সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মৌলিক সেবার মানোন্নয়ন প্রয়োজন : ফজলে হাসান আবেদ

সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মৌলিক সেবার মানোন্নয়নের প্রতি বেশি মনোযোগ দিতে হবে। তা সম্ভব কেবল সরকার, সামাজিক সংগঠন এবং ব্যক্তিমালিকানা খাতের অর্থপূর্ণ ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের মাধ্যমে।
গতকাল সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০১৮-এর আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপারসন স্যার ফজলে হাসান আবেদ এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে প্রথম দিন প্যানেল আলোচক হিসেবে তিনি এ বক্তব্য রাখেন। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ডা: মুহাম্মাদ মুসা, সংস্থাটির স্ট্যাটেজি, কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড অ্যামপাওয়ারমেন্ট কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালন আসিফ সালেহ, অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ কর্মসূচির পরিচালক কে এ এম মোর্শেদ প্রমুখ।
ফজলে হাসান আবেদ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ মোকবেলায় চরম দারিদ্র্য নিরসন, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, চরম দারিদ্র্য নিরসনে ব্র্যাক অতি দরিদ্র থেকে উত্তরণে মডেল তৈরি করেছে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের অতি দারিদ্র্য অবস্থা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এর পাশাপাশি ৫০টিরও বেশি দেশে সেখানকার পরিস্থিতির উপযোগী করে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে আনার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে যেসব সাফল্য অর্জন করেছিল তার কিছু বর্তমানে সময়ে এসে থমকে গেছে। এর একটি মাতৃমৃত্যু অনুপাত ২০১০ থেকে ২০১৬ সাল সময়ের মধ্যে প্রতি এক লাখ জীবিত নবজাতক জন্মের বিপরীতে ১৯৬-এ থেমে আছে। কেন তা থমকে গেছে তার অন্তর্নিহিত কারণগুলোকে আমাদের অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নের প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার পরিবেশ শিশু শিক্ষার্থীর উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রাক-প্রাথমিক শিশুদের প্রয়োজন মেটাতে হলে শিক্ষকদের উপযুক্ত পরিচিতিমূলক ধারণা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন।
ফজলে হাসান আবেদ এসব সমস্যা মোকবেলায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর বিশেষভাবে তাগিদ দেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিপুল চ্যালেঞ্জ সরকারের একার পক্ষে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আস্থাভাজন অংশীদারদের সহায়তা সরকারের প্রয়োজন হবে যেখানে সুশীল সমাজ অত্যন্ত গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম। বিজ্ঞপ্তি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.