ঢাকা, রবিবার,১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

আফ্রিকা

তিউনিশিয়ায় কলকাঠি নাড়ছে আমিরা আর ফ্রান্স!

আনাদোলু

১৮ জানুয়ারি ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ১৬:২৭


প্রিন্ট
তিউনিশিয়ায় কলকাঠি নাড়ছে আমিরা আর ফ্রান্স!

তিউনিশিয়ায় কলকাঠি নাড়ছে আমিরা আর ফ্রান্স!

তিউনিসিয়ার বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী আবু ইয়ারুব আল-মারজুকি বলেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফ্রান্স তাদের দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘিœত করার চেষ্টা করছে। তারা প্রতিবিপ্লবী শক্তিগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। ইস্তাম্বুলে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর সাথে এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবিপ্লবীরা আরব জনগণের ইচ্ছের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলে উল্লেখ করে মারজুকি বিপ্লবী আন্দোলনগুলোর একতাবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অবশ্য তার এ দাবির স্বপক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ দেননি, এমনকি প্রতিবিপ্লবীদের নামও উল্লেখ করেননি।

তিউনিসিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘তিউনিসিয়ায় বিক্ষোভ-সমাবেশ স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে তা অবশ্যই শান্তিপূর্ণ হতে হবে এবং নাশকতাকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।’ তিউনিস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরব ও গ্রিক দর্শনের অধ্যাপক মারজুকি জোর দিয়ে বলেন, তিউনিসিয়ার সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে না।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিপ্লবের পক্ষের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবিপ্লবীদের মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে ব্যর্থ হলে বিপ্লবের আদর্শ মুখ থুবড়ে পড়বে। সরকারের ব্যয় সঙ্কোচন নীতি ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পর দেশটিতে যে প্রচণ্ড প্রতিবাদ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় তা এখন স্তিমিত হয়ে আসছে। বিক্ষোভে উসকানি দেয়ার অভিযোগে ৭০০ জনকে আটক করা হয়েছিল বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়। ১৯৪৭ সালে জন্মগ্রহণকারী মারজুকি ইসলামি চিন্তাধারা ও সভ্যতার ওপর বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। এসব গ্রন্থ ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

ইয়েমেনে চলতি বছরেই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা

রয়টার্স
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে এ বছরই ভয়াবহ দুর্ভি নেমে আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে ত্রাণ সংস্থাগুলো। দুর্ভি নিয়ে কাজ করা মার্কিন সংস্থা ফেমিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক জানায়, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে লোহিত সাগরের দুই বন্দরে অবরোধ চলতে থাকলে দুর্ভি নেমে আসতে পারে।
২০১৮ সালের জুলাইয়ে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ ুধার্ত থাকবে। এর আগে জাতিসঙ্ঘ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল, দেশটিতে বিশ্ব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুর্ভি দেখা দিতে পারে। এরই মধ্যে দুর্ভি ও মহামারী নেমে এসেছে দেশটিতে। নতুন করে সেখানে অবরোধ আরোপে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসঙ্ঘ।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইয়েমেনে ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বসবাস। তাদের আমদানির ৮৫ শতাংশই থাকে খাবার ও ওষুধ। মানবিক দিক বিবেচনা করে ৩০ দিনের জন্য সোমবার বন্দর খুলে দেয়া হয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইয়েমেনের পরিচালক স্টিফেন এন্ডারসন বলেছেন, তিনি সন্দিহান যে বন্দরের অবস্থা এমন থাকবে কি না।

এক সাাৎকারে তিনি বলেন, ‘বন্দরগুলো আবার বন্ধ হয়ে গেলে অনেক মানুষ মারা যাবে। ইয়েমেনিরা যুদ্ধ, খাবার স্বল্পতা, জ্বালানি ও খাবারের দামের ঊর্ধ্বগতি, কলেরা ও ডিপথেরিয়ায় মহামারীর সমস্যায় জর্জরিত।’

জাতিসঙ্ঘের এপ্রিলের পরিসংখ্যানেই ইয়েমেনে অন্তত ৩৩ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ২১ লাখ। ৫ বছরের নিচের ৪ লাখ ৬০ হাজার শিশু অপুষ্টিজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। মোট নাগরিকের ৫৫ শতাংশই ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত। কলেরা সেখানে মহামারী আকারে হাজির হয় কিছু দিন আগে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫