রাষ্ট্রীয় আট ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল
রাষ্ট্রীয় আট ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

রাষ্ট্রীয় আট ব্যাংকে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

অবশেষে বাতিল করা হলো রাষ্ট্র মালিকানাধীন আট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা। একই সাথে পরীক্ষায় ব্যাপক অব্যবস্থাপনার কারণ অনুসন্ধানে গঠন করা হলো তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটিকে রিপোর্ট দিতে ১৪ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। তবে বাতিল হওয়া পরীক্ষা আবার কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেটা নির্ভর করছে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

গতকাল গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ ব্যাংকে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগের দায়িত্বে থাকা ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এবং ১৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীগণ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের প্রতিনিধিরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র ও মহাব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, সভায় আট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরীক্ষা কবে হবে তা পরে জানিয়ে দেয়া হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে আসন বিড়ম্বনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ জামালের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে সোনালী, জনতা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জিএম থাকবেন সদস্যসচিব হিসেবে। কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গত ১২ জানুয়ারি শুক্রবার রাজধানীর ৬১টি কেন্দ্রে এ নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও আসন স্বল্পতার কারণে গণ্ডগোলে মিরপুরের একটি কেন্দ্রের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি চাকরিপ্রার্থী সে দিন পরীক্ষা দিতে পারেননি। অন্যান্য কেন্দ্রেও প্রশ্নপত্র দেরিতে পৌঁছানোসহ নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া যায়।

জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি গঠন করে সরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে প্রধান করে সরকারি সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এমডিদের এতে সদস্য করা হয়। এরপরও নিয়োগ পরীক্ষার অব্যবস্থাপনা ও প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। প্রশ্ন ফাঁসের কারণে ইতোমধ্যে দুইটি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল হয়েছে।

গত শুক্রবার রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকসহ আট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার (সাধারণ) এক হাজার ৬৬৩টি শূন্যপদে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণযোগ্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ১৩ হাজার। ওই পরীক্ষার ৬১টি কেন্দ্রের অনেকগুলোতেই আসন ব্যবস্থাপনা, সময়মতো প্রশ্নপত্র না পাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। মিরপুরের শাহ আলী মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার সময়ই বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা ভাঙচুর চালান, পরে সেই কেন্দ্রের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।

ওই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেয়া, ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির (বিএসসি) সদস্যসচিবের পদত্যাগ, প্রতিটি কেন্দ্রে আসনবিন্যাস নিশ্চিত করা, বিতর্কিত কেন্দ্র বাদ দেয়া, বিকল্প কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব দেয়াসহ ৯ দফা দাবি ছিল আন্দোলনকারী পরীক্ষার্থীদের।

কেন এই অব্যবস্থাপনা : বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সূত্র জানিয়েছে, বিএসসি গঠনের পর থেকে সরকারি ব্যাংকে কর্মকর্তা নিয়োগের ভার আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর। পরীক্ষার আয়োজন করার জন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা সংস্থাকে দিয়ে পরীক্ষার যাবতীয় পর্ব সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। প্রতি পরীক্ষার্থীর পরীক্ষার আয়োজনের জন্য ১০৩ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ পরীক্ষা আয়োজন করে। কিন্তু চরম অব্যবস্থাপনায় ১২ জানুযায়ী কয়েক শ’ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে পারেননি। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র অভিযোগ করেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগ পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে অধিক মুনাফার দিকেই বেশি নজর দিয়েছে। যেখানে একটি রুমে ৩০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী বসতে পারবে না, সেখানে ১০০ জনের বসানোর আয়োজন করেছে তার। আবার যত পরীক্ষার্থী ততজনের খাতা ও প্রশ্নপত্র ছাপানোর কথা থাকলেও অনেক কেন্দ্রে ওই দিন পরীক্ষার্থীর চেয়ে প্রশ্নপত্র কম ছিল। এসবের ফলে এক দিকে যেমন নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করতে হলো, অপর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তির ওপর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে দিয়ে পরীক্ষা আয়োজন করা মোটেও যুুক্তিসঙ্গত হবে না বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যানের বক্তব্য নিতে বার বার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.