ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আরো খবর

বুয়েটের ৩ শিক্ষককে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জানুয়ারি ২০১৮,শুক্রবার, ০০:২৩


প্রিন্ট
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করা এবং এক ছাত্রকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির তিন সদস্যকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম সাহিদুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
তিন শিক্ষক হলেন- তড়িৎ ও ইলেকট্র্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও কমিটির আহ্বায়ক ড. মো: কামরুল আহসান, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও কমিটির সদস্য ড. মো: মাকসুদ হেলালী এবং পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ। তাদের ২৪ জানুয়ারি হাইকোর্টে এসে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। 
২০১৫ সালে র‌্যাগিংয়ে ইভটিজিংয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিন ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন আবাসিক হল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার ও পরীক্ষায় অংশ নেয়া বিষয়ক একটি শাস্তি দেয়।
এর বিরুদ্ধে ওই সময়ে তিন ছাত্রী হাইকোর্টে রিট করেন। তাদের পে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন।
আলতাফ হোসেন জানান, র‌্যাগিংয়ের সময় ওই তিন ছাত্রী এক ছাত্রের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ করেন। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। ওই কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেয়। এ দিকে তারা বিভিন্ন চাপে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিলেও ২৭ জুলাই তাদের শাস্তি দেয়া হয়।
ওই শাস্তির আদেশে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইভটিজিংয়ের বিষয়ে তোমার দাখিল করা লিখিত অভিযোগপত্রের পরিপ্রেেিত ঘটনা তদন্তের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ এবং বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনের সামনে তোমার বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধ নির্ধারণপূর্বক অর্ডিন্যান্স রিলেটিং টু দ্য বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন-এর ৫ এবং ২৪ ধারা অনুযায়ী সর্বসম্মতভাবে তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করে নি¤œবর্ণিত শাস্তি দেয়া হয়েছে।
এক. তোমাকে চলতি টার্মসহ পরবর্তী দুই টার্মের জন্য (মোট তিন টার্ম) একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করা হলো। দুই. তোমাকে আবাসিক হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হলো/আবাসিক ছাত্রী হওয়ার অনুপযুক্ত।
তুমি ইচ্ছা করলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ শাস্তি পুনর্বিবেচনা করার জন্য একাডেমিক কাউন্সিলে আপিল করতে পারবে। পরে একাডেমিক কাউন্সিলে আপিলের পরও শাস্তি বহাল রাখা হয়েছে বলে ২ আগস্ট এক চিঠিতে জানান রেজিস্ট্রার। 
আলতাফ হোসেন জানান, তাদের এ শাস্তি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনলোজি অর্ডিন্যান্স ১৯৬১-এর ধারা ৬ এর লঙ্ঘন। ফলে ওই শাস্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করলে ওই বছরের আগস্টেই হাইকোর্ট তাদের শাস্তি স্থগিত করে রুল জারি করেন। সেই রুলের শুনানি গতকাল রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বুয়েটের আইনজীবীর উপস্থাপিত ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় সত্যতা মেলে। এ কারণে প্রতিবেদনের বিষয়ে তদন্ত কমিটির তিন সদস্যকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫