ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

এশিয়া

রাখাইনে সরকারি দফতর দখল নিতে গিয়ে পুলিশের হামলায় ৭ বৌদ্ধ নিহত

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৭ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১২:৩৫


প্রিন্ট
রাখাইনে মুসলমানদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল সরকারি বাহিনী ও উগ্রবাদী বৌদ্ধরা

রাখাইনে মুসলমানদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল সরকারি বাহিনী ও উগ্রবাদী বৌদ্ধরা

মিয়ানমারে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী রাখাইনদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে সাতজন নিহত ও আরো অনেকে আহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তারা একটি সরকারি দফতর দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি বর্ষণ করলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। পুলিশ এএফপি’কে একথা জানায়।

খবরে বলা হয়, বৌদ্ধধর্মাবলম্বী কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী একটি অনুষ্ঠান পালনের জন্য প্রাচীন মন্দির চত্বর মরাউকে সমবেত হয়েছিল। এ অঞ্চলের সংখ্যালুঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর সামরিক বাহিনী ব্যাপক দমনপীড়ন চালালেও এটি এখন পর্যন্ত অক্ষত রয়েছে।

তবে তাদের সমাবেশটি কেন সহিংস রূপ নিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিবিরে আশ্রয় নেয়া ছয় লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিতে শুরু করতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যাবাসন চুক্তি স্বাক্ষরের দিন এ সংঘর্ষ হলো।

পুলিশ এ সহিংসতার জন্য সেখানে সমবেত হওয়া জনতাকে দায়ী করেছে। কারণ, তারা জেলা প্রশাসনের একটি দপ্তর দখল করে সেখানে রাখাইন রাজ্যের পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা চালাতে গেলে এ সংঘর্ষ শুরু হয়।

মিয়ানমার পুলিশের মুখপাত্র কর্নেল মিয়ো সোয়ে এএফপি’কে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সমবেত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে রাবার বুলেট ছুঁড়লেও তারা সরে না যাওয়ায় পুলিশ গুলি বর্ষণ করে। এতে সাতজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চুক্তিতে চার গভীর সংশয়
বাংলাদেশ আর মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রত্যাবাসনের জন্য এক চুক্তি করেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বিবিসিকে জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার প্রতিদিন তিনশ করে প্রতি সপ্তাহে ১৫শ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে এবং দুই বছরের মধ্যে এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শেষ করা হবে।

তবে কবে থেকে এই প্রত্যাবাসন শুরু হবে, সেটি এখনও নিশ্চিত নয়।

গত বছর ২৫শে আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনীর এক অভিযান শুরুর পর থেকে থেকে এ পর্যন্ত ছয় লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

তাদের কাছে শোনা গেছে হত্যা, ধর্ষণ, ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ভয়াবহ সব বর্ণনা।

জাতিসংঘ একে এথনিক ক্লেনজিং বা জাতিগত নির্মূল অভিযানের একটি দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেছে। মিয়ানমার অবশ্য তা অস্বীকার করেছে।

এর পর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে এই রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নেবার জন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনা শুরু হয় নভেম্বর মাসে।

তবে এই চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধান সংশয় রয়েছে চারটি, বলছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তিতে কি আছে?
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকে বলেছেন, চুক্তিতে কি আছে তা নিয়ে তারা তেমন কিছুই জানেন না।

বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, দু দেশই একমত হয়েছে যে এই প্রত্যাবাসন হবে স্বেচ্ছামূলক।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব উ মিন্ট থু বলেছেন, প্রত্যাবাসন শুরু হবে ২৩শে জানুয়ারি।

পরিস্থিতি কি নিরাপদ?
মানবাধিকার সংস্থা এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক লরা হাই বলছেন, মিয়ানমারের পরিস্থিতি রোহিঙ্গাদের ফিরে যাবার মতো নিরাপদ নয়।

বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেন, রোহিঙ্গারা বলছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে, বাড়িঘর পুননির্মাণ হলে এবং নিপীড়ন বন্ধ হলেই তারা মিয়ানমারে ফিরবে। তবে তেমন অবস্থা এখনো তৈরি হয় নি।

ত্রাণ সংস্থাগুলোরও এ নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে।

ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মী রোজেনা এলিন খান বলছেন, উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো মানে তাদের মৃত্যুর মুখে আবার ঠেলে দেয়া।

রোহিঙ্গারা কি কখনো নাগরিকত্ব পাবে?
রোহিঙ্গা নেতা সিরাজুল মোস্তফা বলছেন, আমাদের প্রথম চাওয়া হলো নাগরিকত্ব।

এটা কি কখনো হবে?

বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারের সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেয় না, এবং তাদের ২০১৪ সালের জনগণনাতেও অন্তর্ভক্ত করা হয়নি। তাদেরকে আসলে মিয়ানমারের বাসিন্দা বলেই স্বীকার করা হয় না।

তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী বলে মনে করা হয়। নতুন চুক্তিতেও তাদের নাগরিকত্ব পাবার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বাংলাদেশও তাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে না। শরণার্থী শিবিরে জন্মানো শিশুদের জন্মের সনদপত্র দেয়া হচ্ছে না।

রোহিঙ্গারা কি তাদের জমি ফেরত পাবে?
সিরাজুল মোস্তফার কথা, ‘তাদেরকে আমাদের জমি ফিরিয়ে দিতে হবে।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে কমপক্ষে ৩৫৪টি রোহিঙ্গা গ্রাম পুরো বা আংশিক পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গারা কি এ জমি ফেরত পাবে, বা তারা কি প্রমাণ করতে পারবে যে এ জমি তাদের ছিল?

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন চুক্তি তাদের আবাসনের কথা আছে, ফেরার পর তাদের নির্মাণাধীন ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হবে।

উ মিন্ট আরো বলেছেন , তারা ‘নতুন গ্রাম’ তৈরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন। নতুন গ্রামের কথায় মনে হতে পারে যে রোহিঙ্গাদের পুরোনো জমি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নেই। বিবিসি। 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫