ঢাকা, বুধবার,২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

নগর মহানগর

তিন হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে

র্যাবের সাতটি কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

১৭ জানুয়ারি ২০১৮,বুধবার, ০০:০০


প্রিন্ট

সারা দেশে তিন হাজার নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকার ১০ হাজার ৬৪০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এ প্রকল্পে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ১০টি করে স্কুলের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি গতকাল অনুমোদন দেয়া হলেও গত জুলাই থেকে এর বাস্তবায়ন শুরু দেখানো হবে। এ ছাড়া সারা দেশে সাতটি র্যাব কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় তিন হাজার বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পটিসহ মোট ১৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ১৪ প্রকল্পের সাথে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ১৮ হাজার ৪৮২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১৬ হাজার ৩৭০ কোটি ৮১ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব ৯৫ কোটি টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ২ হাজার ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা।
জানা গেছে, প্রতিটি স্কুল অবকাঠামো খাতে পাবে গড়ে তিন কোটি টাকা এবং সংম্পদ সংগ্রহ ও ক্রয়ে ৩৭ লাখ টাকা। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ বিভাগের ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর উন্নয়ন’ প্রকল্প এবং সার্বজনীন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা গত কয়েক দশকে ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪ সালের ব্যানবেইস রিপোর্ট অনুযায়ী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ জন। তবে শিক্ষার্থীদের একটি বিরাট অংশ এখনো মাধ্যমিক শিক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে। মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণে যোগ্য সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি করা আবশ্যক। বর্তমানে বাংলাদেশে ৩২৭টি সরকারি ও ১৯ হাজার ৩৫৭টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের তিন হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ভবন নির্মাণ করা হবে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের বর্ধিত চাহিদা পূরণ হবে এবং শিক্ষার ভালো পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটিসহ মোট দুইটি প্রকল্পের জন্য আগামী দুই অর্থবছর জিওবি খাতে ১৫ হাজার ১০৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে। কিন্তু এমটিবিএফে বরাদ্দের প্রক্ষেপণ হলো ১৪ হাজার ২৪৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। যেখানে বর্তমান অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিভাগের ৬৪ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছয় হাজার ১৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, সেখানে দুইটি প্রকল্পের জন্য আগামী দুই অর্থবছরে দরকার হবে ১৫ হাজার ১০৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এ অর্থ নিশ্চিত করতে না পারলে এ বিভাগের সব প্রকল্প বাস্তবায়নে বিঘিœত হবে।
একনেকের তথ্যানুযায়ী, ৫৯৯ কোটি আট লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি র্যাব কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। সারা দেশে ১২টি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন সৃষ্টি করা হয়। র্যাবের কোনো স্থায়ী অবকাঠামোগত সুবিধা না থাকায় সাময়িকভাবে ভাড়া বাড়িতে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সেখানে অস্ত্র, যানবাহন এবং ফোর্স ও কর্মচারীর জন্য পর্যাপ্ত স্থানের অভাব রয়েছে। নবগঠিত দুইটি বিভাগ (রংপুর ও ময়মনসিংহ) এর জন্য দুইটি র্যাব ব্যাটালিয়ন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাতটি ব্যাটালিয়নে যথা, রাজশাহী (র্যাব-৫), খুলনা (র্যাব-৬), চট্টগ্রাম (র্যাব-৭), বরিশাল (র্যাব-৮), সিলেট (র্যাব-৯), নারায়ণগঞ্জ (র্যাব-১১) এবং সিরাজগঞ্জ (র্যাব-১২)- এ র্যাব কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলোÑ বন্যাপ্রবণ ও নদীভাঙন এলাকায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্প, জেলা ত্রাণ গুদাম কাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম প্রকল্প, বৃহত্তর চট্টগ্রাম গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩, বৃহত্তর ফরিদপুর চরাঞ্চল এবং পাশের এলাকায় গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ও দুগ্ধের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিতকরণ কারখানা স্থাপন প্রকল্প, অগ্রাধিকারমূলক গ্রামীণ পানি সরবরাহ প্রকল্প, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প, বগুড়া উপজেলার মহাড়ক তিনটি যথাযথ মানে ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বহুতল অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্প, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই) শিল্প পার্ক প্রকল্প, ইমারজেন্সি ২০০৭ ঘূর্ণিঝড় পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন এবং প্রজেক্ট করডিনেশন অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট প্রকল্প (তৃতীয় সংশোধিত)।

 

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫