শীত ফ্যাশনে শাল

এ কে রাসেল

একটা সময় শুধু বয়সী ব্যক্তিরাই শীতে শাল ব্যবহার করতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে শালের ব্যবহারেও এসেছে পরিবর্তন। শাল এখন ছেলে-মেয়ে বিশেষ করে তরুণদের অন্যতম শীত পোশাক। দেশী শালের মধ্যে মেয়েদের প্রথম পছন্দ খাদি শাল। তাতে ব্লক, বাটিক, স্ক্রিনপ্রিন্ট করা থাকলেও তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে পাতলা সিল্কের শালগুলো মেয়েরা পরছেন ওড়নার বদলেই। তাই যারা শাড়ি কিংবা সালোয়ার-কামিজ পরতে পছন্দ করেন, তারা শীতপোশাক হিসেবে শাল বা চাদর রাখতেই পারেন। কারণ শাল যেমন শীতের হাত থেকে রক্ষা করে, তেমনি এসব পোশাকের সাথে মানানসই বটেই। শাড়ির সাথে সাধারণত সুতির বা উলের চাদর মানানসই। সুতরাং একরঙা, হালকা কারুকাজের কিংবা পুরো জমিনে অনবদ্য সূচিকর্ম করা শাল বেছে নিতে পারেন আপনিও। 

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুচিশীলতার তাগিদে বৈচিত্র্য এসেছে ডিজাইনও প্যাটার্নে ডাবল কিংবা সিঙ্গেল শালে। নারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক শাল। এ বছর খাদি, উল, কটন শাল দেখা যাচ্ছে। হাতে বোনা মোটা কটনের শালও রয়েছে। এ ছাড়া কাশ্মিরি, দেশী সিল্কের শাল তো রয়েছেই। ডিজাইনের ক্ষেত্রে শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজের সাথে ব্যবহার উপযোগী শালে ক্রিস্টাল ও স্টোন ব্যবহার করা হয়েছে। শীতে শালের ব্যাপক কালেকশন বাজারে এনেছে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো। শীতের সময় নানা রঙের চাহিদার কথা মাথায় রখেই বাজারে এসেছে রঙবেরঙের শাল। শীতের শুষ্কতাকে সজীব করতেই সবুজ, হলুদ, নীল, লাল, কমলা, বেগুনি রঙের শাল এনেছে ফ্যাশন হাউজগুলো। এসব শালেও আছে স্ক্রিনপ্রিন্ট, টাইডাই, এমব্রয়ডারি কিংবা হাতের কাজ। শীতের এ সময়টায় শালের পসরা সাজায় দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো।
বিশ্বজুড়েই কাশ্মিরি শালের সুখ্যাতি রয়েছে। আমাদের দেশেও এর কদর আছে। বিশেষ করে কাশ্মিরি পশমিনা চাদর জনপ্রিয়তার শীর্ষে। তবে আমাদের দেশেও এখন তৈরি হচ্ছে পশমিনা চাদর। এ ছাড়া লুদিয়ানা, জয়পুরি, চায়নিজ, বার্মিজ ও ইরানি চাদর হতে পারে শীতের অন্যতম ফ্যাশন। তবে আপনি চাইলে একরঙা চাদরে নিজের ইচ্ছেমতো নকশা করে ব্যবহার করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে শীতের ফ্যাশনে আপনার ব্যক্তিত্বকে আরো ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

যেখানে পাবেন শাল : আড়ং, অঞ্জন’স, বাংলার মেলা, কাপড়-ই-বাংলা, দেশাল, নিত্য উপহার, কে-ক্রাফট, নবরূপা, বিবিয়ানা, নাগরদোলা, বাসন্তী, নিপুণসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ এরই মধ্যে শালের বৈচিত্র্যময় আয়োজন নিয়ে এসেছে। এ ছাড়া শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেট, নিউ মার্কেট, বঙ্গবাজারসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনতে পারেন আপনার পছন্দের শাল।

দরদাম : সাধারণ মানের শাল ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে। ফ্যাশন হাউজগুলোতে কটনের শালের দাম পড়াবে ৬০০-৯০০ টাকা, খদ্দর ৬৫০-১৫০০ টাকা, সিল্ক শাল ৮০০-২৫০০ টাকা, কাশ্মিরি কোয়ালিটি ভেদে দাম পড়বে ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.