ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ। ইনসেটে সজিব
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ। ইনসেটে সজিব

পুলিশের ধাওয়ায় বিলে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ যুবকের লাশ উদ্ধার : মহাসড়ক অবরোধ, থানা ঘেরাওয়ের চেষ্টা

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

শুক্রবার বিকেলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শুকনি বিলে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ সজিবকে দুইদিন খোঁজার পর আজ রোববার দুপুরে কচুরিপানার নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। প্রশাসনের কোনো উদ্ধার তৎপরতা না থাকায় উত্তেজিত জনতা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ও থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপে ফিরে যান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

জানা গেছে, জেলার ভালুকা জমিরদিয়া মাষ্টার বাড়ি এনআরজি কম্পোজিট ইয়ার্ন ডাইংয়ে কর্মরত সজিব ছুটিতে বাড়ি আসে। শুক্রবার বিকেলে বাড়িরপাশে শুকনি বিলের পাড়ে বসে ক’জন বন্ধু মিলে তাস খেলছিল। খবর পেয়ে সন্ধ্যার ঘন্টাখানেক আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে ধাওয়া করে ত্রিশাল থানা পুলিশ। ধাওয়া খেয়ে শুকনি বিলে ঝাঁপ দেয় সজিব। এরপর আর পাড়ে উঠে আসতে পারেনি সজিব। আধঘন্টা অপেক্ষার পর থানায় ফিরে আসে পুলিশ।

গত দু‘দিন স্থানীয় এলাকাবাসী কচুরিপানা সরিয়ে সরিয়ে ওই বিলে সজিবের খোঁজ করতে থাকলে রোববার দুপুর দেড়টার দিকে তার লাশ উদ্ধার হয়।

সজিব পৌরশহরের চরপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।

ওই ঘটনায় ডুবুরিদল না ডাকা কিংবা প্রশাসনের কোনো উদ্ধার তৎপরতা না থাকায় উত্তেজিত জনতা সজিবের লাশ কাঁধে নিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ ও থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে লাশ থানায় নিয়ে যায়। এ সময় আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে ফেলে। পরে পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপে ফিরে যান বিক্ষোভকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী নাজমুল জানান, পুলিশের ধাওয়া খেয়ে শুকনি বিলে ঝাঁপ দেয় সজিব। দুইজন বিল থেকে উঠে এলেও পাড়ে উঠে আসেনি সজিব।

সজিবের চাচা মাসুদুল করিম পল্টন বলেন, ‘পুলিশের ধাওয়ায় ভাতিজা বিলে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হলো কিন্তু গত দু‘দিনেও কর্তব্যে অবহেলা করে প্রশাসনের কোনো উদ্ধার তৎপরতা ছিল না।’

ত্রিশাল থানা পুলিশের কর্মকর্তা এএসপি আল আমিন জানান, পুলিশের ধাওয়ায় সজিব নিখোঁজের অভিযোগে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছি। পরে শুকনি বিল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। এখন তার লাশের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.