২০ জানুয়ারি প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ শুরু

গোশত আমদানি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা
গোশত আমদানি বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ বলেছেন, আমরা গোশত আমদানি করব না। আমাদের ৭৯ লাখ টন গোশত প্রয়োজন কিন্তু আমাদের অলরেডি ৭১ লাখ টন উৎপাদন হয়েছে। গোশত আনলে আমার খামারিরা মারা পড়বে। এ শিল্পটা ধ্বংস হয়ে যাবে। প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ২০১৮ উপলে গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা বলেন। 
আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে এ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদফতর দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী এ সপ্তাহ পালন করবে। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: মাকসুদুল হাসান খান, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: আইনুল হকসহ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে আপনি বলেছিলেন ভারত থেকে গোশত আমদানির প্রয়োজন নেই। কিন্তু ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী কম দামে গোশত আমদানি হচ্ছে এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনিও গোশত না আনার প।ে সরকারিভাবে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, আমরা গোশত আমদানি করব না। 
আমদানি নীতি অনুযায়ী বাংলাদেশে গোশত আমদানিতে বাধা নেই। আমদানি হচ্ছেও, সেটা বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেবেন কি না এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, যেহেতু আমরা গোশত আমদানি করতে চাচ্ছি না এবং এতে যদি আইনে বাধা না থাকে তবে সেটা প্রতিরোধ করতে হবে, আইন পরিবর্তন করতে হবে। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে গোশতের দাম কমানোর বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে জানিয়ে নারায়ণচন্দ্র বলেন, জনগণ যাতে স্বল্প ও ন্যায্যমূল্যে গোশত খেতে পারে এবং খামারিরা টিকে থাকতে পারে সে জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। ব্রাহমা প্রজাতির গরু আনা হয়েছে, আমাদের দেশে বাচ্চা হয়ে দুই বছরে ৮০০ কেজিতে পৌঁছেছে। এই প্রজাতির গরুতে এক হাজার কেজি পর্যন্ত গোশত হয়। গোশতের চাহিদা পূরণের জন্য আমরা অধিক ওজনের গরুর দিকে নজর দিচ্ছি।
চাঁদাবাজিসহ নানা কারণে গোশতের দাম বেড়েছেÑ গোশত ব্যবসায়ীদের এমন দাবির বিষয়ে কোনো উদ্যোগ বিবেচনায় আছে কি না জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এটা শুধু এককভাবে আমাদের মন্ত্রণালয়ের উপর নির্ভর করবে না। এর সঙ্গে বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জড়িত। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে আমরা পদপে নেবো। ভ্যাটেরিনারি হাসপাতালে মানুষ গবাদিপশুর চিকিৎসা সঠিকভাবে পায় না বলে অভিযোগ রয়েছেÑ এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে আমাদের কর্মকর্তারা সেবামুখী। কিন্তু লোকবল সঙ্কট রয়েছে, আমাদের জনবল বাড়ানো দরকার।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য দূরীকরণ, প্রাণিজ পুষ্টি সরবরাহ ও নারীর মতায়নের জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজের অংশ হিসেবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতর পশুপাখি পালনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে, বিশেষ করে গাভী পালন, গরুর হৃষ্টপুষ্টকরণ, ছাগল ও ভেড়াপালন, হাঁস মুরগি পালন ও খামার স্থাপন, রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দ্বৈত প্রভাবের ফলে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে গবাদিপশু ও হাঁস মুরগির উৎপাদনশীলতা ও নিবিড়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.