জাতীয়করণ দাবিতে এমপিও শিক্ষকদের অনশন অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে আমরণ অনশন অব্যাহত রেখেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। দাবি আদায় এবং এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে সুষ্পষ্ট ঘোষণা ছাড়া চলমান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম রনি।

তিনি আজ নয়া দিগন্তকে বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় যে বৈষম্য সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে, তার অবসান ঘটাতেই রাজপতে শিক্ষকরা। এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।

তিনি জানান, গত চার দিন প্রতিকূল পরিবেশে বিশেষ করে প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও শিক্ষকরা রাজপথে অবস্থান করছেন। সরকারের কোনো মহল বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কেউ অনশনরত শিক্ষকদের খোঁজ পর্যন্ত নেয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।

তিনি নয়া দিন্তকে আরো বলেন, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় যে বৈষম্য সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে, তার কারণেই শিক্ষা কাঙ্খিত মান উন্নয়ন হচ্ছে না। মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সরকারের ব্যয়ে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হবে না। সামান্য কিছু যুক্ত করা হলেই সম্ভব। কিন্তু সরকারের আমলারা সঠিত তথ্য-উপাত্ত না দিয়ে নীতি-নির্ধারকদের বিভ্রান্তি করছেন।

তিনি বলেন, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আগামী রোববার পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো। এরপর অনশনরত শিক্ষকরা কাফনের কাপড় পরিধান করে মিছিল করার কথা ভাবছেন। পরে আমরা মিছিল করে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের দিকে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৪র্থ দিনের মত অনশন পালন করছেন এমপিওভূক্ত শিক্ষকরা। তাদের এক দফা দাবি শিক্ষা জাতীয়করণ। জাতীয়করণের দাবিতে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত ১০ জানুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। এদিন থেকে গত ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরপর ১৫ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন। কর্মসূচি চলাকালে গত চারদিনে ৬৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের সবাইকে ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে উঠার পর তারা আবারও আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। অনেক শিক্ষকের শরীরে স্যালাইন লাগিয়েই তারা অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ছয়টি সংগঠন জোট ‘বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াঁজো ফোরামের’ ব্যানারে কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

অনশনরত শিক্ষকরা বলেন, দেশের ৯৭ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেসরকারিভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ তিন শতাংশ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। যারা এমপিও পাচ্ছেন, তাদের নামমাত্র ভাতা দেয়া হয়। অথচ একই কারিকুলামে পাঠদান এবং একই পাবলিক পরীক্ষায় সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই ভালো ফলাফল করছে। সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ফলাফল কখনোই বেসরকারিদের চেয়ে ভালো নয়। তারপরও বেসরকারি শিক্ষকরা সব ধরনের বৈষম্যের শিকার। এভাবে শিক্ষার মান উন্নয়ন ও মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, হবেও না।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.