ঢাকা, বৃহস্পতিবার,২৬ এপ্রিল ২০১৮

বিবিধ

সুযোগ-সুবিধা না থাকায় বিদেশি পর্যটকরা বাংলাদেশে আসতে চায় না : সংস্কৃতি মন্ত্রী

সোনারগাঁওয়ে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবের উদ্বোধন

হাসান মাহমদ রিপন, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) 

১৪ জানুয়ারি ২০১৮,রবিবার, ১৬:৪১


প্রিন্ট

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেছেন, আমাদের দেশে পর্যটকদের সুযোগ সুবিধা না থাকায় বিদেশী পর্যটকরা বাংলাদেশের পর্যটন এলাকায় আসতে চায় না। কক্সবাজার নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি। এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম বীচ। কিন্তু এখানে বিদেশিরা কেন আসে না? এজন্য আসে না, এখানে বিদেশি পর্যটকদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকার দরকার সেসব সুযোগ-সুবিধা আমাদের এখানে নেই। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশের আইনগত বাধাও আছে। আমরা যেমন নাইট ক্লাব করতে দিবো না, বার ও পানশালা সুযোগ দিবো না। এসব সুযোগ সুবিধা না দিলে তো বিদেশী পর্যটকরা আসবে না।

আজ রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মাসব্যাপী লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও জানান, সোনারগাঁওয়ে পানামে বিদেশিরা কেন আসেন? আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতা দেখতে আসেন। তারা বগুড়া, মহাস্থনগড়, পাহাড়পুর, দিনাজপুরের কান্তজীর মন্দির, ঢাকার লালবাগ, বাগেরহাটের ষাটগুম্বজ মসজিদ দেখতে যান। কিন্তু তারা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত দেখতে যান না। এটাই আমাদের অনুধাবন করা প্রয়োজন। যে ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ আমাদের প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদ। যে প্রাচীন সম্পদ সেগুলোকে রক্ষা, আরো আকর্ষণীয়ভাবে গড়ে তোলা আমাদের বড় প্রয়োজন। যদি আমাদের বাংলাদেশে বিদেশী পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে চাই, শুধু আকৃষ্ট করা নয়, আজকে কিন্তু দেখুন পাহাড়পুর, শীতল পাটি, জামদানী, বাউল গান, মঙ্গল শোভাযাত্রা, ইউনেস্কো তালিকাভুক্ত হয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ এটি নিয়ে গবেষণা করছেন। এটা একদিকে আমাদের গর্বের বিষয় অন্যদিকে আমাদের লজ্জার ব্যাপারও। তার কারণ আমরা আমাদের দেশের সম্পদকে মূল্যায়ন করতে পারেনি। আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্যকে আমরা সম্মান করি না। অথচ বিদেশীরা তাদের দেশে আমাদের ঐতিহ্যকে তুলে ধরছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান, সোনারগাঁও উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: শাহিনুর ইসলাম, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সামসুল ইসলাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার ওসমান গনি প্রমুখ।

এসময় জেলা ও উপজেলা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা দেশের জন্য কাজ করছি এবং কাজ করতে চাই। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজকে এগিয়ে চলছে। তারই নেতৃত্বে আমরা আমাদের দেশকে উন্নত দেশ হিসাবে এগিয়ে নিতে চাই। দেশের মানুষ আর ধ্বংসাত্মক রাজনীতি চায় না। হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ হত্যার রাজনীতি দেখতে চায় না। গাড়িতে পেট্রোল মেরে মানুষ হত্যার রাজনীতি বিশ্বাস করে না। মানুষ শান্তিতে চলতে চায়, শান্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে শান্তিতে বাঁচতে চায়। এখন দেশে হরতাল-অবরোধ নাই। মানুষ শান্তিতে বসবাসসহ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছে। আমরা আগের দিনে ফিরে যেতে চাই না।

তিনি আরও বলেন, ২০০৪ সালে দেশের মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিলেন। আজকে কিন্তু মানুষ আর না খেয়ে মারা যাচ্ছে না। আমার উত্তরবঙ্গের মঙ্গা আক্রান্ত মানুষজন না খেয়ে থাকতো। আজকে সেই মঙ্গার মানুষের হাতে হাতে মোবাইল। যারা একসময় না খেয়ে থাকতো তারা আজকে মোবাইল ব্যবহার করে ৫০০/১০০ টাকা মোবাইল খরচ করছে। তাহলে বুঝতে হবে আমাদের দেশ কতটাই উন্নত হয়েছে। দেশে ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১৩ কোটি সিম চালু রয়েছে।

আলোচনা শেষে সোনারতরী মঞ্চে কুদ্দুস বয়াতীসহ বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করে মন্ত্রীসহ অতিথিরা। পরে মেলার আকর্ষন গ্রামীন লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম মাধ্যম ‘কাঠের কারুশিল্পের প্রাচীন ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন’ শিরোনামে প্রদর্শনী উদ্ধোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্পের প্রথিতযশা শিল্পীর আলোচিত আলোকচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

এবারের মেলায় বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চল থেকে ৬০ জন কারুশিল্পী মেলায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের জন্য ৩০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট ও মুন্সিগঞ্জ অঞ্চলের শীতলপাটি, নওগাঁ ও মা-রার শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি ও মুখোশ, ঢাকার শাঁখাশিল্প ও মৃতশিল্প, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, ঠাকুরগাঁয়ের বাঁশের কারুশিল্প, সোনারগাঁওয়ের এক কাঠের চিত্রিত হাতি ঘোড়া পুতুল ও কাঠের কারুশিল্প, নক্শিকাঁথা, বেতের কারুশিল্প, কুমিল্লার তামা-কাঁসা পিতলের কারুশিল্প, রাঙামাটি, বান্দারবান ও সিলেটের ক্ষুদ্র-নৃ-গোষ্ঠীর কারু পণ্য, কিশোরগঞ্জের টেরা কোটাশিল্পসহ ইত্যাদি কারুশিল্প এ মেলায় স্থান পাচ্ছে।

মেলায় কর্মরত কারু শিল্পীর কারু পণ্য উৎপাদন প্রদর্শনীর ৩০টি স্টলসহ সর্বমোট ১৮০টি স্টল রয়েছে। এছাড়াও লোক কারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসবে লোকজ নাটক, লোক কাহিনীর যাত্রাপালা, বাউলগান, পালাগান, কবিগান, ভাওয়াইয়া ও ভাটিয়ালী গান, জারি-সারি ও হাছন রাজার গান,লালন সংগীত, মাইজভান্ডারী গান, মুর্শিদী গান, আলকাপ গান, গাঁয়ে হলুদের গান, বান্দরবান, বিরিশিরি, কমলগঞ্জের-মণিপুরী ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শরিয়তী-মারফতি গান, ছড়া পাঠের আসর, পুঁথি পাঠ, গ্রামীণ খেলা, লাঠি খেলা, দোক খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, লোকজ জীবন প্রদর্শনী, লোকজ গল্প বলা, পিঠা প্রদর্শনী হবে।

 

 

Logo

সম্পাদক : আলমগীর মহিউদ্দিন

প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ

১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | নয়া দিগন্ত ২০১৫