ঢাকা, সোমবার,২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

ক্রিকেট

নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৭ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১০:২৬ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১০:৪০


প্রিন্ট
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়োৎসব করে বাংলাদেশ

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়োৎসব করে বাংলাদেশ

ক্রিকেটের এলিট ভেনুর কাতারে শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। টাইগার ক্রিকেটের ‘হোম’ খ্যাত স্টেডিয়ামটির ইতিহাসে আজ প্রবেশ ঘটছে বিরল এক অধ্যায়ের। বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুততম ভেনু হিসেবে ৫০ ওভারের শততম ম্যাচ অনুষ্ঠানের নতুন অধ্যায় যোগ হচ্ছে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রাচুর্য্যে ভরপুর ইতিহাসে। ১১ বছর ও ২ মাসেরও কম সময়ে ওয়ানডে ফরম্যাটের খেলা অনুষ্ঠানের সেঞ্চুরি গৌরব অর্জনে মিরপুর শেরেবাংলা পেছনে ফেলছে বিশ্বের খ্যাতনামা পাঁচটি ভেনুকে। ইতিহাসের ষষ্ঠ ভেনু হিসেবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণের স্পন্দন পা রাখছে ১০০ ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের কৃতিত্বের অধিকারী এলিট স্টেডিয়ামের কাতারে।

আজ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হচ্ছে জিম্বাবুয়ে। দল দুইটির মধ্যকার ম্যাচটি টাইগার ক্রিকেটের নাম্বার ওয়ান ভেনুটিকে পৌঁছে দেবে ১০০ ওয়ানডে অনুষ্ঠানের এলিট তালিকায়। ৫০ ওভারের ফরম্যাটের সবচেয়ে বেশি খেলা (২৩১ ওয়ানডে) আয়োজনের কৃতিত্ব সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা স্টেডিয়ামের দখলে। দুই ও তিন-নম্বরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ড। জিম্বাবুয়ের ঐতিহাসিক হারারে স্পোর্টস ক্লাব রয়েছে সর্বোচ্চ ওয়ানডে অনুষ্ঠানের ভেনু তালিকার চারে। উপমহাদেশের প্রথম ভেনু হিসেবে শ্রীলঙ্কার প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম গত বছর ওয়ানডে ম্যাচ আয়োজনের সেঞ্চুরির এলিট কাতারভুক্ত হয়। ২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর প্রথম ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হয় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। ফলে সবচেয়ে কম সময়ে শততম ওয়ানডে আয়োজনের গৌরবও যোগ হচ্ছে টাইগার ক্রিকেটের হোমভেনুর ইতিহাসে।

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম

 

কেবল সর্বোচ্চ ম্যাচ অনুষ্ঠানেই শেরেবাংলার অবদান সীমাবদ্ধ নয় স্বাগতিক বাংলাদেশের ক্রিকেটে; বরং এ ভেনুটিই দুই হাত উজাড় করে দিয়েছে টাইগার ক্রিকেটকে। বিশেষ করে র্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর বিপক্ষে বেশির ভাগ সাফল্য মিরপুরেই অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ২০১০ সালের সূচনা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে। এর পর একে একে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সাফল্যের ভেনুও মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। এ ভেনুতেই টেস্ট ক্রিকেটে টাইগারদের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ অর্জন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়োৎসব।

 

মিরপুরে শুভ সূচনা চায় শ্রীলঙ্কা, প্রথম জয় লক্ষ্য জিম্বাবুয়ের

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ৮ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করে জিম্বাবুয়ে। আগামীকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শততম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডাবল লিগ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নামছে আফ্রিকার দলটি। লঙ্কানদের হারিয়ে এবারের আসরে প্রথম জয়ের স্বাদ নিতে মরিয়া জিম্বাবুয়ে। অপরদিকে, প্রথমবারের মত এবারের আসরে খেলতে নেমে শুভ সূচনা চায় শ্রীলঙ্কা। মিরপুরের এই ভেন্যুতে এটি হতে যাচ্ছে শততম ওয়ানডে। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচ দিয়ে মিরপুর স্টেডিয়ামে ওয়ানডে অভিষেক ঘটে। এরপর এখানে ধারাবাহিকভাবেই হয়েছে ওয়ানডে। সেই ধারাবাহিকতায় অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ওয়ানডেতে ম্যাচ আয়োজনে সেঞ্চুরি করতে যাচ্ছে মিরপুর। বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ ভেন্যু হিসেবে শততম ওয়ানডে ম্যাচ হতে যাচ্ছে মিরপুরে। দুভার্গ্যবশত এমন মাইলফলকের ম্যাচে নেই বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে।

২০১৭, দুঃস্বপ্নের এক বছর শেষ করলো শ্রীলঙ্কা। টেস্ট, ওয়ানডে ও টুয়েন্টি টুয়েন্টি তিন ফরম্যাটেই ব্যর্থতার স্বাদ পেয়েছে দলটি। ১৩ টেস্টে ৪ জয়ের বিপরীতে ৭ ম্যাচে হার, ২৯ ওয়ানডেতে ৫ জয়ের বিপরীতে ২৩ ম্যাচে হার এবং টি-২০ ফরম্যাটে ১৫ ম্যাচে ৫ জয়ের বিপরীতে ১০ ম্যাচে হারে শ্রীলঙ্কা। এমন ফলাফল শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য এক বিষাদময় বছরই বটে।

হতাশাজনকভাবে একটি বছর কাটানোর পর সমস্যা জর্জরিত একটি দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন হাথুরুসিংহ। ছয় মাসের মধ্যেই দু'বার অধিনায়ক পরিবর্তন করেছে দেশটির ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ। গত জুলাইয়ে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ পদত্যাগ করার পর লংকান ক্রিকেট দলটি অনেকটাই অর্থে সাগরে পড়ে যায়। শেষ দল হিসেবে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা শ্রীলঙ্কা ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে ম্যাথুজকে পুনরায় সীমিত ওভারের অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়েছে।
তবে এই বিষাদ থেকে বেরিয়ে আসতে দেশের সাবেক খেলোয়াড় ও বাংলাদেশের সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহকে দলের দায়িত্ব তুলে দেয় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড। খাদের মধ্যে পড়ে যাওয়া জাতীয় দলকে তুলে আনার দায়িত্ব পেয়েছেন হাথুরু। আর হাথুরুসিংহের প্রথম এসাইনমেন্ট হচ্ছে বাংলাদেশের মাটিতে। তাই এই সিরিজ নিয়ে অনেক বেশি রোমাঞ্চিত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক এই বস।

দল নিয়ে বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে হাথুরুসিংহে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে আবার ফিরতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। সিরিজের দিকে তাকিয়ে আছি আমরা পুরো দল। নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়েও আমি রোমাঞ্চিত। দেশে খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েই আমরা এখানে এসেছি। আমাদের উন্নতির আরও অনেক জায়গা আছে। তাই পুরো দল ও সিরিজ নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত।’
কিছুদিন আগেই লাল-সবুজ জার্সি পড়ে বাংলাদেশের পক্ষে লড়াই করেছিলেন হাথুরুসিংহে। কিন্তু দু’মাসের ব্যবধানে তিনি এখন হয়ে গেছেন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। প্রতিপক্ষ হলেও, সাবেক দলের সাফল্য কামনা করছেন হাথুরু, ‘আমি এখনও চাই বাংলাদেশ ভালো পারফরমেন্স করুক। বাংলাদেশের সকল খেলোয়াড়দের শুভ কামনা জানাই। আমি চাই খেলোয়াড়রা অনেক সাফল্য অর্জন করুক।’

তাই হাথুরুসিংহের হাত ধরেই আবারো ঘুড়ে দাড়ানোর স্বপ্নে বিভোর শ্রীলঙ্কা। কাগজে-কলমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি বড় চ্যালেঞ্জের না হলেও আগামী ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে শ্রীলঙ্কাকে। তার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিজেদের ঘা গরম করার সুযোগ পাচ্ছে লঙ্কানরা।

ইতোমধ্যে নিজেদের গা গরম করে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় ব্যবধানেই হারে তারা। বাংলাদেশের বোলারদের নৈপুন্যে এক ওভার হাতে রেখেই ১৭০ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। উদ্বোধণী বোলার হিসেবে আক্রমনে এসে বল হাতে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

এরপর ১৭১ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্র ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবালের ব্যাটে চড়ে স্পর্শ করে ফেলে বাংলাদেশ। ৯৩ বলে অপরাজিত ৮৪ রান করেন তামিম। বোলিং-এর পাশাপাশি দলের জয়ে ব্যাট হাতে ৩৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাকিব।

বাংলাদেশের দুর্দান্ত নৈপুন্যের কাছে হার মানলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুড়ে দাঁড়াতে চাইবে জিম্বাবুয়ে। সেই লক্ষ্য নিয়ে নতুন শ্রীলংকার বিপক্ষে জয় তুলে নেয়াই প্রধান লক্ষ্য ক্রেমার-মাসাকাদজাদের। লক্ষ্যের পেছনে জিম্বাবুয়েকে সাহস যোগাচ্ছে গেল বছরের জুলাইয়ে শ্রীলংকার মাটিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে জয়কে। দুর্দান্ত নৈপুণ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিয়েছিলো গ্রায়েম ক্রেমারের দল। ওই স্মৃতিতে সাহস পেয়ে মিরপুরের শততম ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জয় পেলে তা স্মরণীয় হয়েই থাকবে।

গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে চার দিনের প্রথম দিবা-রাত্রির টেস্টে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ইনিংস ও ১২০ রানে পরাজিত হয় জিম্বাবুয়ে। মাত্র ৯০৭ বল স্থায়ী হয়েছিল ম্যাচটি।

তবে ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পর আন্তর্জাতিক এক দিনের ক্রিকেট ম্যাচ না খেলা ব্রেন্ডন টেইলর ও কাইল জার্ভিস বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবারো জিম্বাবুয়ে দলে ফিরেছেন।

লংগার ভার্সনে খেলার সুযোগ কম থাকায় জিম্বাবুয়ে সিমিত ওভারের ক্রিকেটেই বেশি মনোযোগী হবে বলে আভাস দিয়ে রেখেছেন দেশটির কোচ হিথ স্ট্রিক।

শ্রীলঙ্কা দল : অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ (অধিনায়ক), উপুল তারাঙ্গা, দানুশকা গুনাথিলাকা, কুসল মেন্ডিজ, দিনেশ চান্ডিমাল, কুসল জেনিথ পেরেরা, ধিসারা পেরেরা, আসেলা গুনারত্নে, রিনোশান ডিকবেলা, সুরঙ্গ লাকমাল, নুয়ান প্রদীপ, দুশমন্ত চামিরা, শেহান মাদুশানাকা, আকিলা ধনঞ্জয়া, লক্ষন সান্দাকান, বানিদু হাসারাঙ্গা।

জিম্বাবুয়ে দল : গ্রায়েম ক্রেমার (অধিনায়ক), হ্যামিলটন মাসাকাদজা, সলোমন মির, ক্রেইগ আরভিন, ব্রেন্ডন টেইলর, সিকান্দার রাজা, পিটার মুর, ম্যালকম ওয়ালার, রায়ান মারে, টেন্ডাই চিসোরো, ব্রেন্ডন মাভুতা, ব্লেসিং মুজারাবানি, ক্রিস্টোফার মোফু, টেন্ডাই চাতারা ও কাইল জার্ভিস।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫