ঢাকা, বুধবার,২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজনীতি

ব্যাংক লুটপাটের বৈধতা প্রদানকারী আইন বরদাশত করা হবে না : বাম নেতৃবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৯:০৩


প্রিন্ট

কোম্পানি আইন সংশোধনের প্রতিবাদে বামপন্থী নেতৃবৃন্দ পরিচালনা পরিষদে পরিবারতন্ত্র কায়েম করে ব্যাংক লুটপাটের বৈধতা প্রদানকারী আইন বরদাশত করা হবে না। তারা বলেন, এটা করা হয়েছে পরিচালকদের স্বার্থে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আজ এক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ করেন।

ব্যাংক-কোম্পানি আইন (সংশোধন)-২০১৭ সংসদে অনুমোদনের মাধ্যমে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় পরিবারতন্ত্র কায়েমের পাঁয়তারার অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আহুত প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত হয়।

সিপিবি’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানস নন্দী, বাসদ ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব জুলফিকার আলী, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জুলহাস নাইন বাবু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মমিনুর রহমান বিশাল।

সমাবেশ পরিচালনা করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য আকবর খান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের শেষ মুহূর্তে ব্যাংকের পরিচালকদের মেয়াদ ও সংখ্যা বিষয়ক সংশোধন এনে একক পরিবার থেকে দুইজনের পরিবর্তে চারজন এবং পরিচালকের মেয়াদ বিরতিহীন নয় বছর করা হয়েছে যা ব্যাংক খাতে পরিবারতন্ত্র কায়েম করবে।

তারা বলেন, পাকিস্তান আমলে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ পরিবার কেন্দ্রিক ছিল। হাবিব পরিবার, সায়গল পরিবার, রেঙ্গুনওয়ালা পরিবার, আদমজী পরিবার এক বা একাধিক ব্যাংকের মালিক ছিল। ব্যাংককে কেন্দ্র করে ‘বাইশ পরিবার’ পাকিস্তানের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করতো। বাইশ পরিবারের নিপীড়ন এবং ব্যাংকভিত্তিক ধনিকশ্রেণি যাতে গড়ে উঠতে না পারে সেকারণে আওয়ামী লীগ, ন্যাপসহ প্রগতিশীল দলসমূহ তাদের ৭০ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর ৭২ সালে পরিবারের মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো জাতীয়করণ করা হয়। ব্যাংক খাতকে পরিবারমুক্ত করা মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যক্তি খাতে ব্যাংকগুলোর পারিবারিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার জন্য ব্যাংক কমিশন এক পরিবার থেকে একজনের বেশি পরিচালক নিয়োগ না দেয়ার সুপারিশ করেছিল। ব্যাংক মালিকদের চাপে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ দুইজন পরিচালক বিধান চালু করেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ১৯৯৯ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন প্রবর্তিত হওয়ার পর গত ২৬ বছর আইনের পরিচালক বিষয়ক ধারাটি ছয়বার সংশোধিত হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে দলীয় তহবিল সংগ্রহের জন্য ব্যাংক মালিকদের থেকে অর্থ নিয়ে এই সংশোধন করা হয়েছে যা দেশে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করবে।

তারা এ আইনের মধ্য দিয়ে লুটেরা ধনিকশ্রেণির লুটপাটের যে উৎসব শুরু করবে নেতৃবৃন্দ তার বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫