হাসানুল হক ইনু (ফাইল ফটো)
হাসানুল হক ইনু (ফাইল ফটো)

সংলাপের প্রস্তাব সংকট সৃষ্টির অপপ্রয়াস : ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা বা সংকট নেই। নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের সীমা সংবিধানে সুস্পষ্ট। বিএনপির সংলাপের প্রস্তাব কালক্ষেপণ, অনিশ্চয়তা ও সংকট সৃষ্টির অপপ্রয়াস।

প্রধানমন্ত্রীর গত ১২ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণের পর বিএনপি’র প্রতিক্রিয়ার জবাবে তথ্যমন্ত্রী আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে একথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, দেশে রাজনৈতিক, সাংবিধানিক বা নির্বাচন নিয়ে কোনো সংকট নেই। গণতন্ত্র সঙ্কোচনে সাংবিধানিক বা আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে বিএনপি-জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় জঙ্গিসন্ত্রাস মাথা চাড়া দিতে চায়, আগুনসন্ত্রাসের দায় তারা অস্বীকার করার চেষ্টা করে। ৯৩ দিনের আগুনসন্ত্রাসে তাদের নেতাকর্মীরা হাতেনাতে গ্রেফতারের স্বাক্ষী দেশবাসী। জঙ্গিবাদী-সন্ত্রাসবাদীদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বিএনপি যুদ্ধাপরাধ, একুশে আগস্টসহ বড় বড় হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করার যে অপতৎপরতায় লিপ্ত তা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য হুমকি। এই হুমকি মোকাবিলার জন্যই জাতীয় ঐকমত্য প্রয়োজন।

ইনু জানান, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংবিধানে কোনো অস্পষ্টতা নেই। নির্বাচনকালীন সরকার, কমিশন এবং তাদের এখতিয়ার সবকিছু স্পষ্ট (তথ্যমন্ত্রী এসময় সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্বাচনকালীন সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাঠ করে শোনান)। খালেদা জিয়া বা বিএনপি গত নয় বছরে নির্বাচন নিয়ে নতুন কোনো সাংবিধানিক প্রস্তাব দেননি। কেবলমাত্র আগামী একটি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব আসলে কালক্ষেপণের অপকৌশল। নির্বাচন বিষয়ে সবকিছু স্পষ্ট থাকার পরও সহায়ক সরকারের প্রস্তাব আসলে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র এবং নির্বাচনে না আসার উছিলা তৈরির অপপ্রয়াস। বিএনপি এখনো নির্বাচন বানচাল করে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করার পুরনো ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে আছে। নির্বাচন নিয়ে সংকটের উছিলা তৈরি, সংলাপ ও সহায়ক সরকারেরর প্রস্তাবের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আড়াল ও হালাল করার অপচেষ্টাই করে চলেছে তারা।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কালো চশমা খুলে বাংলাদেশের দিকে তাকালে, গণমাধ্যমে চোখ রাখলে উন্নয়ন দেখতে পাবেন।

খালেদা জিয়া ও বিএনপি ক্ষমতার কথা ভাবে, উন্নয়নের কথা নয়। আর সেজন্যই বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া তাদের নজর এড়িয়ে যায়। তারা জানেন না যে, দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২০০৫ সালের ৫৪৩ ডলার থেকে তিনগুন বেড়ে আজ এক হাজার ৬১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি আমলের ৪১ দশমিক পাঁচ শতাংশ দারিদ্র্যের হার শেখ হাসিনা কমিয়ে ২২ শতাংশে নিয়ে এসেছেন। ২০০৬ সালে যেখানে বৈদেশিক বিনিয়োগ ছিল ৭৪৪ মিলিয়ন ডলার, এখন বিদেশিরা বিনিয়োগ করছে প্রায় তিন বিলিয়ন ডলার। বিস্তারিত খতিয়ান প্রধানমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন।

তিনি বলেন, মেগাপ্রকল্পের কোনো দুর্নীতি আজ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক আবিষ্কার করতে পারেনি। বরং বিদেশে টাকা পাচার, সেকেন্ডহোম গড়ে তোলা বিএনপিই শুরু করেছিল, সরকার বন্ধ করেছে। বিএনপি ব্যাংক লোপাট রেহাই দিয়েছে, শেখ হাসিনার সরকার রেহাই দিচ্ছে না, দুদকের বারান্দা হাজিরা দিতে হচ্ছে দায়ি ব্যক্তিদের। দ্রব্যমূল্য-মূল্য স্ফীতির সাময়িক উঠা-নামা আয়ত্বের মধ্যেই রয়েছে, কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতির সামষ্টিক সূচক ভালো।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি তাদের যে ৭৫০ কর্মী গুমের কথা বলেছে তার তালিকা দেয়া হলে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম ঢাকায় তাদের সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর এমন কথাই বলেছিল। কিন্তু তালিকা চাওয়ার পর কারো নাম পাওয়া যায়নি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.