স্মার্টফোন উৎপাদনে পিছিয়ে ভারত
স্মার্টফোন উৎপাদনে পিছিয়ে ভারত

স্মার্টফোন উৎপাদনে পিছিয়ে ভারত

আহমেদ ইফতেখার

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে হটিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ভারত। ক্রমবর্ধমান স্মার্টফোনের বাজার হিসেবে চীনের পর থাকলেও, দেশটি এখনো আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটের ওপর নির্ভরশীল। ডিভাইস উৎপাদন খাতকে কেন এগিয়ে নিতে পারছে না ভারত। কারণ ভারতের টেলিযোগাযোগ খাতের প্রবৃদ্ধির বেশির ভাগ আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধির জন্য বাধা। 

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় ভারতীয় ইলেকট্রনিক উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধির চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু হ্যান্ডসেট উৎপাদন এবং অন্যান্য টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামের জন্য অধিক মাত্রায় আমদানিনির্ভর হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অগ্রগতি। সম্প্রতি ব্রডব্যান্ড ইন্ডিয়া ফোরাম (বিআইএফ) ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) কলকাতা এবং থট আরবিট্রেজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (টিএআরআই) সহায়তায় স্থানীয়ভাবে হ্যান্ডসেট উৎপাদন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে কম উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়ন বাবদ উল্লেখযোগ্য ব্যয় ও পেটেন্ট না থাকার মতো বিষয়গুলো পিছিয়ে থাকার কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিআইএফের তথ্যমতে, ভারতের আমদানিকৃত পণ্যতালিকায় মোবাইল হ্যান্ডসেট ও অন্যান্য টেলিকম সরঞ্জামের অংশীদারিত্ব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। বর্তমানে আমদানিকৃত পণ্যতালিকায় ২৬ দশমিক ৪ শতাংশই মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং অন্যান্য টেলিকম সরঞ্জাম রয়েছে। হ্যান্ডসেট উৎপাদনের জন্য আমদানিকৃত সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় ভারতীয় ডিভাইস নির্মাতারা উৎপাদন ভ্যালু যোগ করতে পারছে না। কোনো দেশের স্থানীয় ইলেকট্রনিক উৎপাদন খাতকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজনীয় পেটেন্ট দখলদারিত্ব থাকতে হয়। এ ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তি উদ্ভাবকেরা বেশ পিছিয়ে রয়েছেন। পেটেন্ট দখলে না থাকার কারণে দেশটির প্রযুক্তি উদ্ভাবকেরা গবেষণা ও উন্নয়ন বাবদ ব্যয়ের বিপরীতে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। মোবাইল প্রযুক্তির বেশির ভাগই নামী দামি কোম্পানিগুলোর পেটেন্ট করা। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বেশি দরে পেটেন্ট রয়্যালিটি কিনে ডিভাইস উৎপাদনের কারণে তা লাভজনক হচ্ছে না।

বর্তমানে বিদেশী হ্যান্ডসেট নির্মাতারা স্বল্পপরিসরে হলেও ভারতে কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা স্থানীয় হ্যান্ডসেট নির্মাতাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর ফলে স্থানীয় হ্যান্ডসেট নির্মাতারা মোবাইল প্রযুক্তির উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আগ্রহী হয়ে উঠবে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সাথে যৌথভাবে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে ভারতে অনেক প্রতিষ্ঠান।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.