ঢাকা, বুধবার,২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

পাঠক গ্যালারি

এসএসসি পরীক্ষা ও কিছু প্রস্তাব

মাহমুদুল হক আনসারী

১৫ জানুয়ারি ২০১৮,সোমবার, ১৯:০২


প্রিন্ট
এসএসসি পরীক্ষা ও কিছু প্রস্তাব

এসএসসি পরীক্ষা ও কিছু প্রস্তাব

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের স্বাগতম। আর মাত্র কয়েক দিন পরেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। সারা দেশে একযোগে এ পরীক্ষা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নফাঁস একটি নিয়মিত সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কোচিং সেন্টার কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবক সবাই এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। ইতোমধ্যে পরীক্ষার তিন দিন আগে কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত এসেছে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে ৩০ মিনিট আগে প্রবেশের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মোবাইল ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁসে বেশি উদ্বিগ্ন মেধাবী ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক। ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। নিয়মিত ক্লাস ও অধ্যয়ন পর্ব নির্দিষ্ট বছরে শেষ করে পরীক্ষার মাধ্যমে তারা ভালো ফলাফল আশা করে থাকে। পরীক্ষার আগে প্রশ্নফাঁস হওয়ার মতো মারাত্মক শিক্ষা মরণব্যাধিতে ভুগছে সারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা। প্রথম শ্রেণী থেকে বিসিএস পরীক্ষা পর্যন্ত এ ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ছে। সরকারি-বেসরকারি নিয়োগ পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁসের ব্যাধি ধরা পড়ছে। প্রশ্নফাঁস চক্রের অনৈতিক মেধা বিধ্বংসী এ চক্র শিক্ষা প্রশাসনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সম্প্রসারিত বলে মনে হচ্ছে। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষামন্ত্রী ও সমাজের শিক্ষিত সচেতন অভিভাবক মহল এ বিষয়ে এখন অনেকটা সোচ্চার। উদ্বিগ্ন আর উৎকণ্ঠার মধ্যে সুশীলসমাজ প্রতিরোধ ও সমাজসচেতনতার কথা বলছে। প্রশ্নফাঁস চক্রকে প্রতিরোধ ও কঠোর শাস্তির কথা বলা হচ্ছে। এ চক্রের হাত এত সম্প্রসারিত, যে খোদ প্রশাসনও তাদের খুঁজে বের করতে হিমশিম খাচ্ছে। প্রশ্ন যারা তৈরি করেন এবং প্রস্তুত করেন, যাদের মাধ্যমে প্রশ্ন বিলি-বণ্টন হয়, তারা যদি এ জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তাহলে কিভাবে এ অনৈতিক কাজ বন্ধ করা যাবে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

সরকারের এত গোয়েন্দা বিভাগ আছে, তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কিভাবে সব পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়, সেটা সচেতন অভিভাবক মহলের বুঝতে কষ্ট হচ্ছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থী কোনোভাবেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে না। প্রশাসনের কিছু বক্তব্য আর পরীক্ষার কয়েক দিন আগে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিলেই কি প্রশ্নফাঁস বন্ধ হয়ে যাবে? প্রকৃত প্রশ্নফাঁস ষড়যন্ত্র যেখান থেকে শুরু সেখানেই এ চিকিৎসাব্যবস্থা করতে হবে। আসল জায়গায় চিকিৎসা না করে ডালপালা নিয়ে প্রতিরোধ করলে এর সুফল কতটুকু হবে সেটাও অভিভাবক মহলের প্রশ্ন।

জাতিবিধ্বংসী ছাত্রছাত্রীদের মেধা প্রতিবন্ধক এই ব্যাধি থেকে যে করেই হোক শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে হবে। তাদের আগামী শিক্ষাজীবনকে মেধা বিকাশে পরিষ্কার করতে হবে। নজরদারি করতে হবে প্রশ্ন তৈরি, সংরক্ষণ ও বিলি-বণ্টনে। এ কাজে যারা নিয়োজিত তাদের কড়া নজরদারি রাখা চাই। যাদের মাধ্যমে বিলি-বণ্টন, তাদের রাষ্ট্র ও অভিভাবকদের গভীর উৎকণ্ঠা সম্পর্কে সতর্ক করতে হবে। এ অপরাধের শাস্তি কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। সব ধরনের প্রশ্নফাঁস চক্রান্ত ও যোগাযোগমাধ্যম কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখতে হবে। এ প্রশ্ন প্রস্তুত ও বিলি-বণ্টনের সাথে সম্পৃক্তদের নির্দিষ্টভাবে দায়িত্বের প্রতি সতর্ক করতে হবে। সবকিছু ঠিকভাবে সুশৃঙ্খল ও পরিচ্ছন্নভাবে রেখে যেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। তাদের যেন পরীক্ষাভীতি ও প্রশ্ন ফাঁসের কোনো কোনো সময় গুজব থেকে রক্ষা করা হয়। সব ধরনের সার্বিক নিরাপদ প্রস্তুতি যেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের থাকে। সেটায় ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক মহলের দাবি। ছাত্রছাত্রী অভিভাবক যেন কোনো অবস্থায় প্রশ্নফাঁস চক্রের শিকার না হন। এ ধরনের যেকোনো সংবাদ পাওয়ামাত্র প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে। কোনো অবস্থায় এ অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করা যাবে না।

সামাজিকভাবে শিক্ষক-ছাত্র-অভিভাবক সচেতন মহলকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অতিরিক্ত কড়াকড়ি ও জটিল কঠিন প্রশ্ন তৈরি করে ছাত্রছাত্রীদের যেন উৎকণ্ঠায় পড়তে না হয় সেটাও সংশ্লিষ্টদের মাথায় রাখতে হবে। প্রশ্ন পরীক্ষাকেন্দ্র এবং কেন্দ্র পরিদর্শকদের নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করা চাই। নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ ও সম্পন্ন করা অভিভাবক মহলের দাবি। সব ধরনের গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে পরিদর্শকদের কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরীক্ষার্থীদের জন্য করুণ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সব মহলকে ছাত্রছাত্রীদের সমানভাবে কাউন্সিলিং করার দাবি অভিভাবকদের। কেন্দ্রে কখনো কখনো কিছু শিক্ষক অনৈতিকভাবে কিছু নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থীকে অনৈতিক সুবিধ দেয়ার কথা ও শোনা যায়, এসব চরিত্র যেন না দেখতে পাওয়া যায় সেটার ও নজরদাবি রাখতে হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রের আশপাশে কোচিং সেন্টারের পক্ষ থেকে তাদের সেন্টার ও কোচিং বাণিজ্যের লিফলেট-হেন্ডবিল প্রচার করতে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। রাস্তার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে গাড়ি পার্কিং ও অভিভাবকদের জট তৈরি করা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সব ধরনের কোচিং সেন্টারের পোস্টার-লিফলেট প্রচারপত্র বিলি পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশ থেকে বন্ধ করা চাই। শহর গ্রামে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী পরীক্ষার আগে পরে পরিবহন সঙ্কটে পড়ে। পরীক্ষার সময় পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের সমন্বয় করে পরীক্ষার্থীদের যেন পরিবহন সঙ্কট না হয় সেটাও প্রশাসনকে দেখতে হবে।
রাস্তার অহেতুক যানজট দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা চাই। যথাযথ সময়ে পরীক্ষা শেষ ও ফলাফল মূল্যায়ন ফল ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হবে। ফলাফল নির্ণয় যেন কোনো ধরনের কারচুপি ও অনৈতিক মূল্যায়ন না হয়, সঠিক পদ্ধতি ও খাতার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে যেন ফলাফল ঘোষণা হয়। এটাই পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের দাবি।

সব ধরনের ও সব নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও পরীক্ষা সম্পন্ন করার দাবি রাখে দেশবাসী। সব ধরনের প্রশ্নফাঁস ষড়যন্ত্র থেকে ছাত্রছাত্রী অভিভাবক মহল যেন চিরদিনের জন্য মুক্তি পায়, রাষ্ট্রের কাছে সে আশা রাখে সচেতন মহল। আসুন সব ধরনের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনৈতিক শিক্ষা বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডকে একযোগে প্রতিরোধ করি। সব পরীক্ষার্থীদের প্রতি অজস্র ভালোবাসা আর সফলতা থাকল। 

লেখক : গবেষক

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫