ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

মোবাইল

স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে শিশুশ্রমের অভিযোগ

আহমেদ ইফতেখার

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৬:৫২


প্রিন্ট
স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে শিশুশ্রমের অভিযোগ

স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে শিশুশ্রমের অভিযোগ

শিশুশ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের অভিযোগ এনে ফ্রান্সে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দু’টি মানবাধিকার সংস্থা। পিপলস সলিডেয়ার্স ও শেরপা নামে দু’টি মানবাধিকার সংস্থা স্যামসাংয়ের ফরাসি সাবসিডিয়ারি এবং এর আন্তর্জাতিক প্যারেন্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলাটি করেছে। তারা জানিয়েছে, স্যামসাংয়ের চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার উৎপাদন কারখানায় শিশুশ্রমের পাশাপাশি অপেশাদার সংস্কৃতি অনুসরণ করা হয়। বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে প্রভাব বিস্তার করে আছে স্যামসাং।

বিশ্বব্যাপী এর কর্মিসংখ্যা চার লাখ ৮৯ হাজার। চায়না লেবার ওয়াচ গ্রুপের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে ফরাসি মানবাধিকার সংগঠনটির কর্মীরা জানান, চীনা বেশ কিছু কোম্পানি চুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনের কাজ করছে। এমন একটি স্যামসাং পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কারখানায় শিশুশ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই উৎপাদন কারখানার শ্রমিকেরা গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যায় ভুগছেন।

ঝুঁঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। স্যামসাংয়ের নামও রয়েছে এ তালিকায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিজেদের কারখানার কর্মপরিবেশ নিয়ে সচেতন নয় প্রতিষ্ঠানটি। বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করা হয়, যা বাণিজ্যিক প্রতারণার শামিল। মানবাধিকার সংগঠন দু’টি জানায়, শিশুশ্রম বন্ধে স্যামসাংয়ের নৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং উৎপাদন কারখানার বাস্তব চিত্রে বিস্তর ফারাক রয়েছে। এ অগ্রহণযোগ্য ব্যবধানের জন্য মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২০১৪ সালে পিপলস সলিডেয়ার্স এবং শেরপা প্রথম স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে শিশুশ্রমের অভিযোগ এনেছিল। সে সময় অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয় সংস্থা দু’টি।

চায়না লেবার ওয়াচ স্যামসাং পণ্য উৎপাদনকারী কারখানার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গোপনে কিছু কর্মী নিয়োগ করেছিল। যারা অত্যন্ত জটিল কিছু তথ্য উদঘাটন ও প্রতিবেদন দিতে সমর্থ হয়। ২০১২ সালের পর এসব তথ্যের ভিত্তিতে স্যামসাংয়ের পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানায় শিশুশ্রম ও করপোরেট সংস্কৃতির বরখেলাপ নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০১৬ সালের আগস্টে সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাণঘাতী প্রযুক্তিই স্যামসাংয়ের ট্রেড সিক্রেট। এর কারখানায় ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতির কারণে ক্যান্সারের মতো মারণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন কর্মীরা। বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতায় ভুগছেন এমন কর্মীদের পরিবারের দাবি, কোম্পানিটির কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিকই অসুস্থতার বড় কারণ।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫