গুঁড়োদুধে বিষাক্ত উপাদান
গুঁড়োদুধে বিষাক্ত উপাদান

গুঁড়োদুধে বিষাক্ত উপাদান, ক্ষতিগ্রস্ত ৮৩টি দেশ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ফ্রান্সের গুঁড়োদুধ কোম্পানী ল্যাকটালিসের গুঁড়োদুধে সালমোনেলার (এক ধরণের ব্যাকটেরিয়া) কারণে ৮৩টি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে কোম্পানীটি শিশুদের এক কোটি ২০ লাখ বাক্স গুঁড়োদুধ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। রোববার কোম্পানির সিইও ফরাসি গণমাধ্যমে এক সাক্ষাতকারে একথা জানিয়েছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই এর দায়িত্ব নেব। এক কোটি ২০ লাখেরও বেশি গুঁড়াদুধের বক্স বিষাক্ত হয়ে গেছে।

শিশুদের জন্য গুঁড়োদুধ উৎপাদনকারী এ কোম্পানীটির বিরুদ্ধে কয়েক শ' মামলা দায়ের করেছে অভিভাবকরা। তারা জানিয়েছেন, 'এই গুঁড়োদুধ খাওয়ার পর সালমোনেলার বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।'

কোম্পানিটির বিরুদ্ধে শুধু মাত্র ফ্রান্সেই ৩৫টি মামলা করা হয়েছে। এর তদন্ত করা হচ্ছে।

 

ইরান পরমাণু চুক্তি বহাল রাখার পক্ষে ফ্রান্স-জার্মানি-ব্রিটেন

ইরানের সাথে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে সরে না আসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ওই চুক্তিতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইরান, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর জনসন বেশ জোর দিয়ে বলেন, চুক্তিটি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন থেকে বিরত রেখেছে।

তিনি বলছেন, আমি মনে করি না কেউ এর চেয়ে ভালো কোনো উপায় নিয়ে আসতে পারবে। যারা এর বিরোধিতা করছে, তারা আরো ভালো সমাধান নিয়ে আসুক, কারণ আমরা এরকম কিছু কখনো দেখতে পাইনি। ওই চুক্তি থেকে সরে আসতে বা সংশোধন করতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ ওই চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একতরফাভাবে বাজে বলে তিনি মনে করেন। তিনি ইরানের ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপেরও হুমকি দিয়েছেন।

তবে ইইউ পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ফ্রেডেরিকা মোঘেরিনি বলছেন, এই চুক্তিটি কাজ করছে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভালোভাবে নজরদারি করতে পারছে। এরকম একটি চুক্তি রক্ষা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এক থাকা দরকার, যা বিশ্বকে নিরাপদ করতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবারই জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি চুক্তিটি থেকে সরে যায় তাহলে তারাও এর উপযুক্ত আর ওজনদার জবাব দিতে প্রস্তুত আছে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিধর ছয় দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ওই পরমাণু চুক্তির আওতায় ইরান তাদের পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বিভিন্ন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ধীরে ধীরে শিথিল করা হবে- এ শর্তেই ইরান তাদের পরমাণবিক কর্মসূচি অন্তত ১০ বছরের জন্য কমাতে রাজি হয়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটিকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন এবং ইরান এটি নানাভাবে লঙ্ঘন করছে বলেও অভিযোগ করে আসছেন। গত বছর অক্টোবরে ইরান ‘পারমাণবিক চুক্তি মেনে চলছে’ এ সংক্রান্ত সার্টিফিকেট কংগ্রেসকে দিতে অস্বীকৃতি জানান ট্রাম্প। সেইসঙ্গে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর নীতি ঘোষণা করেন। যা ওয়াশিংটনকে বাকি পাঁচ দেশের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তাদের যুক্তি- জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাব অনুযায়ী একটি বহুপক্ষীয় চুক্তি ওয়াশিংটন একতরফাভাবে বাতিল করতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলে ইরানও পরমাণু চুক্তি প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে।

ব্রাসেলসে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, ‘ইরান ওই চুক্তি পুরোদস্তুর মেনে চলছে।’ ট্রাম্পের বিরোধিতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হওয়া রুখতে এর চেয়ে ভালো কোনো বিকল্প কেউ দিতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.