ঢাকা, শুক্রবার,২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

রাজনীতি

সিপিবি-বাসদ ও বাম মোর্চা

সরকার ও ইসি’র নাটকে নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১৮:৩৮


প্রিন্ট

মেয়র নির্বাচন আদলতের রায়ের কারণে স্থগিত ও অনিশ্চিত অবস্থার পড়ার জন্য সরকারকেই দায়ী করে বলেছেন, সুনিশ্চিত পরাজয় এড়াতেই তারা এই নাটকের আয়োজন করেছে। বিনা ভোটে নির্বাচিত বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তার দুর্নীতি লুণ্ঠন ও অপচয়মূলক তৎপরতার মধ্য দিয়ে গোটা দেশের মতই ঢাকা শহরকেও বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু গত নির্বাচনের মত অত সহজে ভোট ডাকাতি করা কঠিন হবে অনুভব করেই তারা এই পাতানো খেলার আয়োজন করেছে যার মধ্য দিয়ে আদালতের ঘাড়ে পুরো প্রক্রিয়ার দায়ভার তুলে দিয়ে তারা নিজেরা নিরাপদ থাকতে পারে।

মুক্তিভবনের মৈত্রী সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সিপিবি-বাসদ ও বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ এ অভিযোগ করেন।

সিপিবি-বাসদ ও বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ আজ ঢাকা (উত্তর) সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল শক্তির প্রার্থী হিসেবে পরিচিত করতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাম মোর্চার সমন্বয়কারী মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় সদস্য শুভ্রাংশ চক্রবর্তী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স ও গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলন থেকে রুহিন হোসেন প্রিন্সকে প্রেসিডেন্ট ও ফিরোজ আহমেদকে সদস্য সচিব করে মেয়র পদে জোনায়েদ সাকির নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচনী পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, নির্বাচন কমিশনও এই পরিস্থিতিরি জন্য সমানভাবে দায়ী। তাদের দায় এড়াবার সুযোগ নেই এই কারণে যে, নতুন যে ইউনিয়নগুলোকে সিটি কর্পোরেশন এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে, তাদের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের মর্যাদা কী হবে, তাদের ভোটারদের অধিকার কী হবে, এসব কিছু মীমাংসা না করেই সেগুলোকে এই নির্বাচনের আগেই তাড়াহুড়ো করে নিয়ে নেয়া হয়েছে। তাদের এই অবিবেচক কার্যকলাপের কারণেই গোটা ঢাকা উত্তরবাসী অনিশ্চয়তার মাঝে পড়েছেন। জনগণ মনে করছেন যে, সরকারের যোগসাজশেই এই কাজটি তারা করেছেন। এর মধ্য দিয়ে সরকারকে তারা পিঠ বাঁচাবার সুযোগ করে দিয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচিত গণপ্রতিনিধি ছাড়া একটি শহর চলতে পারে না। সরকার ও নির্বাচন কমিশন মিলে দেশবাসীর মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে প্রশাসকের মাধ্যমে নগর পরিচালনা করার ফন্দি এঁটেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আদালতের প্রতি আমাদের আবেদন থাকবে এই নতুন ভোটার তালিকা ও ওয়ার্ড অন্তর্ভূক্ত করার আইনী জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে যেন জনগণের মৌলিক অধিকার যেন ক্ষুণ্ণ না হয়।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস ও নির্বাচন কমিশন যদি উচ্চতর আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ধরেই নেয়া যায় যে, সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথ যোগসাজসেই ঢাকাবাসীর বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত পরিচালনা করেছে।

 

 

অন্যান্য সংবাদ

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫