ভারত-ইসরাইল আঁতাতে ভয় পায় না পাকিস্তান : খাজা আসিফ
ভারত-ইসরাইল আঁতাতে ভয় পায় না পাকিস্তান : খাজা আসিফ

ভারত-ইসরাইল আঁতাতে ভয় পাকিস্তানের!

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, ভারত ও ইসরাইল অভিন্ন অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলছে। তবে পাকিস্তান একে ভয় পায় না। দেশটির বেসরকারি টিভি চ্যানেল জিও টিভির ‘ক্যাপিটাল টক’ নামের টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

খাজা আসিফ বলেন, নিজের সুরক্ষার সামর্থ্য পাকিস্তানের রয়েছে। ভারত-ইসরাইলকে মুসলমানদের ভূখণ্ড দখলকারী আখ্যা দিয়েছেন আসিফ। ভারত-ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ইসরাইলি সরকারপ্রধান হিসেবে ছয় দিনের জন্য রোববার ভারত এসেছেন নেতানিয়াহু। সোমবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর সাইবার নিরাপত্তাসহ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে চুক্তি হয়। পাকিস্তানের বেসরকারি টিভি চ্যানেল জিও টিভির ‘ক্যাপিটাল টক’ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত ও ইসরাইল উভয় দেশই মুসলমানদের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে। ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের বিশাল এলাকা আর ভারত কাশ্মিরের মুসলিমদের ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতির মার্কিন সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানে জাতিসঙ্ঘের ভোটে ফিলিস্তিনের প নিয়েছে ভারত। তবে খাজা আসিফ বলেছেন, পাকিস্তান কখনই ইসরাইলের অস্তিত্বকে মেনে নেয়নি, নেবে না। তিনি বলেন, মুসলমানদের প্রতি শত্রুতাই ভারত-ইসরাইলের বন্ধুত্ব ও আঁতাতের মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে পাকিস্তানি জাতির ভাবাবেগ জড়িত। আর কাশ্মির ইস্যুটির সাথে পাকিস্তানের অস্তিত্ব জড়িত। পাকিস্তানের সামরিক সমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সশস্ত্রবাহিনী সর্বশক্তি দিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আর এর মধ্য দিয়ে আমাদের আত্মরার মতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।]

এর আগে পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আড়ালে ভারত ও ইসরাইল যে আঁতাত গড়ে তুলছে তার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে পাকিস্তান।

ভারত ও ইসরাইলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছরের মধ্যে উভয় দেশ একে অন্যের এত কাছাকাছি এর আগে আর কখনো হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। প্রচলিত কূটনৈতিক প্রোটোকলের সব বিধি ভেঙে নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে গিয়ে যেভাবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেন, সেটি যেন বন্ধুত্বের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়ালো। একই ঘটনা ঘটেছিল গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন ইসরাইল সফরে গিয়েছিলেন। সেখানেও মোদি-নেতানিয়াহুর আলিঙ্গন হয়েছিল।

একে অন্যের নাম ধরে ডাকা, সস্ত্রীক নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নৈশভোজে আমন্ত্রণ করা- এই আন্তরিকতা, এই শরীরী ভাষা শুধু দুই দেশের নয়, দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কেও যোগ করেছে নতুন মাত্রা।

দূরপাল্লার পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা ভারতের

টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি
ভারত পরমাণু ওয়ারহেডবাহী দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্র অগ্নি-৫’র সফল পরীা চালিয়েছে। এটিই ভারতের পেণাস্ত্র ভাণ্ডারের সবচেয়ে আধুনিক ও কার্যকর মারণাস্ত্র।

ভারতের প্রতিরা মন্ত্রলালয়ের এ সংক্রান্ত এক টুইট বার্তায় বলা হয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পূর্বাঞ্চলীয় উড়িষ্যা রাজ্যের আবদুল কালাম দ্বীপের অদূরে পেণাস্ত্রটির সফল পরীা চালানো হয়। ভারতীয় প্রতিরা মন্ত্রণালয়ের মতে, এর মধ্য দিয়ে ভারতের প্রতিরা-সমতা এক লাফে অনেক দূর এগিয়ে গেল।

নয়াদিল্লিভিত্তিক প্রতিরা বিশ্লেষক ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্নেল অজয় শুকার মতে, এশিয়ায় ভারতের প্রধানতম সামরিক প্রতিপ চীনের বিশাল ভূখণ্ডের প্রতি ইঞ্চি এলাকা এখন এই পেণাস্ত্রের আওতায় চলে এলো। পরীা-নিরীার জটিল প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ ভারত যেভাবে একে একে সফলতার সঙ্গে পেরিয়ে যাচ্ছে তা বেশ চোখে পড়ার মতো। তবে এই দাবির সঙ্গে কিছুটা দ্বিমত করলেন এমআইটির গবেষক বিপিন নারাং। তিনি বলেন, এটা নতুন কোনো সমতা নয়, বরং পেণাস্ত্র বহরে সংযোজনের আগে পেণাস্ত্রটির আগের অবস্থার উন্নয়ন মাত্র।
পরীা-নিরীার একাধিক ধাপের মধ্যে একটি ধাপের অগ্রগতি বলা যায় একে। ফেডারেশন অব অ্যামেরিকান সায়েন্টিস্টের মতে, ‘ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারে ১২০ থেকে ১৩০টি পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে। ’

উল্লেখ্য, ভারত ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত পরমাণু ওয়ারহেডবাহী এই আন্তঃ মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক পেণাস্ত্রটির পাঁচটি পরীা চালিয়েছে। এর আগের সর্বশেষ পরীাটি চালানো হয়েছিল ২০১৬ সালে ডিসেম্বরে।

ভারতের সব মারণাস্ত্র ও পেণাস্ত্রের মূল নিশানা বৈরী দেশ চীন ও পাকিস্তান। প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সব সময়ই টানাপোড়েন ও উত্তেজনার। এর আগে দুই দেশ যুদ্ধেও জড়িয়েছে। সাম্প্রতিককালেও দোকলাম নিয়ে দুই দেশের বাহিনী টানা ৭০ দিন পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থান নেয়। অগ্নিনির্ভর কালকের সফলতা সে দিক থেকে চীনের জন্য ভারতের সামরিক সমতা বৃদ্ধিরই জোরালো বার্তা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.