ঢাকা, সোমবার,২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

ফিলিস্তিনিদের 'শাস্তি' দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল

নয়া দিগন্ত অনলাইন

১৭ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১০:০৬ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ১০:১৯


প্রিন্ট
ফিলিস্তিনিদের 'শাস্তি' দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল

ফিলিস্তিনিদের 'শাস্তি' দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশল

ফিলিস্তিনিদের সাহায্যে গঠিত জাতিসঙ্ঘের ত্রাণ তহবিলে প্রতিশ্রুত আর্থিক সহায়তার পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। বাকি অর্থ দেয়া হবে কি না, তা ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এ বছর অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে সাড়ে ১২ কোটি ডলার দেয়ার কথা থাকলেও, এখন তার অর্ধেকেরও বেশি পরিমাণ অর্থ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব।

ফিলিস্তিনিদের সহায়তার জন্য গড়া জাতিসঙ্ঘ তহবিলে এ বছর সাড়ে ১২ কোটি মার্কিন ডলার অর্থনৈতিক সাহায্য দেয়ার কথা যুক্তরাষ্ট্রের।

যুক্তরাষ্ট্র এখন বলছে, জাতিসঙ্ঘকে ৬০ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হবে। কিন্তু বাকি ৬৫ মিলিয়ন ডলার দেয়া হবে কি না, তা ভবিষ্যতে বিবেচনা করা হবে।

মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে, ফিলিস্তিনে চলমান ত্রাণ কার্যক্রম অর্থসঙ্কটে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন জাতিসঙ্ঘের কর্মকর্তারা।

এতে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুটেরেস।

এক সংবাদ সম্মেলনে গুতেরেস বলছেন, জাতিসঙ্ঘ ফিলিস্তিনে যে সব অতি প্রয়োজনীয় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো সেগুলো চালিয়ে যেতে না পারলে, গুরুতর সঙ্কট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

ফলে সেই পরিস্থিতি এড়াতে জাতিসঙ্ঘ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসঙ্ঘের ত্রাণ কার্যক্রমের প্রায় ৩০ শতাংশ অর্থ আসে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে।

এই বাজেটেই স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রম সরবরাহ করা হয়।

তবে, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র হিথার নিউয়ার্ট বলেছেন, কাউকে শাস্তি দেয়ার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

বরং এই সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র কিছু সংস্কার দেখতে চায় বলেই এটি করেছে।

 

ইসরাইলের স্বীকৃতি স্থগিত করল পিএলও

ইসরাইলকে দেয়া জাতিরাষ্ট্রের স্বীকৃতি স্থগিত করেছে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পিএলও। ১৯৯৩ সালে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত অসলো চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিন ও ইসরাইল পরস্পরকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। ওই চুক্তিটি পর্যালোচনারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।

১৯৯০-এর দশকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের মধ্যস্থতায় ইসরাইল-ফিলিস্তিন অসলো চুক্তি হয়। ওই চুক্তির মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের ক্ষমতাসীন দল পিএলও প্রথমবারের মতো পরস্পরকে স্বীকৃতি দেয়। চুক্তিতে গাজা উপত্যকাকে পশ্চিম তীর থেকে পৃথক করার সুপারিশ করা হয়। তবে সব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার পর এটি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিএলও। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা নাবিল শাত জানান, ওই চুক্তি বাতিলের বিষয়ে আলোচনা করবে পিএলওর কেন্দ্রীয় কাউন্সিল।

১৪ ও ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পিএলওর দুই দিনের বৈঠকের পর ফিলিস্তিনের সিদ্ধান্ত নির্ধারণকারী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে একটি চূড়ান্ত বিবৃতি পড়ে শোনানো হয়। বিবৃতিতে সব ক্ষেত্রে ইসরাইলের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধের নবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি যারা জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে সেখানে দূতাবাস সরাবে তাদের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানানো হয় আরব রাষ্ট্রগুলোকে। দুই দিনের বৈঠকের শুরুতে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘‘এখন আমরা ট্রাম্পকে ‘না’ বলব। আমরা তার পরিকল্পনা গ্রহণ করব না।” মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’তে পৌঁছানোর যে অঙ্গীকার করেছেন তার প্রসঙ্গ টেনে আব্বাস বলেন, “আমরা যাকে ‘শতাব্দীর চুক্তি’ বলে ডাকছি সেটি আসলে শতাব্দীর চপেটাঘাত।”

১৯৯৩ সালে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরের পর ১৯৯৫ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ নামে অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অসলো চুক্তির মধ্য দিয়ে পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এলাকায় ফিলিস্তিনি অর্থনীতি, বেসামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ পেয়েছিল ইসরাইল। ওই চুক্তির মধ্য দিয়ে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিতর্কিত নিরাপত্তা সহযোগিতার দুয়ার খুলেছিল।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানায়, ৭০ বছরেরও বেশি পুরনো সঙ্ঘাতের একটাই সমাধান, তাহলো পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা। তবে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে কেবল ইসরাইলি দখলদারিই জোরদার হয়েছে। ওই ধরনের কোনো সমাধানে পৌঁছানোটা ফিলিস্তিনিদের জন্য জটিল হয়ে পড়ে। ইসরাইলি সেনাদের কড়া পাহারায় বর্তমানে ৬ লাখ থেকে সাড়ে ৭ লাখ ইসরাইলি নাগরিক অধিকৃত ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোয় বসবাস করছে। ইসরাইলের মোট জনসংখ্যার ১১ শতাংশই এখানে আছে। অধিকৃত এলাকাগুলোয় থাকতে ইসরাইল সরকার তাদের নাগরিকদের উৎসাহ ও প্রণোদনা দিয়ে থাকে। - আলজাজিরা

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫