জাহাজভাঙা শিল্পে গত বছর ১৫ শ্রমিক নিহত হয়েছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাজভাঙা শিল্পে ২০১৭ সালে ১৫ শ্রমিক নিহত ও ২২ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরায় অবস্থিত জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন।
গত এক বছরে শ্রমিক হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশ অক্যুপেশনাল সেইফটি, হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ফাউন্ডেশন (ওশি)। ওশি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত বার্ষিক সমীক্ষা প্রতিবেদনে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওশির নিজস্ব তথ্য সংগ্রহকারী এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেশ কিছু ইয়ার্ডে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব ইয়ার্ডে হতাহতের সংখ্যাও বেশি। ফেরদৌস স্টিলে তিনটি দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন, কে আর স্টিল মিলে তিনটি দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন, এস এন করপোরেশন স্টিল মিলে চারটি দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত এবং দুইজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া লালবাগ শিপইয়ার্ডে একটি দুর্ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার কারণ জাহাজ থেকে পড়ে যাওয়া, লোহার পাতের ধাক্কা বা নিচে চাপা পড়া, অগ্নিকাণ্ড, এক্সক্যাভাটরের আঘাত ও বিষাক্ত গ্যাসে আটকা পড়া।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৫ শতাংশ ইয়ার্ডের মালিক তাদের শ্রমিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ, হেলমেট, সেইফটি জ্যাকেট, বুট প্রভৃতি সরবরাহ করেন না। অন্য দিকে যেসব ইয়ার্ডে ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয় সেখানকার শ্রমিকেরাও এসব ব্যবহারে উদাসীন থাকেন। তবে যেসব শ্রমিক পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলছেন তারা দুর্ঘটনা থেকে মুক্ত।
এ দিকে জাহাজভাঙা শিল্প এলাকায় কর্মপরিবেশ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি উন্নয়নে ওশির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে। শ্রমবিধি ২০১৫ অনুযায়ী প্রতিটি ইয়ার্ডে সেইফটি কমিটি গঠন ও তা কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছে ওশি ফাউন্ডেশন। তাছাড়া রাতে কাজ করা, নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শ্রমিক নিযুক্ত করা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ পরিধান না করলে জাহাজকাটার কাজে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সুপারিশ করা হয়।
ওশির পক্ষ থেকে হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, মালিকপক্ষের উদ্যোগে শ্রমিকদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ দেয়া, সরকারের উদ্যোগে কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতর থেকে ইয়ার্ডগুলোতে স্থায়ী পরিদর্শক নিযুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও চিকিৎসা উপকরণ সরবরাহের দাবি জানানো হয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.