নদী বয়ে যায় কবিতায়

[গত সংখ্যার পর]

নদীবিধৌত বাংলাদেশে নদী যেন নদীতীরের মানুষগুলোর জীবনের স্বরলিপি; কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় নদীর রূপ-লাবণ্য লালন করেছেন হৃদয় গহিনে। কাব্যিক ব্যঞ্জনায় নদী পেয়েছে ভিন্ন এক রূপ। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় দেখব নদীর বহুমাত্রিকতা। নদীর সাথে জীবনের সমীকরণ যেনÑ
১.
একদিন জলসিঁড়ি নদীটির পারে এই বাংলার মাঠে
বিশীর্ণ বটের নিচে শুয়ে রবো। পলাশের মতো লাল ফুল
ঝরিয়ে বিজন ঘাসে। বাঁকা চাঁদ জেগে রবে নদীটির জলে
[রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থের ‘একদিন জলসিঁড়ি’ অংশবিশেষ]
২.
নদী তুমি কোন কথা কত্ত?
তুমি যেন ছোট মেয়ে আমার সে ছোট মেয়ে
যতদূর যাই আমি, হামাগুড়ি দিয়ে তুমি পিছে পিছে আস
তোমার ঢেউয়ের শব্দ শুনি আমি, আমার নিজের শিশু সারাদিন
নিজ মনে কথা কয় (যেন)
কথা কয়Ñ কথা কয়Ñ ক্লান্ত হয় নাকো
এই নদী
[অগ্রন্থিত কবিতা/ নদী]
৩.
আমার বুকের কাছে নদী
ছোটেছিল কবে যেন, এখন এয়োতি
মহিলার মতো কালো ছল ভরা জলে
সময় ও প্রাণসাগরের-প্রাণসাগরের কথা বলে
[অগ্রন্থিত কবিতা/জন্মতারকা]
৪.
আমাকে সে নিয়েছিল ডেকে;
বলেছিল : ‘এ নদীর জল
তোমার চোখের মতো মøান বেতফল;
সব ক্লান্তি বিহ্বলতা থেকে
স্নিগ্ধ রাখছে পটভূমি
এই নদী তুমি।
[অগ্রন্থিত কবিতা/আমাকে সে]
জীবনানন্দ দাশের কবিতায় নদী আর শেষ পর্যন্ত নদী থাকেনি। কবির নিত্য চেনাজানা সন্তানের মতোই কত শত কথা তার, সারাক্ষণ কবির পিছু পিছু কবিকে সঙ্গ দেয়া নিজের শিশুটির মতো কবির দৃষ্টিতে একদিন সে বিশালতা খুঁজে পায়, নদীটি আর ছোট থাকে না, কবির ভাষায় ‘এখন এয়োতি।’
তবে কবি সৈয়দ আলী আহসান দেশ আর নদীর বিভাজন দেখতে নারাজ। নদীই দেশ, দেশই নদী।
এখানে নদীর মতো এক দেশ
শান্ত, স্ফীত, কল্লোলময়ী
বিচিত্ররূপিনী অনেক বর্ণের রেখাঙ্কন
এ আমার পূর্ব বাংলা
যার উপমা একটি শান্ত শীতল নদী
[আমার পূর্ব বাংলা/ সৈয়দ আলী আহসান]
কবির কবিতায় যত বিশেষণে নদী বিশেষায়িত হোক না কেন, মূলকথা নদী ছাড়া মানুষ অচল। বারবার ঘুরেফিরে নদীর কাছেই আমরা সমর্পিত। নদীও যেন অসীম মমতায় দু’হাত বাড়িয়ে দিয়েছে; নদীর সুশীতল ছায়ায় নদীর জলে মানুষ খুঁজে পাক প্রশান্তি; মেটাক তার তৃষ্ণা। কবি আহসান হাবীব নদীকে তাঁর কবিতায় এভাবে তুলে ধরেছেন।
১.
তোমার কি মনে পড়ে- সেই নদী যে নদীর ঘাটে
হাজার বৎসর ধরে আমাদের একান্ত স্বজন বহুজন
ক্লান্ত মুখ ধুয়েছে এবং
বিশ্রামের সব সুখ নদীর জলের মতো গায়ে মেখে
ঘুমিয়েছে?
[সেই নদী/আহসান হাবীব]
২.
দু’পাশে ধানের ক্ষেত
সরু পথ
সামনে ধূ ধূ নদীর কিনার
আমার অস্তিত্বে গাঁথা। আমি এই উদাত্ত নদীর
মুগ্ধ এক আবোধ বালক।
[আমি কোনো আগন্তুক নই/ আহসান হাবীব]
নদীর কাছে মানুষের ঋণের কোনো শেষ নেই। নদী আমাদেরকে ঋণী করে রেখেছে। কবি বারবার সেই অপরিশোধ্য ঋণের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন। কবির মন-প্রাণ জুড়ে যে নদীর অস্তিত্ব তা কী করে ভুলে যাবেন তিনি? কেননা কবি তো নদীতীরে বেড়ে ওঠা অবোধ বালক।
কবি শামসুর রাহমান রূপসী নারীর আদলে নদীকে দেখেছেন। নদী কবিকে স্মৃতিকাতর করে প্রেয়সীর মতো ধরা দেয় কবির দৃষ্টিতে। কবিতার পৌরুষ উজাড় করে আলিঙ্গনে বাঁধতে চান প্রেয়সীকে। সহজেই পদ্ম ভ্রমণে স্টিমারের সহযাত্রী অষ্টাদশির প্রেমে পড়ে যান। অন্যসব যাত্রীর মতো তার প্রেমাষ্পদও একসময় স্টেশনে নেমে গেলে কবির কত কী মনে হয়। কবি উচ্চারণ করেন ‘মেঘনা আমার প্রিয়া, কেন এমন ব্যাকুল ডাকো বারবার?’
১.
একজন নদীর ভেতরকার নদী মেঘনাকে
বারবার দেখেছি তন্ময় হয়ে, এখনওতো দেখি
যেন সে রূপসী নারী। কখনো কখনো রূপ তার
এমনই মধুর প্রতারক যে হাজার হাজার হীরার
ঝলসানি দ্বিপ্রহরে অথবা জ্যোৎস্নার বর্ষা গান রাত্তিরে
অবিকল একই মনে হয়, ইচ্ছা জাগে তাকে
পৌরুষ উজাড় করে বাঁধি আলিঙ্গনে
মেঘনা আমার প্রিয়া, কেন এমন ব্যাকুল ডাকো বারবার?
[একজন নদীর উদ্দেশে/শামসুর রাহমান/মিজানুর রহমানের ত্রৈমাসিক পত্রিকা নদী সংখ্যা/ পৃষ্ঠা ৬]
২.
বিস্ময়ের স্তব্ধ তটে দাঁড়িয়ে দু’জনে
মুখোমুখি পদ্মার স্টিমারে
উন্মীলিত চোখের আকাশ
বিদ্যুতের মতো উঠলো জলে প্রিয় সম্ভাষের শিখা।
ডেকের রেলিং ধরে সেও পদ্মাপারের সুদূরে
এক ফোঁটা কাজল গাঁয়ের দিকে ধুধু শূন্য চরে
চেয়েছিল অপলক চোখে
জেলেদের সরল সরু ডিঙ্গি চলে গেল ঢেউয়ের আড়ালে।
[১৩৫৭’র একটি দিন/শামসুর রাহমান কবিতা সমগ্র/পৃষ্ঠা ২৯]
কবি আল মাহমুদ তাঁর অজস্র কবিতায় নদীকে উপাস্থাপন করেছেন বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। তবে তিতাস নদীর প্রতি আল মাহমুদের পক্ষপাতিত্ব খানিকটা বেশি বলেই মনে হয়।
“তার অঙ্কিত নদীগুলো তিতাস নামে একটি নদীরই
অভিসারী ও প্রতিছায়া। তাঁর যে কোন নদী তিতাস।
মায়াবী এ নদী তীর ভাঙে, ঘোলাস্রোত পাক খায়। নৌকার
পালে বাতাস গতিশীল হয় যৌবনের প্রতীকের মতো।
সলিমের বৌ মাটির কলস করে ভিজে পায়ে পানি নিয়ে
যায়।, পানকৌড়ি, মাছরাঙ্গা, বক পাখায় জলের ফোঁটা
ফেলে দিয়ে উড়ে যায়, এবং জনপদে অধীর কোলাহল
নিয়ে আসে। কিন্তু কবি সে সবের কিছুই এখানে খুঁজেনি।
যতবার নদীর কাছে এসেছেন ততবারই নীরব তৃপ্তির জন্য
আনমনে ঘাসে বসে নির্মল বাতাসে বুক ভরেছেন। অতপর
একটি কাশের ফুল আঙ্গুলে ছিঁড়ে নদীর পথ ধরে হেঁটে
চলে গেছেন আপন ঠিকানায়।
[আল মাহমুদের কবিতা বিষয় ও শিল্পরূপ/ ড. ফজলুল হক তুহিন/ পৃষ্ঠা ১১৭-১১৮]
তবে আল মাহমুদের কবিতায় নদী ও নারীর মিলেমিশে একই তরঙ্গে তরঙ্গায়িত। নদীর বাঁক বদলের মতো নারী দেহের বাঁক ভঙ্গিমার সমন্বয় লক্ষ করার মতো।
১.
ক্ষুধার্ত নদীর মতো তীব্র দু’টি জলের আওয়াজ
তুলে মিশে যাই চলো অকর্ষিত উপত্যকায়,
চরের মাটির মতো খুলে দাও শরীরের ভাঁজ
উগোল মাছের মাংস তৃপ্ত হোক তোমার কাদায়
[সোনালি কাবিন-৩/আল মাহমুদ]
২.
নদীর সিকস্তী কোনো গ্রামাঞ্চলে মধ্যরাতে কেউ
যেমন শুনতে পেলে অকস্মাৎ জলের জোয়ার
হাতড়ে তালাশ করে সঙ্গিনীকে, আছে কিনা সেও
যে নারী উন্মুক্ত করে তার ধন-ধান্যের দুয়ার।
[সোনালি কাবিন-১২/আল মাহমুদ]
৩.
রাতের নদীতে ভাসা পানিউড়ি পাখির ছতরে
শিষ্ট ঢেউয়ের পাল যে কিসিমে ভাঙ্গে ছলছল
আমার চুম্বন রাশি ক্রমাগত তোমার গতরে
ঢেলে দেবো চিরদিন মুক্ত করে লজ্জার আগল।
[সোনালি কাবিন-১৪/আল মাহমুদ]
৪.
ফিরলে আজো পাবো কি সেই নদী
স্রোতের তোড়ে ভাঙ্গা সে এক গ্রাম?
হায়রে নদী খেয়েছে সব কিছু
জলের ঢেউ ঢেকেছে নাম-দাম।
[সোনালি কাবিন/এক নদী/আল মাহমুদ]
কবির কলমে নদী সত্যি কি অধরা? নদী নিয়ে যে কত ছড়া, কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস রচিত হয়েছে তার পরিসংখ্যান দেয়ার সাধ্য কার! এখনও এ প্রজন্মের লেখকদের কাছেও নদী এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। নদীর স্রোতধারা, তার উচ্ছলতা, স্বচ্ছ জলরাশি কিংবা নদীর শান্ত-স্নিগ্ধ রূপ বিভিন্ন কবির কবিতায় ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকে, রূপকে চিত্রকল্পে বাংলা কবিতায় হীরক খণ্ডের ন্যায় দ্যুতি ছড়াচ্ছে।
কবি আসাদ চৌধুরী নদী প্রসঙ্গে কবিতায় লেখেন-
১.
নদী তো কোনদিন রাখেনি আদিজল
যে জল সমুদ্র নৃত্যু করে
কখনো স্মৃতি হয়ে কখনো ঘাম হয়ে
অশ্রু রক্তের সঙ্গী হয়ে যায়
তবুও এই নদী বইছে অবিরল
বইছে চঞ্চল।
[কবিতা সমগ্র/নদী তো কোনদিন/ আসাদ চৌধুরী/ পৃষ্ঠা-১৮৬]
২.
তীর পেলে নদী আর নদী থাকে না
নদী তখন ছুটিতে যায়, অবসরে ফিরে যায়
তীর পেলে কোন নদী আরো রেগে যায়।
[কবিতা সমগ্র/নদী আর নদী থাকে না/আসাদ চৌধুরী/পৃ: ৩১৬]
৩ .
নদীও বিবস্ত্র হয় খুলে রাখে বেবাক বসন
সূর্যাস্তের পর এই নদী-বহমান জলরাশি
এমন রহস্যময়ী, যেন তাকে কখনো দেখিনি।
[কবিতা সমগ্র/নদীও বিবস্ত্র হয়/ আসাদ চৌধুরী/পৃষ্ঠা-৩৩৯]

নিজের ভেতর যখন নদীর উপস্থিতি অনুভব করেন কবি তখন মনে হয় নদী নিয়ে এত ভাববার কী আছে? অথচ শৈশব থেকে কবির মনে হয়েছে কংশের সাথে সমুদ্রের বেশ মিল রয়েছে। কংশ তো নদী নয় সাগরের ছদ্মবেশী রূপ। সাধারণ নদীর মিঠে পানি নয়, খানিকটা লবণ মেশানো মনে হয়েছে। কংশ আবার কংসাই বা কংশবতী নামে পরিচিত। ‘কংশের সাথে সমুদ্রের বেশ মিল আছে’ শিরোনামে লিখিত কবি নির্মলেন্দু গুণ এসব কথাই বলেছেন। তারপরও নদী কবিকে দুঃখী হতে শেখায়। কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার উদ্ধৃতাংশ-
১.
নদী আছে থাক, ভালোই তো, নদী থাকুক
আমি কি করব? এইভাবে নিজেকে বুঝাই
যখন ভেতর থেকে সহসা নির্গত হয় নদী
[কবিতা সমগ্র-২/নির্মলেন্দু গুণ/নদী]
২.
দুঃখ যেন জলভরা এক নদী
আকাশ কবি, নদীর মুখোমুখি
আসলে কোন কবিই নয় সুখী
কবি যখন নদীকে মুখ দেখায়
নদী তাকে দুঃখী হতে শিখায়।
[কবিতা সমগ্র-২/ নির্মলেন্দু গুণ/কবি ও নদী]
যাপিত জীবনের নানা অনুষঙ্গ দুঃখ বেদনা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সবকিছু মিলিয়ে জীবন প্রবহমান। ফুল-পাখি-নদী প্রকৃতি মানুষের বেঁচে থাকার রসদ জোগায়। সুন্দরের প্রতি লোভ চিরকালের আর সভ্যতার আদিকাল থেকেই মানুষ স্বপ্নের পূজারি, স্বপ্ন আর সুন্দরের মেলবন্ধনে প্রেমিকসত্তা বেড়ে ওঠে, মানুষ হয়ে ওঠে প্রেমিক। আর সে যদি কবি হয় তাহলে তো কথাই নেই। আবেগাপ্লুত কবির হৃদয়ের চার পাশের দৃশ্যমান যা কিছু তাই হয়ে ওঠে কবিতার উপকরণ কবিতার বিষয়বস্তু। কবি মহাদেব সাহার কবিতায় নদী এভাবেই চিত্রিত হয়েছেÑ
১.
চোখের ধারা বুকের ধারা উষ্ণ অধীর জল
তাহার চেয়ে সাগর নদী সরল সমতল
নদীর ধারা নদীর বুকে সহজ বয়ে যায়
বুকের গোপন জলের ধারা কোথায় রাখি হায়।
[সামান্য জল/মহাদেব সাহার প্রেমের কবিতা। পৃষ্ঠা-৪৩]
২.
তোমার গোপন ভালোবাসা
মিথ্যে হতো যদি
মরুর বুকে বইতো কি
অন্তশীলা নদী?
[যদি/মহাদেব সাহার প্রেমের কবিতা/পৃষ্ঠা-১৯৯
৩.
তোমার পথের দিকে চেয়ে
শেষ হয়ে গেল একটি জীবন
নিঃশেষিত হয়ে গেল পৃথিবীর
দীর্ঘতম নদী।
[তোমার পাথের দিকে/মহাদেব সাহার প্রেমের কবিতা/ পৃষ্ঠা-২০৪]
নদীর স্রোতধারা আপন গতিতে ধাবমান, কিন্তু কবি নিজের ভেতর প্রবাহিত গোপন জলের ধারা কোথায় লুকাবেন? প্রেমিকার ভালোবাসা এতটাই গাঢ় যে কবি সন্দেহ প্রকাশ করেন ভালোবাসা মিথ্যে হলে মরুর বুকে কি কখনো নদী বইত?
নদী প্রসঙ্গে যত মতবাদই থাকুক না কেন মূলত কবির কবিতায় নদী উঠে এসেছে স্বাভাবিক এবং সাবলীলভাবে। নদী নিজেই যেমন নিজের চলার পথ তৈরি করে নেয় সাগরে মিলবার জন্য, তেমনি কবিতারও পট পরিবর্তন ঘটে, কবিতার নারী ও তার কাব্যভাষায় আসে ভিন্ন রকমের ব্যঞ্জনা, এসব কথা বলছি এ কারণেই যে এর সাথে সত্তর দশকের কবিদের ও কবিতার একটা সখ্য রয়েছে। বাংলা কবিতায় একটি সকাল নির্মিত হয়েছে সত্তরের কবিদের হাত ধরে।
সত্তরের কবিরা মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ ফসল, এ কারণেই যে তারা প্রত্যক্ষ করেছে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের ন’টি মাস দাপিয়ে বেড়িয়েছে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, অস্ত্র হাতে অংশগ্রহণকারী মুক্তিবাহিনীর কাছে বাংলার খাল-বিল-নদী হয়ে উঠেছিল মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক পটভূমি প্রকারান্তরে হানাদার বাহিনীর কাছে খাল-বিল-নদী ছিল মৃত্যুকূপেরই নামান্তর।
সত্তরের কবিদের হাতে নদীবন্দনার চিত্র
১.
আমাদের বুকের ভিতর
রক্তগঙা ছাড়া আর কোনো নদী নেই
হৃদয়ের রক্ত গোলাপ ছাড়া
আর কোনো পুষ্পের উদ্যান নেই
আর কত রক্তপাত হলে
বঙ্গোপসাগরের নাম হবে
লোহিত সাগর।
[সব নদীর নাম রক্তগঙ্গা/মাশুক চৌধুরী/নদী/মাহমুদ শামসুল হক/ পৃষ্ঠা ৯৪]
১.
কবিতা লেখা যেন একটি নদী পার হওয়া
যে নদীতে জল ও নৌকার দারুণ গোঙ্গানি
একটি কবিতা লেখা যেন একটি রাস্তা পার হওয়া
এক কবিতা থেকে আর এক কবিতা
এক নদী থেকে আরেক নদীতে গিয়ে পড়া
এবং একটি নদী কিছুতেই আর একটি নদীর মতো নয়।
[কবিতা লেখার আগে ও পরে/আবিদ আজাদের কবিতা]
২.
একেক দিন নদী, একেক দিন পাখি আর
নদীর কাছে গিয়ে দাঁড়াই
তোমার আসবার কথা থাকলে এমন হয়।
[মনে পড়লে/আবিদ আজাদের কবিতা]
নদী ও জীবনের প্রতি মানুষের ভালোবাসা। কবির দৃষ্টিশক্তিতে জীবন প্রবাহের সাথে নদীর প্রবাহের সমিল দেখতে পাই। নদী বরাবরই কবিকে কাছে টানে তাঁর প্রেয়সীর মতো। মানব জীবনে নদীর ভূমিকা বর্তমানে যেমনটি অতীতেও তেমন ছিল; নদীর ভূমিকা থাকবে ভবিষ্যতেও। কবি নাসির আহমেদের কবিতা থেকেÑ
১.
পৃথিবীতে আগুনেরও আগে জল। শুধু জল অতঃপর কালক্রমে নদীই সভ্যতা। নদী জীবনস্পন্দন আর আলোরও ঠিকানা। নদীবহতা সঙ্গীত-স্বরলিপি। আদি সুরে বেঁধে দিয়েছে দু’তীরব্যাপী বহু বাস্তুভিটা।
কেড়েও নিয়েছে ক্রোধে মানুষের ভ্রান্ত অহমিকা।
[নদীর নিকট এসে/নাসির আহমেদ]
২.
এখানে কিছুই নেই; বাঁশবাগান অন্ধকারে ঢাকা
বৃক্ষহীনতায় পোড়ে সবুজ প্রান্তর
অথই পদ্মাও নেই, নেই মেঘনা ও যমুনা
আত্মপরিচয়হীন ভুলে গেছি নাম ধাম নিজেরই ঠিকানা
[বৃক্ষমঙ্গল ২৪/নাসির আহমেদ]
[এরপর আগামি সংখ্যায়]

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.