ত্বকের সমস্যা একজিমা
ত্বকের সমস্যা একজিমা

ত্বকের সমস্যা একজিমা

ডা. দিদারুল আহসান

একজিমা নামক চর্মরোগটি আমাদের সবার কাছেই একটি পরিচিত রোগ। যারা এ রোগে আক্রান্ত তাদের অনেকেই নিজেকে এক দুরারোগ্য রোগের শিকার বলে মনে করেন। আবার অনেকের ধারণা, এ রোগ হলে কখনোই সারে না, তাই তারা চিকিৎসা করান না। আবার অনেকে এও মনে করেন, এটা চিকিৎসা করে সারালে অবশ্যই তার হাঁপানি রোগ দেখা দেবে। কাজেই অনেকেই এ রোগ চিকিৎসা করাতে রাজি নন, যা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। 

একজিমা হওয়ার প্রবণতা কিছুটা বংশগত। বাইরের কোনো বিশেষ বস্তুর প্রভাবে অ্যালার্জিজনিত কারণে যদি একজিমা হয় তা পুরোপুরি সারানো সম্ভব। তবে ওই বিশেষ বস্তুটি কী তা নির্ধারণ করতে হবে এবং তার স্পর্শ থেকে শরীরকে মুক্ত রাখতে হবে। এ প্রসঙ্গে একটি উদাহরণ দিতে চাই। অনেকের হাতে লক্ষ করলে দেখবেন যেখানে ঘড়ি পরে সেখানে অ্যালার্জি দেখা দেয় এবং পরবর্তী সময়ে তা একজিমায় পরিণত হয়। আর যদি ওই ঘড়ি পরা বন্ধ করে দেয়া হয় তাহলে কোনো রকম চিকিৎসা না করলেও আস্তে আস্তে রোগটি ভালো হয়ে যায়। একজিমার কারণ যদি দেহের ভেতরে হয় তবে সে ক্ষেত্রে তা পুরোপুরি ভালো করে তোলা বেশ কঠিন।

সম্ভাব্য কারণ
পেশাগতভাবে কৃষক, সিমেন্ট, কীটনাশক, গাছ, পশু, খাবারের কোবাল্ট, কাঠ সংরক্ষণকারী পদার্থ ডিজেল, গ্যাসোলিন, বিভিন্ন জীবানুনাশক পদার্থ।

শিল্পী
অ্যাক্রাইলিক বা ফিনাইল, অ্যাক্রাইলিক রেজিন। এপাক্স এবং পলিয়েস্টার রেজিন, বিভিন্ন দ্রবণ যেমন- কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, বেনজিন, টলুইন, অ্যাসিটোন, টারপেনাটিন, নিকেল, ক্রোমিয়াম রঙ, মাটি, কাদা ও এস্টার।

নাপিত
কুইনাইন, রেসর্সিন, মার্কারি, নিকেল, প্যারাফিনাইল ডাই অ্যামাইন, কেপসিকাম, আর্সেনিক ও সালফার।

দারুশিল্পী
গাছের গুঁড়ি, মেহগিনি, নিকেল, প্লাস্টিক, পালিশ ও রাবার টরপেনটাইন।
কেমিস্ট : সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ।

ছাপাখানার কম্পোজিটা
বেনজাইন, ডাইক্রোমেট, রাঁধুনি, সাবান, ডিটারজেন্ট, সবজি, যেমন- পেঁয়াজ, রসুন, গাজর, আলু, নিকেল, কীটনাশক।

দন্ত চিকিৎসক
সাবান, ডিটারজেন্ট, অক্সাইলিক মনোমার ও স্থানিক অবশকারী ওষুধ।

চিকিৎসক
রাবার, গ্লোভস, সাবান ও বিভিন্ন ওষুধ।
ছাপাখানার কর্মচারী : আর্সেনিক, ডাইক্লোমেট ও নিকেল, হাইড্রোকার্বন।

শল্যচিকিৎসক
এন্টিসেপটিক, আয়োডিন পারদযুক্ত পদার্থ, হেকসাক্লোরোফেন, রাবার গ্লোভস, গ্লোভসের পাউডার, প্রোকেন, ফরমালডিহাইড।

চিকিৎসা
একজিমার চিকিৎসায় প্রথম খুঁজতে হবে এটা কোন ধরনের একজিমা। তারপর খুঁজতে হবে কী কারণে হলো এবং তৃতীয়ত, দেখতে হবে এটা একুউট না পুরাতন একজিমা। তার পরেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এর জন্য কোন চিকিৎসা কার্যকরী।

একজিমা চিকিৎসার সাধারণ ছক নিম্নরূপ :
পটাশিয়াম পারমাঙ্গানেট দ্রবণ ১ : ৮০০০ মাত্রায়। চুলকানি প্রশমন করি লোশিও ক্যালামিন ব্যবহার। কর্টিকোস্টেরয়েড ক্রিম। এন্টিবায়োটিক ক্রিম, খাবার ক্যাপসুল। এন্টিহিস্টামিন খাবার জন্য। ট্রঙ্কুলাইজার বা সিডেটিভ (খাবার জন্য)। স্টেরয়েডের সাথে টার এবং আয়োডোহাইড্রোসিকুইনিন যোগ করা যেতে পারে।

তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটা কথা অবশ্যই বলতে হয়, কোন ধরনের চিকিৎসা আপনার প্রয়োজন তা কেবল একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞই সিদ্ধান্ত নেবেন।

লেখক : চর্ম, যৌন ও এলার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ. ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আল-রাজি হাসপাতাল, ১২, ফার্মগেট, ঢাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.