ফেলানী হত্যার বিচারও ঝুলছে
ফেলানী হত্যার বিচারও ঝুলছে

ফেলানী হত্যার বিচারও ঝুলছে

জসিম উদ্দিন

ফেলানী হত্যার পর বিশ্ববিবেক নাড়া দিয়েছিল। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কথা উঠেছিল। এ ধরনের নিষ্ঠুর কায়দায় এক বালিকাকে হত্যার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কুখ্যাতি নতুন করে সভ্য রাষ্ট্রগুলো ভেবেছে। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কাঁটাতারে আটকেপড়া ফেলানীকে কাছে থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মেয়েটি কোনোভাবে দুষ্কৃতকারী ছিল না। তার পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল না। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিচার অনেকটাই প্রহসনে পরিণত হয়েছে। যেভাবে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে, তাতে বিচার অনেকটাই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। আজ ভারতের উচ্চ আদালতে এ ব্যাপারে দু’টি রিট মামলার শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

অভিযুক্ত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে দু’বার বিচার করা হয়। বিচারের ফলাফল একই। এই আত্মস্বীকৃত খুনি বিএসএফ সদস্য দুই বারই বেকসুর খালাস পায়। সে ক্ষেত্রে এটিকে বিচার না বলে নির্দোষ প্রমাণের সনদ বলা যেতে পারে। গণতান্ত্রিক ভারতের সীমান্তবাহিনীর এমন নিষ্ঠুরতায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে বিচারের আয়োজন করা হয়। ওই বিচারের দায়িত্ব দেয়া হয় অভিযুক্ত বাহিনী বিএসএফকেই। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট বিএসএফের বিশেষ আদালতে ফেলানী হত্যার বিচার শুরু হয়। কোচবিহারে আয়োজিত ওই বিচারে অমিয় ঘোষ বেকসুর খালাস পায়। ব্যাপারটি একেবারেই বেমানান ঠেকায় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবি বিচারের ইস্যুটি তাদের প্রতিপক্ষের কাছে উত্থাপন করে। ফলে ভারতীয় বাহিনী ফেলানী হত্যার পুনর্বিচারের উদ্যোগ নেয়। ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পুনর্বিচার শুরু করে বিএসএফ। আবার প্রহসনের যেন আরেকটি ড্রেস রিহার্সেল চলতে থাকে। অনেক নাটকের পর আবারো একই ফলাফল পাওয়া যায়। অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে সাক্ষীসাবোধ ও প্রমাণ পেশ করা হয়। বিএসএফের বিচারিক আদালত এগুলোকে পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেনি। তাকে বেকসুর খালাস দেয় ২০১৫ সালের ২ জুলাই। ফলে শুটার অমিয় দ্বিতীয়বারের মতো পবিত্র মানুষ হিসেবে সনদ পায়।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতি একজন ভারতীয় আইনজীবীর মাধ্যমে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে ২০১৩ সালে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। অন্য দিকে ফেলানীর বাবা ভারতীয় মানবাধিকার সংস্থা ‘মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের’ (মাসুম) সাহায্যে ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই আরেকটি রিট পিটিশন করেন। দু’টি পিটিশন শুনানির পর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন। উচ্চ আদালতে এখন চলছে বিচারের ধীরগতি। বিএসএফ দ্বিতীয়বার একই রায় দেয়ার পর মাসুম ১৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে রিট করেন। ওই বছর ৬ অক্টোবর রিটের শুনানি হয়। ২০১৬ সালে দুই বার শুনানি হয়। এরপর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করে। সেদিন শুনানি না হয়ে পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর ধার্য করা হয়। আবার নতুন করে শুনানির দিন ধার্য হয় চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি। একটি নিরপরাধ শিশুকে জঘন্যভাবে হত্যার বিষয়টি আদালতেও মূল্যায়ন পায়নি। মেয়েটির পরিবার ও বাংলাদেশে যারা বিষয়টি নজরে রেখেছেন, তারা ভারতীয় উচ্চ আদালতের বিবেকের দিকে তাকিয়ে আছেন। আদালত এমন নিষ্ঠুরতাকে কিভাবে নেন, তা দেখার জন্য সবাই মুখিয়ে আছেন।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিরস্ত্র বাংলাদেশীদের অব্যাহতভাবে হত্যা, নির্যাতন ও অপহরণ করছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও চুক্তি মেনে চলার অঙ্গীকার সত্ত্বেও ভারত সেটা অমান্য করে চলেছে। ১৯৪৮ সালে প্রণীত জাতিসঙ্ঘের সার্বজনীন মানবাধিকারের ৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে- প্রত্যেকের বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। এর সাথে আরো যোগ হয়েছে মানুষ বেঁচে থাকবে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সাথে। ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে- কোনো মানুষের এমন অধিকার নেই, অন্যদের অত্যাচার-নির্যাতন করে আহত করবে। অন্য দিকে ভারতের সীমান্তরক্ষীরা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে সীমান্তের মানুষদের গুলি ও অপহরণ সাধারণ একটি কাজে পরিণত করেছে। ১৯৭৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ সীমান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী- সীমান্তে সহজে মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সর্বোচ্চ ধৈর্য প্রদর্শনের কথা বলা হয়েছিল ওই নির্দেশিকায়। প্রয়োজন হলে ফাঁকা গুলি চলতে পারে। ফেলানীর বুকে লেগেছিল গুলি। মেয়েটি ছিল সীমানা তারের মধ্যে ঝুলন্ত। সে কোথাও পালিয়ে যাবে এমন সুযোগ ছিল না। কিংবা বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের জন্য কোনো ক্ষতি করবে এমন সুযোগও ছোট্ট মেয়েটির ছিল না।

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি অনুযায়ী, কোনো নাগরিক যদি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সেটা হবে অনধিকার প্রবেশ। আইন অনুযায়ী তাদের বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে অনেকগুলো চুক্তি সাক্ষর হয়। ২০১১ সালের মার্চে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে দুই দেশ পুনর্বার অঙ্গীকার করে, সীমান্তে আর জীবনসংহারী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরও সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা বেড়েছে। সীমান্তে হত্যা শুরু হয় স্বাধীনতার পরপরই। স্বাধীনতার পরের বছরই দুই বাংলাদেশীকে হত্যা করে বিএসএফ।

সীমান্তে বাংলাদেশীদের প্রাণ হারানোর যে পরিসংখ্যান, তাতে এটি কোনোভাবে শান্তিপূর্ণ একটি সীমান্ত বলা যাবে না। যুদ্ধবিধ্বস্ত বিবদমান দু’টি দেশের সীমান্ত বলেই প্রতীয়মান হবে এটিকে। বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশের সীমান্ত বললে বড়ই বেমানান হবে। পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতা প্রাপ্তির প্রথম দশকে ১০৩ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করে ভারত। পরের দশকে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৯ জনে। এর সাথে আরো যুক্ত হয় চার বাংলাদেশী সীমান্তরক্ষী। তৃতীয় দশকে এই সংখ্যা প্রথম দশকের দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়ায় ২৬৪ জনে। যুক্ত হয় আরো ১০ জন বিজিবি সদস্য। চতুর্থ দশকে অর্থাৎ ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা প্রথম দশকের ছয়গুণের বেশি বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৬ জনে। এর পরের ছয় বছর ১৭৮ জন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছেন ভারতীয় বাহিনীর হাতে। সেই হিসাবে গত ১০ বছরে এক হাজারের বেশি বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে ভারতীয় বাহিনী। তা হলে প্রতি চার দিনে একজন করে বাঙালি হত্যা করেছে প্রতিবেশীরা। শীতল যুদ্ধের সময় পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল। দুই জার্মানির মধ্যে থাকা দেয়ালের সীমান্ত রেখায়ও এত মানুষ প্রাণ হারায়নি। এই পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি থাকা অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সীমান্ত হত্যা হচ্ছে। এই বন্ধুত্বের ধরনটা আসলে বিস্ময়কর। তা হলে বন্ধুত্বের প্রদর্শন চলছে বাহ্যিক, কার্যত ঘৃণা ও বিদ্বেষ কমানো যায়নি।

সীমান্তে হত্যার শিকার হওয়া বাংলাদেশীরা মৃত্যুর আগে ও পরে নানা বীভৎস ও বিকৃত আচরণের শিকার হন। সীমান্তরক্ষীরা অনেক সময় তাদের সাথে বন্যপ্রাণীর মতো আচরণ করে। পাহাড়ি অমসৃণ রাস্তায় মৃত ও আহত বাংলাদেশীদের টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। চামড়া ছিঁড়ে মাংস-হাড় সব একাকার হয়ে যাচ্ছে এসব জীবিত কিংবা মৃত মানুষের। ফেলানীকে বন্যপ্রাণীদের মতো একটি লাঠির ফলার মধ্যে দড়ি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও মৃত মানুষের প্রতি জীবিতদের কোনো ধরনের বিদ্বেষ থাকার কথা নয়। কাউকে কাউকে হত্যার আগে চরম অপমান ও লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। এ ধরনের বহু নির্যাতনের ভিডিওচিত্র প্রকাশিত হয়েছে। একটি ঘটনায় দেখা যায়, এক বাংলাদেশীকে উলঙ্গ করে নারকীয় কায়দায় পেটানো হচ্ছে। নিহতদের আবার সময়মতো ফেরত দেয়া হচ্ছে না। তবে বন্ধুত্ব সহিষ্ণুতা ও উদারতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে ছোট্ট রাষ্ট্র বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। সাড়ে চার দশকে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয়দের প্রাণ হারানোর সংখ্যা ৩৬ জন। আর আহত হয়েছে ৫০ জনের কম। এর বিপরীতে এক বছরেই বাংলাদেশী হত্যার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেশি। ২০০৬ সালে বিএসএফ ১০৬ বাংলাদেশী বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।

ভারতের উচ্চ আদালতের বিচার
ভারতের উচ্চ আদালতে জ্যৈষ্ঠ চার বিচারপতি প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের সরাসরি অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। দিল্লিতে এ ব্যাপারে তারা প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। কেন তারা এমন বিপ্লব ঘটিয়ে দিলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে চার বিচারপতি বলেছেন, তাদের বিকল্প কোনো পথ ছিল না। বিভিন্নভাবে তারা প্রধান বিচারপতিকে এ ব্যাপারে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংশোধনে নেয়া তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তারা সংবাদ সম্মেলন করেন। দেশটির বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক দূষণের ছায়া পড়েছে। ন্যায়বিচারের বদলে দলীয় সাম্প্রদায়িক চিন্তার প্রভাব মুখ্য হয়ে উঠেছে। সরকারি দলের প্রভাবশালী নেতা অমিত শাহের একটি মামলার রায় নিয়ে কথা উঠেছে। এ প্রসঙ্গে একজন বিচারকের হত্যা ও ১০০ কোটি টাকার ঘুষ প্রদানের বিষয় আলোচনায় এসেছে। অভিযুক্ত অমিত শাহ পরে বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
গত বছর ভারতের বিচারব্যবস্থার অবক্ষয়কে প্রথমবারের মতো কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেন দলিত সম্প্রদায়ের এক বিচারপতি। তিনি দেশটির প্রধান বিচারপতিসহ আট বিচারপতির বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করলেন। নিম্নবর্ণের এই বিচারকের রায় অবশ্য ধোপে টেকেনি। বরং তার রায় স্থগিত করে দিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ওই বিচারপতিরা পাল্টা তার বিরুদ্ধে ছয় মাসের জেল দিয়েছেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি চিন্নাস্বামী স্বামীনাথন কারনানের অভিযোগ তদন্ত করার প্রয়োজন মনে করেনি উচ্চ আদালত। এ পরিপ্রেক্ষিতে এটা মনে হওয়া স্বাভাবিক, ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালতে সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মূল ব্যাপার হচ্ছে- কারনান সুপ্রিম কোর্টের ২০ বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। তফসিলি সম্প্রদায়ের কারনানের অভিযোগ পাত্তা পায়নি। বরং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের একটি বেঞ্চ তাকে মানসিক সুস্থতার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার নির্দেশ দেয় স্থানীয় প্রশাসনকে। প্রশাসনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা টিম কারনানের বাসায় পৌঁছলে তাদের তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে নিজেই তার বিরুদ্ধে মানসিক অসুস্থতার অভিযোগ আনা বিচারপতিদের বিরুদ্ধে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের রায় দিয়ে বসেন। তাহলে সম্প্রতি জ্যৈষ্ঠ চার বিচারপতি যে অভিযোগ আনলেন, সেটা মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ থাকল না।

সাম্প্রতিক সময়ে জনগুরুত্বপূর্ণ কিছু মামলার রায় পর্যবেক্ষণে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার কতটা আস্থা রাখা যায় সেটা অনুমান করা যায়। গত বছর উচ্চ আদালত ধর্ষণ মামলায় দুই ধরনের শাস্তির রায় দিলেন। গুজরাটে সংখ্যালঘু নিধনের সময় অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানু গণধর্ষণের শিকার হন। ওই সময় তার পরিবারের ১৪ সদস্যকে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি হত্যা করে। এ বিচার গুজরাটের আদালতে তিনি উত্থাপন করতে পারেননি। ১৫ বছর ঘোরার পর মানবাধিকার কর্মীদের সহায়তায় রাজ্যের বাইরে মামলাটি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। তবে মুম্বাই আদালত সঠিক বিচার করেছেন কি না সে প্রশ্ন উঠেছে এখন। ধর্ষণের অভিযোগে আদালত ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ঠিক এর পরের দিনই সুপ্রিম কোর্ট দিল্লির বাসে ধর্ষণ মামলায় রায়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। অপরাধের ধরনের দিক দিয়ে বাসে ধর্ষণের চেয়ে গুজরাটে বানুকে গণধর্ষণ ছোট হতে পারে না।

গুজরাটের ওই ঘটনায় অপরাধীরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে পরিবারের ১৪ সদস্যকে হত্যা করার পর তার ওপর ওই চরম নিপীড়ন চালায়। প্রশ্ন উঠেছে, বিচারের ক্ষেত্রে সাম্প্রদায়িক বিবেচনা কাজ করছে কি না সেই প্রসঙ্গটি। অপরাধী যখন হিন্দু সম্প্রদায়ের হচ্ছে, তখন গুরু পাপ লঘু হয়ে যাচ্ছে না তো। বিচারের আসনে বসা ব্যক্তিরা কি নিজের সম্প্রদায়ের অপরাধীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন এমন প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়া স্বাভাবিক। ফেলানী হত্যার বিচারও কি দুই ধর্মের বিবেচনায় নেয়া হবে, না দুই দেশ ভারত ও বাংলাদেশ বিবেচনায় থাকবে? ফেলানী কি একজন মানুষের বিবেচনায় বিবেচিত হবে? 

jjshim146@yahoo.com

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.