ads

ঢাকা, শনিবার,২১ এপ্রিল ২০১৮

অর্থনীতি

শর্তসাপেক্ষে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তি করা হবে

মাদরাসা জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারের কিছু করণীয় নেই : অর্থমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৯:০৮


প্রিন্ট
আবুল মাল আবদুল মুহিত (ফাইল ফটো)

আবুল মাল আবদুল মুহিত (ফাইল ফটো)

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, শর্ত সাপেক্ষে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হবে। তবে জাতীয়করণের বিষয়ে এই মুহূর্তে সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। মাদরাসার শিক্ষকরা জাতীয়করণের জন্য যে অনশন করছেন এই মুহূর্তে তাদের জন্য সরকারের কিছু করার নেই।

আজ সচিবালয়ে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সাথে ইরা ইনফোটেক লিমিটেডের একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।
চুক্তির ভিত্তিতে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের সবগুলো শাখা অনলাইনের আওতায় আনা হবে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, এমপিওভুক্তিটা একটি খারাপ পলিসি, আই ওয়ান্ট ইটস রিফর্মস, এটা হচ্ছে না। সুতরাং আমি এমপিও আটকে রেখেছি। এবারে দিতে হবে, দেব তবে আই উইল গিভ ইট উইথ কনডিশনস (আমি কিছু শর্তসাপেক্ষে এমপিওভুক্তি দেব)।

এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে শর্তগুলো কি হবে- এ প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কিছু অংশ বরাদ্দ থাকবে, বিভিন্ন উপকরণ কেনার জন্যও। চলতি মাসেই এমপিওভুক্তি নিয়ে একটি বৈঠক হবে, বিষয়টি নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, এমপিওভুক্তি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে কোনো সংস্কারের পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে কিছু বিষয়ে সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছি। দেখি তারা কি করে।

মুহিত বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে। শিক্ষানীতির সবটুকু আমার হাতে ড্রাফট করা, সেখানে তারা কিছু ইমপ্রুভ করে ওটা চূড়ান্ত করেছে। সেই পলিসি আমরা ফলো করছি।

এতদিন এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমপিওভুক্তিটা আটকে রেখেছি। সেটার কারণটা হলো এমপিওভুক্তি ইজ অনলি বেনিফিশিয়াল টু টিচার্স। সেজন্য এমপিও দেব কিন্তু সেখানে আমি কিছু কনডিশনস দেব, যাতে পুরো সিস্টেমটা ম্যানেজ করা যায়।

একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক কক্ষে পাঁচজন শিক্ষককে ক্লাস নিতে দেখার কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘রাবিশ! একটি ঘরের মধ্যে পাঁচটি ক্লাসকে শিক্ষা দিচ্ছে, কোনোটাই মাথায় ঢোকে না।’

তিনি বলেন, গাছের নিচে হলেও শ্রেণিগুলো যেন আলাদা হয়, বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীরা যেন আলাদা বসতে পারে- এটা শিক্ষা ব্যবস্থার খুবই গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।

শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির দাবি যৌক্তিক হলেও সরকারের সক্ষমতার অভাবে সব সময় তা দেয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের একটি নীতিমালা রয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ওই নীতিমালা অনুযায়ী ধাপে ধাপে স্কুলের জাতীয়করণ হচ্ছে।

মাদরাসা শিক্ষকদের অনশন কর্মসূচি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা যে জাতীয়করণের জন্য অনশন করছেন এই মুহূর্তে তাদের জন্য সরকারের কিছু করার নেই।

সবশেষ, ২০১০ সালে এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করে সরকার। এরপর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি বন্ধ আছে। নতুন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীরা সম্প্রতি আন্দোলনে নামেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের পর নতুন করে এমপিও দিতে উদ্যোগী হয় সরকার।

 

ads

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫