিয়ে কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যাভরভ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.