শাবি শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কাল

শাবি সংবাদদাতা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ২০১৮ আগামীকাল বৃহস্পতিবার। নির্বাচনে সামনে রেখে প্রার্থী ও প্যানেল সমর্থকদের চলছে শেষ মুহূর্তের প্রচারণা। এ বছর নির্বাচনে আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের দু’টি প্যানেল ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের একটি প্যানেল প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছে। গত ১১ জানুয়ারি তিনটি প্যানেলের প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো: আনোয়ার হোসাইন।
নির্বাচনে অংশ নেয়া আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দু’টি প্যানেল হচ্ছে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ ও ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’। অপর দিকে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষদের একমাত্র প্যানেল হিসেবে লড়বে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক ফোরাম’।
আওয়ামীপন্থী ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে অধ্যাপক সৈয়দ হাসানুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক পদে সহযোগী অধ্যাপক ওমর ফারুক প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন। অপর প্যানেল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মুক্তচিন্তা চর্চায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষক পরিষদ’ থেকে সভাপতি পদে অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক পদে সহযোগী অধ্যাপক জহির উদ্দিন আহমেদ প্রার্থী হয়েছেন। অন্য দিকে বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্যানেল ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল শিক্ষক ফোরাম’ থেকে সভাপতি পদে অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম ও সাধারণ সম্পাদক পদে সহযোগী অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো: আনোয়ার হোসাইন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ভোট গ্রহণ করা হবে। এ বছর নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রশীদ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহসীন আজিজ খান এবং পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লুৎফুল এলাহী কাউসার।
নির্বাচনে শিক্ষক সমিতির সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ মনে করেন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ও প্রচারণা সংশ্লিষ্টবিষয়কে অনলাইনভিত্তিক করলে শিক্ষকেরা তাদের অফিস টাইমে অ্যাকাডেমিক কাজে মনোনিবেশ করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন তো প্রতি বছরই হয়। কাজেই প্রতিবারই আলাদাভাবে প্রচারণার পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনার যদি প্রার্থীদের বায়োগ্রাফিসহ প্রতিশ্রæতির কপিগুলো সব শিক্ষকের কাছে পৌঁছে দেন, তাহলে প্রার্থীদের কর্মঘণ্টা নষ্ট করে বাড়তি প্রচারণার দরকার হবে না।
শিক্ষক সমিতির টানা তিনবারের নির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুল আলম বলেন, এটা খুবই চমৎকার একটা কনসেপ্ট। উন্নত দেশগুলোতে এরকম সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও এই সিস্টেম চালু হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে যদি ভিন্নতা আনা যায় ও বিষয়টা অনলাইনভিত্তিক করা যায়, তাহলে ওই সময়টাতে শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক কাজ বাধাগ্রস্ত হবে না।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.