শততম ম্যাচে বাংলাদেশ নেই কেন? জানালেন বোর্ড সভাপতি
শততম ম্যাচে বাংলাদেশ নেই কেন? জানালেন বোর্ড সভাপতি

শততম ম্যাচে বাংলাদেশ নেই কেন? জানালেন বোর্ড সভাপতি

বাসস

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের শততম ম্যাচে খেলছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। অথচ নিজেদের হোম ভেন্যু হবার পরও মিরপুরের মাঠে শততম ম্যাচে দর্শক বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তবে এমন মাইলস্টোনের ম্যাচে বাংলাদেশ থাকলে ভালো হতে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ত্রিদেশীয় সূচিতে আজ বাংলাদেশের খেলা না থাকার কারণও জানিয়েছেন পাপন, ‘সিরিজ ছিল অনিশ্চিয়তায়। তাড়াহুড়ার কারণে এটা হয়নি। তবে মিরপুরের শততম ম্যাচে বাংলাদেশ থাকতে পারলে খুবই ভালো হতো।’

২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর মিরপুরের ভেন্যুতে ওয়ানডের অভিষেক হয়। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ৮ উইকেটে বাংলাদেশের জয় দিয়ে মিরপুরের ভেন্যুর যাত্রাও শুরু হয়। স্বাগতিক হিসেবে মিরপুরের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ থাকলেও, দুর্ভাগ্যবশত এই ভেন্যুর শততম ওয়ানডেতে খেলা হলো না বাংলাদেশের। তবে এমন স্মরণীয় ম্যাচে বাংলাদেশ থাকলে ভালো হতো বলে মনে করেন পাপন, ‘আজকের এই শততম ওডিআইতে আমরা বাংলাদেশের খেলাও রাখতে পারতাম। আমরা শততম টেস্ট ম্যাচটাও তো বাইরে খেলেছি, শ্রীলঙ্কা গিয়ে খেলে এসেছি। তবে বাংলাদেশ খেললে আরো ভালো হতো।’

সিরিজ নিয়ে দলগুলোও অনিশ্চিয়তার মধ্যে থাকায় তাড়াহুড়ার কারণে সূচিতে বাংলাদেশের খেলা রাখা হয়নি বলে মনে করেন, ‘হয়তো করা যেতো। এখানে আপনি দেখেন আসার ব্যাপারে টিমগুলা অনিশ্চিত ছিল। এমনিতে জিম্বাবুয়েও তো লেট করেছে। আসলে এই একটু তাড়াহুড়োর মধ্যে ছিল। কিছুটা আনসার্টেনিটি ছিল দেখে আামরা আগে থেকে পুরাপুরি নিশ্চিত করতে পারিনি। না হলে এটা করা যেতো, এটা যে করা যেতো না তা না। করতে পারলে ভালো হতো।’

মিরপুরের ওয়ানডেতে বাংলাদেশ না খেললে ইতিহাসের সাক্ষী হতে পেরে ভালো লাগছে পাপনের, ‘আসলে এই ভেন্যুটায় এক শ'তম ওডিআই আজকে হচ্ছে। সেটা তো সত্যিই একটা মাইলস্টোন। তবে আমি মনে করি যে, আমার ব্যক্তিগতভাবে এই ভেন্যুটা অবশ্যই অনেক ভালো। এর পেছনে কয়েকটা কারণ আছে। প্রথমত হচ্ছে যে আমাদের তো খুব একটা অপশন নেই। বিশেষ করে আমাদের নতুন যে স্টেডিয়ামটা করেছি, সিলেটে আমরা একটা ভালো স্টেডিয়াম করেছি, চিটাগাংয়ে আমাদের একটা নতুন স্টেডিয়াম হয়েছে। এগুলা তো নতুন। কিন্তু প্রথম থেকে যদি দেখে থাকেন, আমাদের ক্রিকেট স্টেডিয়াম হোম অব ক্রিকেট বলতে যা বুঝিয়ে থাকে সেটা এটাই। এই যে মিরপুরের এই স্টেডিয়াম শেরে বাংলা। তো সেদিক থেকে এটার প্রতি সব সময়ই আমাদের আকেটা আকর্ষণ ছিল। খেলাও সবচেয়ে বেশি এটাতেই হয়েছে। পৃথিবীতে এটা ষষ্ঠ স্টেডিয়াম এক শ'তম যেটা ছুঁয়েছে ওডিআই। কিন্ত এতো কম সময়ে। আমার মনে হয় সময়ের দিক দিয়ে এটা আরও কম। কারণ অব্যাহতভাবে খেলা হচ্ছে এ মাঠে। সেজন্যই আমি মনে করি যে এটা তাৎপর্যপূর্ণ। শুধু এখানেই না, যেভাবে চলছে এখানে একশ না, দু’শ হতেও খুব বেশি সময় লাগবে না।’

হোম অব ক্রিকেটের স্মৃতি আর্কাইভ এন্ড মিউজিয়াম নিয়ে কথা বলেছেন পাপন। তিনি বলেন, ‘এটা তো ডিফেনেটলি আমাদের একটা চিন্তা আছে। অলরেডি চিন্তা না, এটা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। আনফরচুনেটলি আমরা যে ধরনের কাজ করতে পাচ্ছি, এখানে ফ্যাসিলিটি অনেক কম। জায়গার অনেক অভাব। আপনি যদি বাইরেরগুলোতে দেখেন, ওদের যে পরিমাণ ফ্যাসিলিটি ও জায়গা আছে আমাদের তা নেই। যতোটুকু করা যায় আমরা তা নিয়ে কাজ শুরু করেছি, আমরা একটা কমিটি করছি। তাছাড়া আপনারা জানেন যে পূর্বাচলে একটা নতুন স্টেডিয়াম হচ্ছে। আমরা এখন যেটা করছি, ওটাকে টার্গেট করে ওখানটায় কী কী করতে চাই এবং এ কাজটা এখান থেকে শুরু করে এখানটাও থাকল। এটা তো আর চলে যাচ্ছে না। এই স্মৃতি তো থাকবেই। এটা স্টেডিয়াম তো থাকবেই আমাদের।’

এমন একটা মাইলস্টোন, কিন্তু বাংলাদেশ দল নেই। এ ব্যাপারে পাপন বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সিরিজ জেতা। আমরা বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কখনো কোনো ট্রাইনেশন বা একাধিক টিম যেখানে আছে, এরকম কোনো টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়নি। এবার আমাদের সামনে একটা সুযোগ আছে। আমরা এশিয়া কাপের ফাইনালে গিয়েছিলাম, গিয়ে অল্পের জন্য মাত্র ২ রানের জন্য জিততে পারিনি। এটা আমাদের একটা কষ্ট আছে। এই বার একটা সুযোগ আছে আমাদের। আমরা চেষ্টা করব, এই বছরটা যদি আমরা শুরু করতে পারি চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাহলে এর চেয়ে সুন্দর জিনিস আর কিছু হয় না। তাই প্রধান নজর থাকবে এ সিরিজে শুধুই চ্যাম্পিয়ন হওয়া।’

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.